করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের তীব্র সংমণের পরও কেন্দ্র দেশজুড়ে লকডাউনের পথে হাঁটতে নারাজ
করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের তীব্র সংমণের পরও কেন্দ্র দেশজুড়ে লকডাউনের পথে হাঁটতে নারাজ
দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত রুখতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে ইতিমধ্যেই লকডাউন কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সূত্রের খবর, এখনই লকডাউনের পথে হাঁটতে চায় না কেন্দ্র সরকার। যদিও রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে তারা সংক্রমণের চেইন ভাঙতে ও কোভিড–১৯ সংক্রমণ দমন করতে কড়া বিধি–নিষেধ ও নিজেদের রাজ্যে লকডাউন কার্যকর করতে পারে।

বেশ কিছু রাজ্যে জারি লকডাউন
দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভের তীব্রতা প্রথম ওয়েভের চেয়েও মারাত্মক। যার জেরে দৈনিক নতুন কেস ও সংক্রমণের চপে পড়ে করুণ অবস্থা দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর। অনেক রাজ্যই নাগরিকদের গতিবিধির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং নৈশ কার্ফুর আওতায় ফেলেছে রাজ্যকে। প্রায় ১০টি রাজ্য ও কেন্রশাসিত অঞ্চলে কার্যকর করা হয়েছে কিছু কড়া নিষেধাজ্ঞা। স্বাস্থ্য মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ১৫০টি জেলায় কড়া লকডাউন জারি করার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ সেখানে ১৫ শতাংশ উচ্চ পজিটিভ কেস রয়েছে।

কুম্ভ ও লকডাউন না হওয়া সুপ্রার স্প্রেডারের কাজ করবে
মন্ত্রকের আধিকারিক ও কোভিড-১৯ টাস্কফোর্সও বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ কুম্ভ মেলা থেকে ফিরে আসা মানুষ ও লকডাউনের অনুপস্থিতি এই দুটি বিষয়ই টায়ার ২ ও ৩ শহরে সুপ্রার স্প্রেডারের কাজ করবে। রবিবারই দেশজুড়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৩.৬২ লক্ষ জন, যার মধ্যে ১০টি রাজ্য মিলিয়ে ৭০ শতাংশের বেশি কেস রয়েছে। এগুলি হল মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, কর্নাটক, কেরল, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ ও রাজস্থান। গত দশদিন ধরে টানা দেশে ৩ লক্ষের বেশি দৈনিক নতুন করোনা কেসের ফলে দেশের বহু রাজ্যে হাসপাতাল, মর্গ ও শ্মশানে অসম্ভব ভিড় দেখা দিয়েছে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও কর্নাটকের হাসপাতালে রোগী ও তাঁর পরিবাররা বেড, অক্সিজেন সাপোর্ট ও ওষুধের জন্য হাহাকার করছে।

অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্র
তবে কেন্দ্রের উদ্বেগের মূল কারণ হল দেশজুড়ে ফের লকডাউন ঘোষণা হলে তা ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে অর্থনীতির ওপর, যার জেরে কর্মহারা হবেন বহু মানুষ এবং বেশি প্রভাব পড়বে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর। রাজ্যগুলির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা ও লকডাউনের সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছে কেন্দ্র, বরং কেন্দ্র এখন স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ছোট ছোট হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র মেডিক্যাল পরিকাঠামো বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। এর পাশাপাশি প্রোটোকল মেনে কোভইড কেয়ার সেন্টার খোলা হোক হোটেল, স্টেডিয়াম ইত্যাদি জায়গায়।

সূত্র মডেলের অনুমান ভুল
প্রসঙ্গত, সূত্র মডেল নিয়ে কাজ করা কিছু বিজ্ঞানীরা মার্চ মাসে দ্বিতীয় ওয়েভ নিয়ে সতর্ক করলেও তাতে খুব একটা মনোযোগ দেওয়া হয়নি, অন্য বিজ্ঞানীরা এই রিপোর্টকে ভুল বলে অ্যাখাও দিয়েছিলেন। বিজ্ঞানীদের একটি দল তাঁদের বিবৃতিতে বলেন, 'জাতীয় মহামারি প্রতিক্রিয়ার সমন্বয় করে সরকারের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের নিয়ে ২ এপ্রিল একটি বৈঠক হয়। আমরা ইঙ্গিত দিয়েছিলাম সূত্র মডেল এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে দ্বিতীয় ওয়েভ শিখরে পৌঁচাবে এবং দৈনিক কেস ১ লক্ষ হওয়ার পূর্ব অনুমান করেছিল। তবে এই মডেলের পূর্বাভাসগুলি ভুল ছিল।' তাঁরা এও জানিয়েছেন যে গাণিতিক মডেল শুধুমাত্র কিছু বিষয়ের ভবিষ্যত বলতে পারে কিন্তু ভাইরাস কখন কোন সময় কীভাবে কতজনকে সংক্রমণ করবে তা বলতে পারে না।












Click it and Unblock the Notifications