জ্ঞানবাপী-সহ মসজিদ ও দরগার রূপান্তরের ক্রমবর্ধমান আবেদনে বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট, কঠোর পদক্ষেপ
CJI On Places of Worship (Special Provisions) Act: জ্ঞানবাপী-সহ বিভিন্ন মসজিদ ও দরগায় আগে মন্দির ছিল। হিন্দুত্ববাদীদের দায়ের করা মামলার মধ্যেই ক্রমবর্ধমান পিটিশন দাখিলে বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না সাফ জানিয়ে দিলেন, আপাতত আর কোনও পিটিশন গ্রহণ করা হবে না। এপ্রিলে মামলার পরবর্তী শুনানি।

উপাসনালয় সংক্রান্ত বিশেষ বিধান সম্বলিত যে আইন ১৯৯১ সালে পাস হয়েছিল তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন হিন্দুত্ববাদীরা। এই আইনে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের যে চরিত্র ছিল বদল করা যাবে না। যদিও এই আইন থাকা সত্ত্বেও একমাত্র অযোধ্যা মন্দিরের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালে ঐতিহাসিক রায় দেয়।
বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দাবি, অনেক মসজিদ বা দরগা তৈরি করা হয়েছে যেখানে সে সব জায়গায় আগে মন্দির ছিল। সেগুলি পূর্বাবস্থায় ফেরানোর লক্ষ্যে হিন্দুত্ববাদীরা তৎপর হয়েছেন। মামলাও চলছে, বিষয়টি গড়িয়েছে শীর্ষ আদালতে।
এআইএমআইএমের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছেন, মসজিদ ও দরগাগুলিকে যেভাবে টার্গেট করা হচ্ছে তাতে সেগুলি সুরক্ষিত রাখতে ১৯৯১ সালের ওই আইন কঠোরভাবেই প্রয়োগ করা হোক। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে জোরালো সওয়াল জবাবের পর সুপ্রিম কোর্ট হিন্দুত্ববাদীদের দাখিল করা ১৮টি পিটিশনের প্রেক্ষিতে প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথা জানায়।
ওই আবেদনগুলিতে বারাণসীর জ্ঞানবাপী, মথুরার শাহী ইদগাহ-সহ ১০টি মসজিদে সমীক্ষা চালানোর আর্জি জানানো হয়। এরপরও বহু পিটিশন দাখিল হওয়ায় আজ বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। তিনি বলেন, পিটিশন দাখিলের সীমা থাকা উচিত। অনেক হয়েছে। এবার এই ধারা শেষ করতে হবে।
শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীদের আইনজীবী বিকাশ সিং বলেন, কেন্দ্র এখনও এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি। জ্ঞানবাপী মসজিদ পরিচালন কর্তৃপক্ষ পিটিশনের বিরোধিতা করে জানায়, এমনটা চলতে থাকলে অন্যান্য সুরক্ষিত মসজিদকে কেন্দ্র করেও মামলা-মকদ্দমার সংখ্যা বেড়েই চলবে।
এদিনের শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী শুনানির দিন এপ্রিলে ধার্য করেছে। ফলে কেন্দ্র এই প্রসঙ্গে কী জানায় সেদিকেই এখন সকলের নজর। এই ধর্মীয় স্থানগুলির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায় তা অনেকটাই নির্ভর করবে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করা ও আইনি লড়াইয়ের উপর। সুপ্রিম কোর্ট নতুন পিটিশন গ্রহণ না করলেও নতুন কোনও আইনি দিক উঠে এলে ইন্টারভেনশন অ্যাপ্লিকেশন করা যাবে বলেও জানিয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তিন বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে।












Click it and Unblock the Notifications