Mamata Banerjee: মমতাকে তীব্র নিশানা বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি
Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে বিতর্ক। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে মমতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এবার তাঁকে নিশানা করলেন বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা।

মমতা বলেন, কেউ কেউ মনে করছেন এটা বাংলাদেশ। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। ওরা আমাদের মতো কথা বলে, ওদের আর আমাদের সংস্কৃতি এক। মনে রাখবেন বাংলাদেশ একটা আলাদা রাষ্ট্র, ভারত একটা আলাদা রাষ্ট্র। মোদীবাবু, আপনার পার্টিকে দিয়ে আগুন লাগাচ্ছেন!
মমতার কথায়, মনে রাখবেন বাংলায় যদি আগুন লাগান, অসমও থেমে থাকবে না। নর্থ-ইস্টও থেমে থাকবে না। উত্তরপ্রদেশও থেমে থাকবে না। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওডিশাও থেমে থাকবে না। আর দিল্লিও থেমে থাকবে না। আপনার চেয়ারটা আমরা টলোমলো করে দেব।
মমতার এই বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লিখেছেন, "দিদি, আপনার এতো সাহস কীভাবে হলো যে আপনি অসমকে ধমকি দিচ্ছেন? আমাদের রক্তচক্ষু দেখাবেন না। আপনার অসফলতার রাজনীতি দিয়ে একদম ভারতকে অগ্নিগর্ভ করে তোলার চেষ্টা করবেন না। বিভাজনকারী ভাষা বলাটা আপনার শোভা পায় না।"
মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, দিদি, উত্তর-পূর্বকে হুমকি দেওয়ার সাহস হয় কী করে? এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। উত্তর-পূর্ব ও দেশের বাকি অংশের কাছে তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। অবিলম্বে হিংসা ও ঘৃণা ছড়ানো বন্ধ করুন। পাবলিক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন হিংসার হুমকি দেওয়া অপ্রীতিকর।
ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ওডিশা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অধিকার আপনাকে কে দিল? ওডিশা শান্তিপ্রিয় রাজ্য। এখানকার মানুষ যথেষ্ট সচেতন। ওডিশার জনগণ আমাদের রাজ্যের প্রতি আপনার ঘৃণ্য, নেতিবাচক ও অসংবেদনশীল মনোভাবকে মেনে নেবেন না। জঘন্য অপরাধের নির্যাতিতাকে ন্যায় না দিয়ে যেভাবে আপনি প্রতিশোধমূলক মন্তব্য করছেন তা দেশের পক্ষে বিপজ্জনক। এই ধরনের মন্তব্য থেকে দূরে থাকুন, শান্ত থাকুন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, কলকাতায় তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে যে বীভৎস ঘটনা ঘটেছে তাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এতে পশ্চিমবঙ্গে নারী সুরক্ষার বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উদাসীনতা ও ক্ষমার অযোগ্য অসংবেদনশীলতা প্রকট হয়েছে।
আদিত্যনাথের কথায়, টিএমসি সরকারের কর্তৃত্ববাগী নারী-বিরোধী আচরণ নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রের লজ্জা। এটা মানবতার অপমান, সভ্য সমাজকে লজ্জিত করে তুলেছে। দেবীপূজার সংস্কৃতির ধারক পুণ্যভূমি আমার সোনার বাংলায় মাতৃশক্তির সুরক্ষায় ব্যর্থ রাজ্য় সরকার। এ জন্য অবিলম্বে তাদের উচিত মাতৃশক্তি ও দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া।
ঝাডখণ্ডে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বাবুলাল মারান্ডি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্য়ে নৈরাজ্য ছড়ানোর হুমকি নিন্দনীয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ভাবনাকে সত্যি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মতো কথা বলছেন। তার বক্তব্য দেশের বড় অংশের জন্য বড হুমকি। সাংবিধানিক পদে থেকে মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের মতো অবস্থা তৈরি, দেশ ভাঙার কথা বলে ঘৃণ্য উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করা উচিত।












Click it and Unblock the Notifications