মেক মাই ট্রিপকে দিতে হবে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ! এয়ার ইন্ডিয়াকে নির্দেশ বেঙ্গালুরুর আদালতের
বেঙ্গালুরুর প্রবীণ দম্পতি যেন যুদ্ধ জয় করলেন। তা করবেনই না কেন? আফ্রিকান সাফারি দেখতে যেতে তাঁরা মেক মাই ট্রিপের মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিয়ার টিকিট বুক করেছিলেন। কিন্তু বিমান দেরির কারণে তাঁদের এই ভ্রমণ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তারা কনজিউমার্স ফোরামে মামলা করেন। সেখানে ওই দম্পতিকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয় আদালত।
বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বছর ৭৬-এর এস রামভদ্রন এবং তাঁর স্ত্রী বছর ৭৫-এর ভাতশালা আফ্রিকা ভ্রমণের জন্য টিকিট কাটেন। দিনটি ছিল ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯। কিন্তু তাঁদের কিলিমাঞ্জারো ভ্রমণ যে দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা তাঁরা কল্পনা করতে পারেননি।

তাঁরা মেক মাই ট্রিপ পোর্টালের মাধ্যমে বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লির জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার টিকিট কাটেন। সেখান থেকে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে কিলিমাঞ্জারো যাওয়ার টিকিট বুক করেন। এস রামভদ্রন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছন, ট্রিপটি ছিল ১০ দিনের। ঠিক ছিল তাঁর এক মেয়ে এবং দুই নাতনি আমেরিকা থেকে সেখানে যোগ দেবেন।
নির্দিষ্ট দিনের কথা স্মরণ করতে গিয়ে এস রামভদ্রন বলেছেন, বেঙ্গালুরু থেকে তাঁদের ফ্লাইট ছাড়ে ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট দেরিতে। যখন তাঁরা দিল্লিতে পৌঁছন সেই সময় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার কর্মীরা বলেন বোর্ডিংয়ের গেট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এরপর প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় প্রায় ৪ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে।
এস রামভদ্রন জানিয়েছেন, তাঁরা আফ্রিকার গরম আবহাওয়ার জন্য জামা কাপড় নিয়েছিলেন। সেই কারণে তাঁরা দিল্লির ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কষ্ট পেয়েছেন। তিনি নিজে ডায়াবেটিসের রোগী। এব্যাপারে তাঁরা এয়ার ইন্ডিয়ার থেকে খাবার কিংবা অন্য কোনও সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেছেন, বিষয়টি আরও খারাপ হয়েছে, যখন তারা বিমান বন্দরের ভিতরের বিশ্রামাগার ব্যবহার করতে পারেননি। তারা ঘুরে গিয়ে বাইরের বিশ্রামাগার ব্যবহার করেন। রামভদ্রন জানিয়েছেন, তিনি এয়ার ইন্ডিয়া.র কর্মীদের অনুরোধ করেন পরের দিনের কিলিমাঞ্জারোর টিকিট বুক করে দিতে। কিন্তু সেখান থেকে বলা হয়, কোনও টিকিট নেই।
কিন্তু যে বিমানের টিকিট নেই বলে জানিয়েছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীরা, তাঁর মেয়ে সেই বিমানেরই টিকিট ৪.৭৫ লক্ষ দিয়ে বুক করেন ফিরে আসার পরে এমএমটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনও প্রতিক্রিয়া পাননি তাঁরা। তিনি আরও জানিয়েছেন একবছর অপেক্ষার পরে তাঁরা আইনি নোটিশ পাঠান। ২০২২ সালের মে মাসের দায়ের করা মামলায় রায় বের হয় এই বছরের ১৭ এপ্রিল।

কনজিউমার্স ফোরাম রায়ে বলে মানসিক যন্ত্রণার জন্য এক লক্ষ টাকা , টিকিটের জন্য ৩৮ হাজার টাকা এবং আইনজীবীর ফি হিসেবে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। সব মিলিয়ে আদালত ১.৪৮ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এস রামভদ্রন।












Click it and Unblock the Notifications