চন্দ্রযান ২ : কেন সফট ল্যান্ডিং করতে পারল না বিক্রম ল্যান্ডার! কেন্দ্রীয় রিপোর্ট কী বলছে
১৩০ কোটির স্বপ্ন কয়েক মুহূর্তে মাঝরাতে ধূলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল। ৭ সেপ্টেম্বরের রাত ইসরোর মতোই আশাভঙ্গ করেছে কয়েকশো কোটি ভারতীয়ের। কিন্তু মহাকাশে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? কেনইবা বিক্রম শেষমেশ সফ্ট ল্যান্ডিং থেকে বিচ্যুত ছিল তা নিয়ে সংসদে কেন্দ্রীয় রিপোর্ট আসতেই বেশ কিছুটা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশ্লেষণে উঠে আসছে বহু তথ্য।

কার নাম থেকে বিক্রমের নামকরণ.. কিছু তথ্য
ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের অন্যতম প্রবক্তা বিক্রম সারাভাইয়ের নাম থেকে বিক্রম ল্যান্ডারের নামকরণ করা হয়। ২২ জুলাই 'চন্দ্রযান ২'-এ বিক্রম ল্যান্ডার ও প্রজ্ঞান রোভার নিজেরদের অবস্থানে থেকে উড়ে যায় চাঁদের পথে। বিক্রমের মধ্য়েই ন্যাস্ত ছিল রোভার প্রজ্ঞান। এরপর চন্দ্রপৃষ্ঠ টার্গেটে আসতেই চাঁদ থেকে কিছু দূরে ধরাশায়ী হয়ে বিক্রম।

সাফল্য ছিল কোন কোন জায়গায়?
চন্দ্রযান ২ কে নিয়ে কয়েকদিন আগেই একটি রিপোর্ট লোকসভায় পেশ করে সরকার। সেখানে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে অরবিটাল বিষয়, ল্যান্ডারের বিচ্যুতি, উৎক্ষেপণ সমস্ত কিছুই সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিক্রম সফ্ট ল্যান্ডিং করতে না পারায় সমস্ত উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

কোন কোন কারণে ব্যর্থতা ছিল বিক্রমের?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ, ইঞ্জিনের অগ্নিনির্গমন, ব্যর্থতার বড় কারণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে বিক্রমের ব্যর্থতার বড় কারণ হতে পারে, যে এমন কোনও রকমের আকস্মিকতা সম্পর্কে সে প্রস্তুত ছিলনা।

ইসরো-র বিজ্ঞানীদের মত কী ?
ইসরো-র বিজ্ঞানী ডক্টর মুকুন্দ রাও বলছেন, গতিবেগ হঠাৎ অনেকটা কমানোর জন্যই বিক্রম ল্যান্ডার মুহূর্তে তছনছ হয়ে যায়। তিনি মনে করছেন, প্রয়োজনীয় জায়গার থেকে অনেকটাই আগে গতিবেগ নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায় বিক্রমের। আর হঠাৎ সেটা করা হয়। যা আরও বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

'নিয়ন্ত্রণ' প্যানেলের নির্দেশে কাজ করেনি!
আরও এক বিজ্ঞানীর মতে বিক্রমের 'নিয়ন্ত্রণ' বিষয়ক প্রযুক্তি কাজ করেনি ইসরো প্যানেলের নির্দেশ মতো। ফলে ঘটে যায় বিপত্তি। অনেকেই মনে করছেন , রাস্তা সম্পর্কে সেভাবে ওয়াকিবহাল না থাকবার জন্যই সম্ভবত বিক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে চন্দ্রপৃষ্ঠ সম্পর্কে প্রযুক্তিগত শিক্ষা অনেকটাই প্রয়োজনীয় ছিল।

কোন কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উন্নতির?
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্ল্যানেটারি ল্যান্ডিং এর বিষয়ে ভারতের মহাকাশ গবেষণাকে আরও বেশি উন্নত হতে হবে। সেক্ষেত্রে চন্দ্রপৃষ্ঠে কিভাবে সফ্ট ল্যান্ডিং হবে, কিভাবে গ্রহের পৃষ্ঠদেশ কিরকম হবে, তা নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু খামতির জায়গা। আর সেই সমস্ত জায়গা পূরণ হলেই চন্দ্রপৃষ্ঠে সদর্পে ভারত পা রাখতে পারবে সাফল্যের সঙ্গে।












Click it and Unblock the Notifications