বিজেপির আমলে আইন হয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই! কৃষি আইন রদের পর চিদাম্বরম
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাব নির্বাচনের আগে কৃষি আইন বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছেন। এরপরই কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম একহাত নিয়েছেন মোদী সরকার ও বিজেপির।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাব নির্বাচনের আগে কৃষি আইন বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছেন। এরপরই কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম একহাত নিয়েছেন মোদী সরকার ও বিজেপির। তিনি মন্ত্রিসভার পূর্বানুমতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মোদীর বিরুদ্ধে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রের মোদিকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম শনিবার একটি টুইটে লেখেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি লেখেন- "আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি মন্ত্রিসভার বৈঠক না করেই কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন? এটি শুধুমাত্র বিজেপির পক্ষেই সম্ভব। মন্ত্রিসভার পূর্বানুমতি ছাড়াই আইন তৈরি এবং বাতিল করা হয় বলে পি চিদাম্বরম উল্লেখ করেন।
শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণে কৃষি আইন রদের কথা ঘোষণা হতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। তিনি লেখেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তাঁকে রাষ্ট্রনায়ক বলে স্বাগত জানিয়েছেন। বিজেপি সভাপতি বলেন, 'কৃষকদের জন্য অপরিসীম যত্ন' রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী 'কৃষকদের কল্যাণ' বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপর পি চিদাম্বরম লেখেন, যেখানে গত ১৫ মাসে কৃষকদের আন্দোলন চলাকালীন তাঁদের দুর্দশার কথা একবারও মুখে আনেননি, তাঁকে কৃষকদরদী রাষ্ট্রনায়ক বানাতে সিদ্ধহস্ত তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য ও দলের সদস্যরা।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেছেন যে, কেন্দ্র তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। বলেছিলেন, তাঁর সরকার তিনটি আইনের সুবিধার বিষয়ে কৃষকদের একটি অংশকে বোঝাতে পারেননি। জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি কৃষকদের ফের ক্ষেতে এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
তিনটি কৃষি আইনের প্রতিবাদে হাজার হাজার কৃষক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির সীমান্তের কাছে শিবির করে আছেন। কৃষি আইন নিয়ে প্রতিবাদী কৃষক ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, তবে কোনও অগ্রগতি হয়নি এতদিন। যাইহোক, প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, কেন্দ্র এখন তিনটি আইন প্রত্যাহার করে নেবে এবং আসন্ন সংসদ অধিবেশনের সময় আইনগুলি বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কৃষি আইন বাতিল করার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কৃষকদের জয় বলে বর্ণনা করেছেন কংগ্রেসের নেতারা। এটিকে মহান বিজয় বলে অভিহিত করে পি চিদাম্বরম শুক্রবার সরকারকে খোঁচা দিয়ে জানান, এই পদক্ষেপটি হৃদয় পরিবর্তনের দ্বারা অনুপ্রাণিত নয় বরং নির্বাচনের ভয় দ্বারা প্ররোচিত হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications