Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

লাল সিগন্যাল না মানাতেই রেল দুর্ঘটনা বিলাসপুরে! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১

ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর রেল স্টেশনের কাছে মালগাড়ির সঙ্গে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হয়েছে। আজ এ কথা জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী ট্রেনের বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বহু দেহ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে কঠিন পরিশ্রম করে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করেন বলে জানিয়েছেন রেলেরই এক কর্তা।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টা নাগাদ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এমইএমইউ (মেন লাইন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) যাত্রীবাহী ট্রেনটি গেভরা (পার্শ্ববর্তী কোরবা জেলায় অবস্থিত) থেকে বিলাসপুরের দিকে যাচ্ছিল। বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনটি স্বাভাবিক করা হয়।

রেলওয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "দুর্ঘটনায় ৬ মহিলা-সহ মোট ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।" ঘটনার পরপরই রেল প্রশাসন দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি বগি পণ্যবাহী ট্রেনের ওয়াগনের উপর উঠে যায়। বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনে উদ্ধার ও মেরামতের কাজ শেষ হয়, যা ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

আহত যাত্রীদের বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতাল এবং ছত্তিশগড় ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (সিআইএমএস)-এ ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ১১ জনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন- যাত্রীবাহী ট্রেনের স্থানীয় চালক বিদ্যাসাগর (৫৩), লবকুশ শুক্লা (৪১), রঞ্জিত প্রভাকর (৪০ এর কাছাকাছি বয়স), শীলা যাদব (২৫) এবং প্রিয়া চন্দ্র (২১)।

এ ছাড়াও, নিহতদের মধ্যে চারজন মহিলা ও দুজন পুরুষের এখনও পরিচয় জানা যায়নি। আহত ২০ জনের মধ্যে ৯ জন মহিলা এবং একটি ২ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। যাত্রীবাহী ট্রেনের সহকারী লোকো পাইলট রশ্মি রাজ (৩৪), ট্রেন ম্যানেজার (গার্ড) অশোক কুমার দীক্ষিত (৫৪) এবং পণ্যবাহী ট্রেনের গার্ড শৈলেশ চন্দ্র (৪৯) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে প্রাথমিক ত্রাণ হিসেবে এক্স-গ্রাশিয়া প্রদান করা হয়েছে। রেলওয়ে প্রশাসন হাসপাতালগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকের জন্য চিকিৎসা, পরিবহন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেছে।

সিনিয়র রেলওয়ে কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এক রেলওয়ে কর্মকর্তা জানান, "যাত্রীবাহী ট্রেনটি একটি লাল সিগন্যাল অতিক্রম করে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে স্থির পণ্যবাহী ট্রেনটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। লোকো পাইলট কেন লাল সিগন্যাল অতিক্রম করলেন এবং পণ্যবাহী ট্রেনটি দৃশ্যমান দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও সময় মতো জরুরি ব্রেক লাগাতে ব্যর্থ হলেন, তা এখন তদন্তের বিষয়।"

সংঘর্ষের আঘাতে যাত্রীবাহী ট্রেনের অর্ধেক মোটরবগি পণ্যবাহী ট্রেনের ব্রেক ভ্যান সংলগ্ন ওয়াগনের উপর উঠে যায়, যা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পণ্যবাহী ট্রেনের গার্ড শেষ মুহূর্তে ব্রেক ভ্যান (পণ্যবাহী ট্রেনের শেষ বগি) থেকে ঝাঁপ দিয়ে সামান্য আঘাত পান বলে কর্মকর্তা জানান। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে এবং গুরুতর আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। সামান্য আহতরা ১ লক্ষ টাকা সহায়তা পাবেন।

ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীমূলক পদক্ষেপের সুপারিশের জন্য কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি (সিআরএস) পর্যায়ে একটি বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+