ঝাড়খণ্ডে ফ্লোর টেস্ট চম্পাই সোরেনের! শাসক জোটের আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন বিজেপির
সোমবার বেলা এগারোটায় ঝাড়খণ্ডে ফ্লোর টেস্ট। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন। গত সপ্তাহে ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরে হেমন্ত সোরেন মুখ্যমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেন। তারপরে মুখ্যমন্ত্রী হন চম্পাই সোরেন। শাসক জোট বিধায়ক কেনা-বেচা রুখতে তাদেরকে হায়দরাবাদের রিসর্টে নিয়ে গিয়েছিল। তবে রবিবার সন্ধেয় তাঁদেরকে বাঁচিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিজেপির দাবি, শাসক জোটের আত্মবিশ্বাসে অভাব রয়েছে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত দেরির অভিযোগ করে চম্পাই সোরেন সরকার গঠন করেন। ৩১ জানুয়ারি ইডি হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতারের পরে চম্পাই সোরেন ৪৩ জন বিধায়কের সমর্থন দাবি করে রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিলেন। তিনি ৮১ আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় ৪৩ জন বিধায়কের সমর্থন দাবি করেছেন। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন ২৬ জন। এছাড়াও এনডিএ জোটে রয়েছেন এজেএসইউ-এর তিন বিধায়ক।

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জেএমএম বিধায়কদের কয়েকজন যাঁরা চম্পাই সোরেনকে সমর্থন করেননি, তাঁরা ফ্লোর টেস্টে অংশ নিতে পারবেন না। অন্যদিকে রাঁচির এক বিশেষ আদালত ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ফ্লোর টেস্টে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
এদিকে, রবিবার রাঁচিতে পৌঁছে জেএমএম জোটের বিধায়করা আস্থা ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশাপ্রকাশ করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন ৪৮ থেকে ৫০ জন বিধায়ক চম্পাই সোরেনকে সমর্থন করবেন। জেএমএম বিধায়ক মিথিলেশ ঠাকুর দাবি করেছেন, বিজেপির কিছু বিধায়কও চম্পাই সোরেনকে সমর্থন করবেন।
অন্যদিকে, বিধানসভায় বিজেপির চিফ হুইপ বিরঞ্জি নারায়ণ বলেছেন, জেএমএম নেতৃত্বাধীন জোট আস্থা ভোটে হারতে বসেছে। বিধায়কদের নিরাপত্তার মাধ্যমে হায়দরাবাদ নিয়ে যাওয়া এবং তাঁদের ফিরিয়ে আনাই প্রমাণ করে দিচ্ছে শাসক জোট জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী নয়, বলেছেন তিনি। শাসক জোটের আশঙ্কা বিজেপি তাদের বিধায়ক কেনাবেচায় অংশ নিতে পারে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, রবিবার লোবিন হেমব্রম নামে এর জেএমএম বিধায়ক শাসক জোটের বিধায়কদের হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। যদিও এব্যাপারে জেএমএম বলেছে, লোবিন হেমব্রম আস্থা ভোটে তাদের পক্ষেই ভোট দেবেন।
আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন, ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ৮১ জন বিধায়ক সমন্বিত হলেও, বর্তমানে বিধায়ক সংখ্যা ৮০। সেখানে শাসক জোট জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি-সিপিআইএমএলের ৪৮ জন সাংসদ রয়েছে। কিন্তু রাজ্যপালের কাছে জেএমএম বিধায়ক হিসেবে চম্পাই সোরেন যে চিঠি জমা দিয়েছিলেন, সেখানে ৪৩ জন বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল। উল্টোদিকে, ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় বিজেপি জোটের বিধায়ক সংখ্যা ৩২।












Click it and Unblock the Notifications