হারানো মোবাইলের জন্য ২১ লক্ষ লিটার জল ছেঁচা হল! প্রশ্নে ছত্তিশগড়ের আধিকারিকের নির্দেশ
মোবাইল পুনরুদ্ধারের জন্য ছিঁচে ফেলা গল জলাধারের জল। ২১ লক্ষ লিটার জল ছেঁচাকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়ল ছত্তিশগড়ের আধিকারিকের নির্দেশ। একটি হারামো ফোন উদ্ধার করেতে জলাধার থেকে জল নিষ্কাশনের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগেজলসম্পদ বিভাগের মহকুমা আধিকারিককে শো-কজ করা হল।
ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলার এক জলাধারে মোবাইল ফোন পড়ে গিয়েছিল এক সরকারি আধিকারিকের। তারপর ওই বাঁধ থেকে ২১ লক্ষ লিটার জল নিষ্কাশন করা হয়েছে। সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের অফিস নির্দেশ দিয়েছে যে জলের অপচয়ের খরচ এসডিও আর কে ধীভারের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে।

ওই আধিকারিক জলাধারের ৩-৪ ফুট জল খালি করার মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলার পাখাঞ্জোর এলাকায় নিযুক্ত খাদ্য পরিদর্শক রাজেশ বিশ্বাস ছুটি কাটাতে খেরকাট্টা পারালকোট জলাধারে গিয়েছিলেন। সেইসময় তিনি তাঁর বহুমূল্যের ফোনটি ১৫ ফুট গভীর জলে ফেলে দেন।
ওই মোবাইলটি ছিল ৯৬ হাজার টাকা মূল্যের। নিজের শখের স্যামসাং এস-২৩ মোবাইলটি হারিয়ে তিনি সেচ দফতরের কাছে জলাধারে ডুবে যাওয়া ফোনটি উদ্ধারের আবেদন জানান। জলাধারে ডুবে যাওয়া ওই আধিকারিকের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয় সেচ দফতরে।

অবশেষে জলাধারের জল নিষ্কাশনের জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন সেচ দফতররে এসডিও। এরপর ৩০ হর্সপাওয়ারের একটি পাম্প স্থাপন করা হয়। জলাধারে সঞ্চিত জল নিষ্কাশন করে মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। একদিনে ২১ লক্ষ লিটার জল নিষ্কাশন করা হয়েছে ওই জলাধার থেকে।
এখানেই শেষ নয়। জল নিষ্কাষণের পর 'মিশন মোবাইল খোজো' অভিযান চলে পুরো তিন দিন ধরে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কাঙ্কের কালেক্টর প্রিয়াঙ্কা শুক্লা এই ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছেন। জলাধার থেকে জল নিষ্কাশনের মৌখিক অনুমতি দেওয়ার অভিযোগে জলসম্পদ বিভাগের মহকুমা আধিকারিক আরসি ধীভারকে কালেক্টর শোকজের নোটিশ জারি করেছিলেন।

কালেক্টরের জারি করা শো-কজ নোটিশ বলা হয়েছে, খাদ্য পরিদর্শক তাঁর আবেদনের জল নিষ্কাষণের মৌখিক অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি না নিয়ে জল ছাড়ার মৌখিক অনুমতি দেওয়া উচিত হয়নি এসডিও। এটি গর্হিত কাজ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এরপর এসডিওকে এক দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে এই শোকজের। তিনি যথার্থ উত্তর না দিতে পারলে তাঁর বিরুদ্ধে হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কালেক্টর। এরপর এসডিও কী জবাব দেন, সেদিকে তাকিয়ে ছত্তিশগড় প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications