বন্ধ মিলেনিয়াম পার্ক, খেতে না পাওয়া শ্রমিকদের হয়ে পথে সংগঠন

ডিসেম্বরের শেষ থেকে বন্ধ মিলেনিয়াম পার্ক। কাজ বন্ধ, মাইনে নেই সেখানকার কর্মরত ঠিকা শ্রমিকদের। দিনের পর দিন প্রায় খেতে না পেয়ে চল্লিশটি পরিবার। এই মানুষগুলির হয়ে পথে নামল সিটু। বিক্ষোভ দেখাল উন্নয়ন ভবনের গেটে। মিলেছে আশ্বাস।

বন্ধ মিলেনিয়াম পার্ক, খেতে না পাওয়া শ্রমিকদের হয়ে পথে সংগঠন

প্রসঙ্গত গঙ্গা তীরবর্তী এই পার্কটি চালায় কেএমডিএ। অভিযোগ যে এজেন্সিকে পার্ক চালানোর ঠিকা দেওয়া ছিল সেই এজেন্সি নাকি মাসের পর মাস পার্ক থেকে আহরিত আয় জমা দেয়নি কে এম ডি এ-কে। অভিযোগ সেই টাকা না দেওয়ার শাস্তি পাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে এই পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা শ্রমিকেরা।

কে এম ডি এ কর্তৃপক্ষের কাছে বারংবার নতুন করে পার্ক খোলার আবেদন নিয়ে গেছেন শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ লালসুতোর ফাঁসে সেখানে আটকে রয়েছে নতুন টেণ্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়া। অবশেষে সোমবার উন্নয়ন ভবনে চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও সুপারিটেণ্ডেন্টকে লড়তে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে এলেন সিআইটিইউ নেতৃত্ব।

সিআইটিইউ অনুমোদিত কলকাতা কনট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃত্বে শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখালেন উন্নয়ন ভবনের গেটে। সুপারিটেণ্ড এক সপ্তাহ সময় চাইলেন টেণ্ডার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত করার জন্য। প্রসঙ্গত গত কদিন আগেই মারা গেছেন একজন শ্রমিক, এর আগে লকডাউনের সময় দীর্ঘদিন আয় না থাকায় আত্মহত্যা করেছিলেন চারজন শ্রমিক। সেবারও সিআইটিইউ-র এই ইউনিয়নের আন্দোলনের চাপে নভেম্বরে পার্ক খোলা হয়েছিল। সিটু বলছে, 'এবারও যাতে আর কোনও শ্রমিককে ক্ষুধার জ্বালায় মরতে না হয় তার জন্য অবিলম্বে পার্ক খুলতে হবে এই দাবি রাখছি আমরা।' দরকারে অনির্দিষ্ট কালের জন্য আধিকারিকদের ঘরের বাইরে অবস্থানে বসার হুঁশিয়ারি দেন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

২০০০ সালকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখার জন্যে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ও কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেএমডিএ) উদ্যোগে নতুন সহস্রাব্দের উপহার হিসাবে স্ট্র্যান্ড রোড ও হুগলি নদীর মাঝে এই 'মিলেনিয়াম পার্ক' তৈরি করে।

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বর এটির উদ্বোধন হয়। বড় পার্ক তৈরি করার মতো জায়গা এখানে নেই। তবুও মানুষজনের চাহিদা মেনে অল্প পরিসরে হলেও, পার্কের উত্তর দিকে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের অনুমতিতে তাদেরই জায়গায় বেশ কিছুটা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এই সম্প্রসারিত অংশে শিশুদের জন্যে বেশ কয়েকটা মজাদার 'রাইড' তৈরি করা হয়।

২০০০ সালকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হওয়া পার্কের মূল প্রবেশদ্বার তৈরি করে দেয় স্বনামধন্য টাটা শিল্পগোষ্ঠী। তাই মিলেনিয়াম পার্কের তোরণকে বলা হয় 'টাটা গেট'।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+