ডোভাল ও রুবিও বৈঠডোভাল ও রুবিও বৈঠকের দাবি ভুয়ো, ভারত ও আমেরিকা বাণিজ্য আবহে জল্পনা উড়িয়ে দিল বিদেশমন্ত্রক
ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার আবহে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হল। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল নাকি গত সেপ্টেম্বর গোপনে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটন গিয়েছিলেন এমন সংবাদকে কড়া ভাষায় খারিজ করল বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ)। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই রিপোর্টের "কোনও ভিত্তি নেই" ও "এমন কোনও সফর বা বৈঠক আদৌ ঘটেনি।"
বিদেশ মন্ত্রকের এই দৃঢ় অবস্থান কার্যত অনির্ভরযোগ্য বিদেশি মিডিয়া রিপোর্টের বিরুদ্ধে ভারতের স্পষ্ট বার্তা। জয়সওয়াল জানান, দিল্লি ও ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোড়া লাগাতে ডোভালের কোনও গোপন উদ্যোগের প্রশ্নই ওঠে না, কারণ এমন কিছু ঘটেইনি।

এদিকে একই ব্রিফিংয়ে ভারত ও আমেরিকা সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরেন জয়সওয়াল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, 'মেড ইন ইন্ডিয়া' পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানোয় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্তে ভারতের রপ্তানি বাড়বে, কর্মসংস্থানমুখী শিল্পে গতি আসবে ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার হবে বলেই আশা।
ভারত ও আমেরিকা সম্পর্কের এই ইতিবাচক ধারা আরও স্পষ্ট হয়েছে বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে। সেখানে তিনি মার্কো রুবিও ও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনাকে 'উৎপাদনশীল ও ইতিবাচক' বলে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, ঐতিহাসিক ভারত ও আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত খুঁটিনাটি প্রায় সম্পন্ন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, শক্তি ও কৌশলগত ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও একই সুরে বলেন, জয়শঙ্করের এই বৈঠকগুলি দুই দেশের সম্পর্কের 'অসীম সম্ভাবনা'র দিকেই ইঙ্গিত করছে। সব মিলিয়ে, গুজবের ধোঁয়াশা কাটিয়ে বাস্তব চিত্র স্পষ্ট, শুল্কছাড় থেকে খনিজ সহযোগিতা, একের পর এক চুক্তি ও আলোচনা ভারত ও আমেরিকা কূটনীতিকে নিয়ে যাচ্ছে নতুন ও রূপান্তর মূলক অধ্যায়ের দিকে।












Click it and Unblock the Notifications