মুখ্যমন্ত্রী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ নির্বাচন কমিশনকে, আপের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি ECI-এর
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের একদিন আগে, মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) আম আদমি পার্টির (AAP) অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দিল্লি নির্বাচনে কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আপ পরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
এক্স (X)-এ একটি পোস্টে নির্বাচন কমিশন জানায়, "দিল্লি নির্বাচনে ইসিআই-কে বদনাম করার জন্য ৩ সদস্যের কমিশন সম্মিলিতভাবে বারবার ইচ্ছাকৃত চাপের কৌশল লক্ষ্য করেছে, যেন এটি একক সদস্যের সংস্থা"। কমিশন আরও জানায়, তারা সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে এবং উস্কানিমূলক অভিযোগের প্রভাবিত না হয়ে সংযম দেখাচ্ছে।

এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা, দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ১.৫ লক্ষেরও বেশি কর্মকর্তা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর তদন্ত ও সমাধান করেছেন। নির্বাচন পরিচালনার আইনি কাঠামো, কঠোর নিয়ম ও SOP মেনে কাজ করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে এহেন মন্তব্য তারা কখনই ভাল ভাবে নেবেন না।
আপ বনাম নির্বাচন কমিশন: বিতর্কের সূত্রপাত
নির্বাচন কমিশনের এই বিবৃতির পিছনে আপ নেত্রী আতিশীর অভিযোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। আতিশী অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতা রমেশ বিধুরীর পরিবারের সদস্যরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, অথচ নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে আতিশী লেখেন, "নির্বাচন কমিশনও অসাধারণ! রমেশ বিধুরীর পরিবার আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমি অভিযোগ দায়ের করেছি, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনকে ফোন করেছি, অথচ তারা উল্টো আমার বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেছে!"
এর আগে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আপের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশন এবং দিল্লি পুলিশ আপের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং বিজেপির গুন্ডামিকে সুরক্ষা দিচ্ছে"।
কেজরিওয়াল আরও বলেন, "দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী যদি প্রকাশ্যে বিজেপির গুন্ডামির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করছে! নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ আপকে টার্গেট করছে, আর বিজেপিকে মদ, টাকা এবং প্রচারসামগ্রী বিলি করার অনুমতি দিচ্ছে"।
এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই বুধবার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আপ এবং বিজেপির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ভোটের ফলাফলের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন তাই দেখার বিষয়।












Click it and Unblock the Notifications