Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বিহারে জাত সমীক্ষা! বদলে দিতে পারে রাজনীতি ও সামাজিক কাঠামোকে

বহির্বিশ্বের কাছে বিহারের এক পরিচিতি রয়েছে। সেই পরিচিতি হল সামাজিক আধিপত্য, নিপীড়নমূলক বর্ণ ও সামাজিক পরিকাঠামোর গল্পে নিমজ্জিত একটি রাজ্য হিসেবে। বিহারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী ও রাজেন্দ্র প্রসাদের চম্পারণ সত্যাগ্রহ এবং জগজীবন রামের সামাজিক ন্যায়বিচারের রাজনীতি।

এরই মধ্যে পিছিয়ে পড়া রাজনীতিতে উত্থান হয় লালুপ্রসাদ যাদব এবং নীতীশ কুমারের। তাদের অন্তর্ভুক্তিমলূক বিহার গড়ার প্রচেষ্টা এখনও সফল হয়নি। ফলে ২০০০ সালের নভেম্বরে বিহার থেকে আদিবাসী অধ্যুষিত ঝাড়খণ্ড আলাদা হয়ে গেলেও বিহার বিহারেই রয়ে গিয়েছে।

Nitish Kumar and lalu prasad yadav

মণ্ডল কমিশনের রিপোর্টের হাত ধরে বিহারে লালুপ্রসাদের যুগের সূচনা হয় ১৯৯০-এর দশকে। সেই সময় উচ্চবর্ণের রাজনীতির উত্তেজনা এবং প্রতিরোধের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। তারই মধ্যে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী গুজরাতের সোমনাথ থেকে রথযাত্রা শুরু করেন। সেই রথযাত্রাকে সেই সময় মণ্ডল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিহারেই থামিয়ে দেন সেই সময়ে অদম্য লালুপ্রসাদ যাদব।

সেই সময় জনতা দলের মধ্যে লালুপ্রসাদের সঙ্গে লড়াই নীতীশ কুমারকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি করে। অন্যদিকে ২০১৪ সালে ইউপিএ সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত বিহারের মণ্ডলাইজেশন বজায় ছিল। এরপরেই সেখানে রাজনীতি উচ্চবর্ণের আধিপত্য নিয়ে দখল করে নেয়।

বিহারের জাত সমীক্ষার তথ্যের তাৎপর্য দ্বিগুণ। প্রথমত, এটি বর্ণ সংখ্যাকে একটি সরকারি মর্যাদা দেয়। ১৯৩১ সালের পরে ওবিসি তথ্যের মর্যাদা দেয়। দ্বিতীয়ত এটি বিহারের রাজনৈতিক প্রভাবশালী বর্ণ সংখ্যার পুনর্নিশ্চিতকরণ করে।

বিহারে ১৪.২ শতাংশ জনসংখ্যা নিয়ে যাদবরা একক বৃহত্তম। পরবর্তীতে ১০.৫ শতাংশ উচ্চবর্ণের সম্মিলিত শক্তির মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণ ৩.৬ শতাংশ, রাজপুত ৩.৪ শতাংশ, ভূমিহার ২.৮ শতাংশ এবং কায়স্থ ০.৬ শতাংশ। এই সংখ্যাগুলি বিহারের উচ্চবর্ণের প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব এবং সামাজিক আধিপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিহারে ২.৮ শতাংশ জনসংখ্যার ভূমিহাররা ১৯.৬ শতাংশ দলিতের ওপরে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। সেই সময় ভূমিহারদের রণবীর সেনার হামলায় বাথানি টোলা (১৯৯৬), লক্ষ্মণপুর বাথে (১৯৯৭) এবং শঙ্কর বিঘায় (১৯৯৯) গণহত্যার ঘটনা ঘটে। পরে এই খুনিদের অনেকেই মুক্তি পেয়ে যান। ভূমিহাররা যে সামাজিক আধিপত্য ও অসামঞ্চস্যপূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করত তা বর্ণপ্রথা থেকে উদ্ভূত।

বর্ণ শুমারির আরেকটি দিক হল আমলাতন্ত্রে ব্রাহ্মণ ও কায়স্থদের অসম উপস্থিতি, যেহেতু সংসদে বারে বারে এই ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলি এখন প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনীতিতে আগ্রহী, যেমন সংসদে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবদের মধ্যে ওবিসিদের সংখ্যা।

জাত শুমারির তথ্য প্রকাশের পরে বিহারের সামাজিক কাঠামো, রাজনীতিতে এখন পুনর্নির্মাণ দেখা যাবে। আমলাতন্ত্রে উচ্চবর্ণের অসম উপস্থিতি এবং তাদের আর্থ সামাজিক আধিপত্যের দাবিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। বিহারের রাজনৈতিক দৃশ্যপট আর আগের মতো হবে না। ভবিষ্যতে এখানে জাতীয় প্রভাবও পড়তে পারে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+