বুদ্ধ পূর্ণিমায় কেদার দর্শনে বাধা, ভৈরবের ভাঙনে বন্ধ চারধাম যাত্রা
ফের প্রকৃতিক কোপে উত্তরাখণ্ড। তুষারপাতের মধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছিল চারধাম যাত্রার পথ। কিন্তু বেশিদিন আর সেটা রাখা গেল না। কয়েকদিনের মধ্যে বন্ধ করতে বাধ্য হল উত্তরাখণ্ড সরকার। গতকাল থেকে প্রবল তুষারপাত শুরু হয়েছে কেদারনাথে।
তুষারপাতের মধ্যে নতুন বিপর্যয় হিমবাহের ভাঙন। গতকাল রাতে কেদরনাথের কাছে ভৈরব হিমবাহে ভাঙন দেখা দেয়। দুপুর আড়াইটে নাগাদ হিমবাহে ভাঙনের প্রথম খবর পাওয়া যায়। তার পরে আর ঝুঁকি নেয়নি উত্তরাখণ্ড সরকার। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে কেদারের পথে পূন্যার্থীদের ভিড় হচ্ছিল। কিন্তু মাঝ পথেই আটকে গিয়েছেন পূন্যার্থীরা।

রুদ্র প্রয়াগের জেলা শাসক জানিয়েছেন, যাঁরা পায়ে হেঁটে কেদারের পথে রওনা হয়েছিলেন। তাঁেদর সকলকে নিরাপদ স্থানে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। এবং কেউ যেন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যাত্রা শুরু না করেন তার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যাঁরা এই মুহূর্তে কেদার ধামের কাছাকাছি জায়গায় রয়েছেন তাঁদেরও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রুদ্রপ্রয়াগের জেলা শাসক। এমনকী কেদারনাথ যাওয়ার পথে যে এনডিআরএফ দলের সদস্যরা কাজ করছেন তাঁদেরও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। আপাতত আবহাওয়া ভাল না হওয়া পর্যন্ত কেদার এবং চারধাম যাত্রা বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই বছরের শুরুতেই জোশী মঠে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। জোশী মঠ ক্রমশ ধসে যেতে শুরু করেছে। একের পর এক বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় অসংখ্য মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে। নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে তারা। এই নিয়ে উত্তরাখণ্ড সরকারের অপরিকল্পিত নগরায়ণকে দায়ী করেছিলেন বাসিন্দারা।
কেদারে সেই হ্রদ ফেটে বিপর্যয়ের পর থেকে লাগাতার দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন জায়গায়। যার জন্য উত্তরাখন্ড সরকারকেই দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা। যত্রতত্র অপরিকল্পীত ভাবে গাছ কাটা, রাস্তা তৈরি করা, ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে তার জেরে এই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে উত্তরাখণ্ডে। ভয়ঙ্ক বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।












Click it and Unblock the Notifications