শীঘ্রই বুলেট ট্রেন চালানোর পক্ষপাতী কেন্দ্র, কোমর কষছে রেল

বিদেশে সম্ভব হলে কেন ভারতে চলবে না বুলেট ট্রেন, ক্ষমতায় এসেই এ ব্যাপারে উঠেপড়ে লাগেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। তাঁর যুক্তি, ট্রেনে চেপে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে অনেক সময় নষ্ট হয়। আজকের ব্যস্ততার যুগে সেটা বাঞ্ছনীয় নয়। যেমন, ৫০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে গড়ে ৮-৯ ঘণ্টা সময় চলে যায় এক্সপ্রেস ট্রেনে। বুলেট ট্রেন চালু হলে ওই দূরত্ব যেতে দু'ঘণ্টারও কম সময় লাগবে।
ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে বুলেট ট্রেন চালু করতে দরকার পরিকাঠামো গড়ে তোলা। সেই জন্য রেলের বিপুল অর্থ দরকার। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বুলেট ট্রেন চালাতে হলে যে ধরনের ইঞ্জিন, কামরা লাগে, তা আমদানি করতে হবে বিদেশ থেকে। বুলেট ট্রেনের এক-একটি কামরার দাম পড়বে অন্তত আট কোটি টাকা। সম্প্রতি ভাড়া বাড়ানোর পিছনেও অন্যতম কারণ হল এটা। পাশাপাশি, এই পরিকাঠামো নির্মাণে বিদেশি পুঁজি এলেও আপত্তি নেই কেন্দ্রের।
রেলযাত্রায় সময়ের অপচয় কমাতে হবে, স্পষ্ট মত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর
ঠিক হয়েছে, মুম্বই-পুণে এবং মুম্বই-আমেদাবাদ রুটে প্রথম চালু হবে বুলেট ট্রেন। তার পর দিল্লি, কলকাতা এবং চেন্নাই থেকেও পর্যায়ক্রমে চালানো হবে এই ট্রেন। প্রথমে স্বল্প দূরত্ব। তার পর বাড়ানো হবে যাত্রাপথ।
শুধু কী তাই! এখন সাধারণ মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির গড় গতিবেগ ৬০-৭০ কিলোমিটার। এই গতিবেগ বাড়িয়ে অন্তত ১২০ কিলোমিটার করার চিন্তাভাবনা রয়েছে রেল মন্ত্রকের। সে জন্য আগে রেললাইনের অবস্থা খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ ওই গতিতে ট্রেন চললে যে চাপ পড়বে রেললাইনের ওপর, তা সহ্য করার মত শক্তি থাকতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। এ বার তাতে জোর দিতে চায় নতুন সরকার।
এখন হাওড়া থেকে নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসে লাগে ১৭ ঘণ্টা। পূর্ব এক্সপ্রেসে লাগে ২৩ ঘণ্টা, কালকা মেলে ২৬ ঘণ্টা। গতি বাড়ানো হলে সব ক্ষেত্রেই যাত্রায় সময় অন্তত সাড়ে তিন ঘণ্টা কমে যাবে। শুধু হাওড়া-নয়াদিল্লি রুটই নয়, হাওড়া-মুম্বই এবং হাওড়া-চেন্নাই রুটেও গতি বাড়ানোর পক্ষপাতী রেলমন্ত্রক। বলা ভালো, রাজধানী এক্সপ্রেসও যে ইঞ্জিন টানে, তা ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ছুটতে পারে। কিন্তু নানা কারণে এই গতি গড়ে ৯০ কিলোমিটারে বেঁধে রাখতে হয়। যদি ১৫০ কিলোমিটার গতিতে রাজধানী এক্সপ্রেস ছুটতে পারত, তা হলে হাওড়া থেকে নয়াদিল্লি যেতে বড় জোর ১০ ঘণ্টা সময় লাগত! কেন সেটা হবে না, এই কৈফিয়তই চেয়েছেন খোদ নরেন্দ্র মোদী।












Click it and Unblock the Notifications