সার্কাসের জনক জেমিনি শঙ্করন ৯৯ বছর বয়সে প্রয়াত, শোকবার্তা কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর
ভারতীয় সার্কাসের জনক হিসাবে পরিচিত জেমিনি শঙ্করন। রবিবার রাতে পরলোক গমন করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৯ বছর। শঙ্করন, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে গত কয়েকদিন ধরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, রবিবার রাতে সেখানেই মারা যান তিনি।
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এই দুঃসংবাদটি জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ভারতীয় সার্কাসকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করার জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন শঙ্করন। তাঁর জন্য তিনি তাঁর যথেষ্ট প্রশংসা করেছেন। বিজয়ন বলেন, “ভারতীয় সার্কাসকে আধুনিকীকরণে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি সার্কাস কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। তাকে ভারতের প্রাচীনতম সার্কাস শিল্পী বলে মনে করা হয়। তিনি একজন সার্কাস পারফর্মার হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।

দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন স্থানে সার্কাস দেখাতে যেতেন তিনি। তিনি এমভি শঙ্করন নামেও পরিচিত ছিলেন। জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং, মাউন্টব্যাটেন এবং মহাকাশচারী ভ্যালেন্টিনা তেরেশকোভার সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি ভারতীয় সার্কাস ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন শঙ্করণ।
১৯২৪ সালের ১৩ জুন কেরলের থ্যালাসেরির কোলাসেরিতে জন্মগ্রহণ করে ছিলেন শঙ্করন। সার্কাসের প্রতি এক আলাদা ভালোবাসা ছিল তাঁর, ১৯৩৮ সালে এতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে সেনাবাহিনীতেও চাকরি করেছেন তিনি। প্রখ্যাত সার্কাস শিল্পী কেলেরি কুনহিকান্নানের কাছ থেকে তিনি সার্কাসের জন্য তিন বছরের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তারপর তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সেখান থেকে অবসর নিয়েছিলেন।

তিনি দেশজুড়ে বিভিন্ন সার্কাস গ্রুপে কাজ করেছেন। তারপর ১৯৫১ সালে জেমিনি শঙ্করন বিজয়া সার্কাস কিনেছিলেন। বিজয়ার নাম পরে পরিবর্তন করে তিনি জেমিনি সার্কাস নাম দিয়েছিলেন। তাঁরপর তিনি জাম্বো সার্কাস নামে আরেকটি সার্কাস কোম্পানি করেছিলেন। তাঁর সার্কাসের প্রতি অগাদ অবদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে আজীবন কৃতিত্ব পুরস্কারেও সম্মানিত করেছিল। শঙ্করন দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছেন। সকল ভক্তদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য মরদেহ তাঁর বাড়িতে রাখা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications