অন্ধকারে ডুববে দেশ! আঁচ পেয়েই 'প্রথমবারে'র জন্য কয়লা আমদানি করছে মোদী সরকার
অন্ধকারে ডুববে দেশ! আঁচ পেয়েই ২০১৫ সালের পর প্রথমবার কয়লা আমদানি করছে দেশ
দেশজুড়ে একদিকে যেমন বাড়ছে গরম, তেমনই পাল্লা দিয়ে বিদ্যুৎে'র চাহিদাও বাড়ছে। এই অবস্থায় কয়লা সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে। জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করা হলেও তা সামাল দেওয়া যায়নি। ফলে যে কোনও মুহূর্তে লোডশেডিংয়ে ডুবতে পারে দেশ। আর এই ভয়ঙ্কর কয়লা সঙ্কট সামাল দিতে কয়লা আমদানি করছে মোদী সরকার। ২০১৫ সাল অর্থাৎ, মোদী সরকার আসার পরে প্রথমবার কয়লা আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানি সারাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে বলে রয়টার্সের প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছে, শনিবার বিদ্যুৎমন্ত্রক এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সামনে এসেছে।

সাম্প্রতিক দিনে কয়লা সংকট নতুন করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা আরও গভীর করেছে। আর এই অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্যে বিদ্যুৎমন্ত্রক একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্যে একটি হল কয়না আমদানি করা। আর তা হলে ২০১৫ সালের পর এটি প্রথমবার হচ্ছে। যেখানে কোল ইন্ডিয়া কয়লা অর্থাৎ জ্বালানি আমদানি করছে। এপ্রিলের ঘটনা'র যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে তাকিয়ে কয়লা'র স্টক নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। রাজ্য তো বটেই, কেন্দ্রের অধীনেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বলা হয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, এপ্রিলে সারা দেশেরফ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তাদের সবচেয়ে খারাপ কয়লা সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। যার ফলে একাধিক রাজ্যে ভয়ঙ্কর ভাবে লোডশেডিং হয়।
বিদ্যুৎমন্ত্রক গত ২৮ মে'তে লেখা চিঠিতে জানাচ্ছে, কোল ইন্ডিয়া গর্ভমেন্ট-টু-গর্ভমেন্ট (G2G) বেসিসে কয়লা আমদানি করবে। আর তা দেশের সমস্ত সরকারি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) সরবরাহ করা হবে। এমনটাই জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে। শুধু তাই নয়, ওই চিঠি কোল ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের একাধিক আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রক চিঠিতে বলেছে যে প্রায় সমস্ত রাজ্য পরামর্শ দিয়েছে যে রাজ্যগুলি দ্বারা কয়লা আমদানির সাথে জড়িত পৃথক দরপত্র বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যাবে। আর সেদিকে তাকিয়ে কোল ইন্ডিয়ার কাছ থেকেই কয়লা কেনার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আশঙ্কা করা হয়েছে যে ভারত চলতি আর্থিক বছরের (2022-23) দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে ব্যাপক কয়লার ঘাটতির সম্মুখীন হতে পারে। রয়টার্সে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বিদ্যুৎমন্ত্রকের একটি কমিটি এমনটাই গোপন রিপোর্ট দিয়েছে। সেই রিপোর্ট বলছে, এর ফলে ব্যাপক লোডশেডিং দেশজুড়ে হতে পারে বলে আশঙ্কা ।
শুধু তাই নয়, সেপ্টেম্বরের শেষের চাহিদা অনুযায়ী কয়লার সরবরাহে ৪২.৫ মিলিয়ন টন ঘাটতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘাটতি আগের সংকটের তুলনায় 15 শতাংশ বেশি হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। আর এই তথ্য সামনে আসার পরেই উদ্বেগ বেড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications