দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনের সুবিধা অসুবিধা গুলি জেনে নিন
দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনের সুবিধা অসুবিধা গুলি জেনে নিন
সারা ভারতে ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪৬৪৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪৯ জনের। ৩ সপ্তাহের লকডাউন প্রায় শেষ হয়ে এলেও এখনও আয়ত্তে আসেনি করোনা, ফলে বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছে।

প্রতি চার দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা
লকডাউন ঘোষণার সময়কালে সারা ভারতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায়নি, কিন্তু বর্তমানে প্রতি ৪ দিন অন্তর আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তবলীঘি জামাতের ঘটনায় করোনা ছড়ানোর পরপরই গত সপ্তাহে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে একটি মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী লকডাউন বাড়ানোর দিকে ইঙ্গিত করেন।

লকডাউনের সময়সীমা বাড়লে কি হতে পারে?
লকডাউনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশে করোনার উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে লাগাম পড়ানো। যদিও অপর্যাপ্ত করোনা পরীক্ষার কারণে লকডাউনের সঠিক সুবিধা নির্ধারণ করা যায়নি। লকডাউন চলাকালীন ভারতীয় রেল ২০,০০০ কোচকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপান্তরের কথা জানায় যেখানে প্রায় ৩.২ লক্ষ শয্যার সংস্থান সম্ভব। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, প্রায় ৪,৬৬,০৫৭টি পিপিই ও ২৫,২৮,৯৯৬টি মাস্ক রাজ্যে সরবরাহ হয়েছে এবং আরও পিপিই তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর কেন্দ্রীয় সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে উৎপাদন প্রক্রিয়া ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রয়োজন আরও সময়।

লকডাউন না বাড়লে কি হতে পারে?
লকডাউনের ফলে ইতিমধ্যে তলানিতে ভারতীয় অর্থনীতি। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও তাবড় অর্থনীতিবিদদের দাওয়াইয়েও হচ্ছে না কাজ। প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ যোজনার আওতায় রেশন বিলি হোক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কর্মচারীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জনধন যোজনা, অর্থনীতির বেহাল দশার কারণে প্রায় সবক্ষেত্রেই চূড়ান্ত প্রতিবন্ধকতার মুখে কেন্দ্রীয় সরকার। উড়ান সংস্থা, পর্যটন, উৎপাদন প্রক্রিয়া, গাড়ি কারখানাগুলি বন্ধ থাকায় বাড়ছে দুর্গতি। সূত্রের খবর, প্রায় ২৩% কর্মীর ছাঁটাই ইতিমধ্যে সুনিশ্চিত হয়েছে, মফস্বল এলাকায় সংখ্যাটি প্রায় ৩১% ছুঁয়েছে।

লকডাউন উঠলেই দেখা দিতে পারে শেয়ার কেনার হিড়িক
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের মতে, লকডাউন তুলে নিলে শেয়ার কেনার ধুম পড়তে পারে। ফলে চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে অর্থনীতি। ভিন রাজ্যের কর্মীরা কাজে ফিরলে দেশের কাঠামো আবার সুস্থ অবস্থায় ফিরবে, ফলে করোনা মোকাবিলার জন্যে দেশে যে অর্থনৈতিক ভারসাম্যের প্রয়োজন, তা ফেরত আনা যাবে বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আদতে কি হবে?
লকডাউন উঠবে নাকি বাড়ানো হবে সময়সীমা, এ বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত ধন্ধ কাটবে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে লকডাউন বাড়ার দিকেই ইঙ্গিত করেছে। সেক্ষেত্রে রাজস্থানের 'ভিলওয়ারা মডেল' মেনে দেশের মধ্যে বিধিনিষেধ মেনে ব্যবসাবাণিজ্য পুনরায় চালু হলেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে নাগরিকদের, এমনটাই মত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের।












Click it and Unblock the Notifications