ফৌজদারি অপরাধে ষোড়শ বর্ষেই প্রাপ্তবয়স্ক, আইন সংশোধনের উদ্যোগ

প্রসঙ্গত, দিল্লি গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত এক আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার তিন বছরের বেশি কারাবাসের সাজা হয়নি। তাও ওই তিন বছর সে সাধারণ কারাগারে নয়, থাকবে সরকারি হোমে। এর পরই সারা দেশে দাবি ওঠে, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবেই গণ্য করা হোক। বিভিন্ন নারাবাদী সংগঠন যুক্তি দেয়, দিল্লি গণধর্ষণ ছাড়াও মুম্বইয়ের মহিলা সাংবাদিককে ধর্ষণ, গুয়াহাটি গণধর্ষণ ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল কেউ না কেউ, যাদের বয়স ১৮ বছরের কম। দিল্লি গণধর্ষণ কাণ্ডে যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেটি জড়িত ছিল, সে-ই সবচেয়ে নৃশংসতার পরিচয় দিয়েছিল। নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকও এই দাবি সমর্থন করে।
প্রাথমিক আলোচনার পর কেন্দ্রের তাই সিদ্ধান্ত, ১৬ বছরের নীচে বয়স হলে তবেই একমাত্র 'অপ্রাপ্তবয়স্ক বিচার আইন' বা জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টে বিচার হবে। অন্যথা বিচার হবে ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি) অনুসারে।
দিল্লিতে গণধর্ষিত ও মৃত মেয়েটির বাবা-মা সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের আর্জি, ১৭ বছর বয়স হওয়ার কারণে ওই ধর্ষকের বিচার ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী হয়নি। হয়েছে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট মোতাবেক। অবিলম্বে আইন সংশোধন করা হোক এবং পুনরায় ছেলেটির বিচার করে তাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হোক। এই আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার শীর্ষ আদালত নোটিশ পাঠিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছে।
পাশাপাশি, কেন্দ্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপ আসতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ, আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত সনদের অন্যতম স্বাক্ষরকারী হল ভারত। ফলে, ১৬ বছরেই প্রাপ্তবয়স্ক ধরে যদি ফৌজদারি অপরাধের বিচার হয়, তবে ভারত শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ উঠতে পারে। একটা যুক্তি অবশ্য দেওয়া যেতে পারে। তা হল, ১৬ বছর বয়সীকে কিশোর বলা হয়, শিশু নয়। সুতরাং, শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে, এই অভিযোগ ঠিক নয়। রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ভারতীয় দূতকে এই মর্মে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বলতেই পারে নয়াদিল্লি।












Click it and Unblock the Notifications