মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ! পদ্ধতি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারদের বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা এবং দেশের প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি সেই নাম সুপারিশ করবে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরে তাঁকে নিয়োগ করা হবে। ঠিক যেভাবে দেশে সিবিআই-এর প্রধান ঠিক করা হয়, সেই ভাবেই সিইসি নির্বাচন করতে হবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

 স্বাধীন নিয়োগ প্রক্রিয়া

স্বাধীন নিয়োগ প্রক্রিয়া

শুনানিতে ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি কেএম জোসেফ বলেছেন, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য একটি স্বাধীন প্রক্রিয়া থাকবে। যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেত এবং দেশের প্রধান বিচারপতির কমিটি সেইসব ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিদের বেছে নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম সুপারিশ করবেন। এখানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলতে, যে দলের শক্তি সব থেকে বেশি সেই দলের নেতাকে বোঝানো হয়েছে।

পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি

পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি

পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে বিচারপতি কেএম জোসেফ ছাড়াও ছিলেন বিচারপতি অজয় রাস্তোগি, বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস, বিচারপতি হৃষিকেশ রায় এবং বিচারপতি সিটি রবিকুমার। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগে যেমন কলেজিয়াম রয়েছে, ঠিক তেমনই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য কলেজিয়ামের মতো ব্যবস্থা করার আবেদন করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের সামনে। সেই প্রেক্ষিতেই এদিনের সিদ্ধান্ত। হত বছরের ২৪ নভেম্বর এব্যাপারে সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ করেছিলেন পাঁচ বিচারপতি। ২০১৮-র ২৩ অক্টোবর বিষয়টি ৫ বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হয়েছিল।

এখন মন্ত্রিসভার সুপারিশে নিয়োগ হয়

এখন মন্ত্রিসভার সুপারিশে নিয়োগ হয়

প্রসঙ্গত সংবিধানের ৩২৪(২) ধারায় বলা হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সংসদে বিষয়টি নিয়ে আইন তৈরি হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত মুখ্যনির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারদের মন্ত্রিসভার সুপারিশে নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি।
১৯৯১ সালের নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের মেয়াগ হয় ৬ বছরের বা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত। স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচন কমিশনের একজনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধীর সরকার সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে নির্বাচন কমিশনারের জুটি পদ তৈরি করে। ১৯৯০ সালে তৎকালীন ভিপি সিং সরকার ফের নির্বাচন কমিশনকে একক সদস্য সংস্থায় পরিণত করেন। আবার ১৯৯৩ সালে তৎকালীন নরসীমা রাও সরকার আবার দুজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন করে। এই মুহুর্তে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন রাজীব কুমার। আর দুই নির্বাচন কমিশনার অনুপ পাণ্ডে এবং অরুণ গোয়েল। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের কার্যকালের মেয়াদ ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ভিন্নমত এক বিচারপতির

ভিন্নমত এক বিচারপতির

বেঞ্চের বাকিদের সঙ্গে খানিক দ্বিমত পোষণ করে বিচারপতি রাস্তোগি বলেছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে সেরব সুরক্ষা রয়েছে, তা অন্য কমিশনারদের ক্ষেত্রেও থাকা উচিত। তিনি বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের নিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনতা বজায় রাখার গুরুত্ব বিবেচনা করতেই বিষয়টি অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ এবং তাঁদের কাজে হস্তক্ষেপ থাকা থেকে বিরত থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণে সংসদে কোনও আইন পাশ না হওয়া পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতো অন্য নির্বাচন কমিশনারদের জন্য রক্ষাকবচ রাখার পরামর্শ তিনি দিয়েছেন।

ছবি সৌ:পিটিআই

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+