বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালঞ্জ, তালিকাভুক্ত করার বিবেচনা
বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালঞ্জ, তালিকাভুক্ত করার বিবেচনা
বিলকিস বানো মামলায় ১১ দোষীর মুক্তির বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি তালিকাভুক্ত করার কথা বিবেচনা করবেন। ১১ জনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও সাত জনকে খুন করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিন জন সাক্ষী অভিযোগ করেছেন, ১১ জনের মধ্যে অন্তত চার জন প্যরোলে বেরিয়ে তাঁদের হুমকি দিয়েছেন। এর আগে গুজরাত সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মানবাধিকার কর্মী, ইতিহাসবিদ, সরকারি আমলা সহ ছয় হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা দোষীদের মুক্তি প্রত্যাহারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন।

দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত গুজরাত সরকারের
২০০২ সালে গোধরা পরবর্তী বিলকিস বানো মামলায় ১১ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। আসামিদের চলতি বছর স্বাধীনতা দিবসের দিন মুক্তি দেওয়া হয়। ২১ জানুয়ারি ২০০৮ সালে মুম্বইয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত বিলকিল বানোর পরিবারের সাতজনকে গণধর্ষণ ও হত্যার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পরে বোম্বে হাইকোর্ট তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। আসামি ১১ জন ১৫ বছরের বেশি জেলে ছিল। দোষীদের একজন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন জামিনের। গোধরা জেলার কালেক্টর সুজয় মায়াত্র জানিয়েছেন, আসামিদের সাজা মুকুবের জন্য গুজরাত সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। কয়েক মাস আগে কমিটি ক্ষমার সুপারিশ গুজরাত সরকারকে পাঠায়। এরপরেই আসামিদের মুক্তির আদেশ গুজরাত সরকার দেয় বলে জানা গিয়েছে।
বিচারের জন্য লড়াই বিলকিস বানোর
ঘটনার সময় বিলকিস বানো মাত্র ২০ বছরের ছিলেন। তিনি সেই সময় কয়েক মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিনি নৃশংস গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। পরিচিতরা যাঁদের তিনি ছোটবেলা থেকে চিনতেন তাঁরাই বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ করে। এছাড়া বিলকিস বানোর পরিবারের সাতজনকে গণধর্ষণ করে খুন করে। বিলকিস বানোর তিন বছরের মেয়েও অই নির্মম হত্যালীলা থেকে বাঁচতে পারেনি। বিলকিস বানুর সংজ্ঞাহীন দেহকে মৃত ভেবে আসামিরা চলে যায়। জ্ঞান ফেরার পর স্থানীয় আদিবাসি মহিলার কাছ থেকে কাপড় চেয়ে পরেন। তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে, মহিলা কনস্টেবল কেসটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট গুজরাত থেকে মামলাটি মুম্বইয়ে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। অভিযুক্তদের বাঁচানোর জন্য হেড কমস্টেবলের মিথ্যা রেকর্ড তৈরির জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রমাণের অভাবে ২০ জন অভিযুক্তের মধ্যে সাত জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিচার চলাকালীন একজনের মৃত্যু হয়। ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয় আদালত।












Click it and Unblock the Notifications