রাজ্য-রাজ্যপাল ফর্মুলার সঙ্গে জাত-পাতে শান, কী কারণে গুজরাতে মসনদে ভূপেন্দ্রকে বসাল বিজেপি
রাজ্য-রাজ্যপাল ফর্মুলার সঙ্গে জাত-পাতে শান, কী কারণে গুজরাতে মসনদে ভূপেন্দ্রকে বসাল বিজেপি
গুজরাতের ১৭তম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ইতিমধ্যেই শপথ নিয়ে ফেলেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র প্যাটেল (Bhupendra Patel Swearing In)। বিজয় রূপানির পদত্যাগের পর গুজরাতের নয়া মুখ্যমন্ত্রী কে হবে তা নিয়ে গত দুদিন ধরে উত্তাল ছিল গোটা দেশের রাজ্য-রাজনীতি। অবশেষে গুজরাতের এই পাতিদার নেতার উপরেই ভরসা রেখেছে মোদী-শাহের গেরুয়া ব্রিগেড। এদিকে ২০১৭ সালেই জীবনে প্রথমবারের জন্য বিধায়ক হন ভূপেন্দ্র।

রাজ্য-রাজ্যপাল ফর্মুলায় শান
জেতেন আবার রেকর্ড ব্যবধানে। তার চার বছরের মধ্যেই গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হয়ে গেলেন এই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা। এদিকে সোমবার 'গোমাতা'র পুজো সেরেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ শপথ নিতে গেলেন ভূপেন্দ্র। যিনিই এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে।এদিন বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে পরিষদীয় দলের বৈঠকে ভূপেন্দ্রভাই প্যাটেলের নাম পরিষদীয় দলনেতা পদে প্রস্তাব করেন সদ্য ইস্তফা দেওয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। এদিকে গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন প্যাটেলেরও ঘনিষ্ঠ হিসাবেও রীতিমতো পরিচিতি রয়েছে ভূপেন্দ্রর। সেই ফর্মুলাকেও কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি।

পাতিদার ভোটে বিশেষ নজর
অন্যদিকে ঘাটোলোদিয়া বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক ছিলেন আনন্দীবেন প্যাটেল। তাঁকে রাজ্যপাল নিযুক্ত করার পর ২০১৭ সালে সেই আসন থেকে প্রথমবার ভোটে লড়েন ভূপেন্দ্র প্যাটেল। এবং জেতেন রেকর্ড ব্যবধানে। এদিকে ২০১৫ সালে পাতিদারদের জন্য সংরক্ষণের দাবিতে জোরদার বিক্ষোভ শুরু হয় গোটা রাজ্যজুড়ে। যাতে মুখ পড়ে শাসক দলেরও। এমতাবস্থায় ভূপেন্দ্রকে মুখ্যমন্ত্রী করে পাতিদার ভোটকে নিজেদের দিকে টেনে আনার কৌশল নিয়েছ বিজেপি, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেই পাখির চোখ
আরও সহজ ভাবে বললে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনের ১৫ মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী বদল করে ওই রাজ্যের মানুষের মধ্যে সরকার-বিরোধী ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত করার চেষ্টা করল বিজেপি। এমনকী রূপানির পর যে কোনও বড় সম্প্রদায়ের বড় নেতাকেই মসনদে বসানো হবে তা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ভূপেন্দ্রকে সামনে রেখেই সেই চালেই নতুন করে শান চেষ্টা করল বিজেপি। এমনকী আসন্ন বিধানসভার নির্বাচনী লড়াইও যে ভূপেন্দ্রর কাঁধে ভর করেই হবে তা একপ্রকার নিশ্চিত।

হার্দিকের পাল্টা ভূপেন্দ্র
অন্যদিকে গুজরাতে ক্ষত্রিয়-হরিজন-আদিবাসী-মুসলমান ভোটব্যাঙ্কের ভরসায় থাকা কংগ্রেস এ বার আবার পাতিদার আন্দোলনের নেতা হার্দিক পটেলকে রাজ্যের কার্যকরী সভাপতি করেছে। ওই চালেই একযোগে তিন সম্প্রদায়ের ভোট টানার চেষ্টা করছে কংগ্রেস। এদিকে গুজরাতে একাধিক জন আন্দোলনে হার্দিকের ভূমিকা সকলের জানা। এমতাবস্থায় ভোটের ময়দানে জাত-পাতের রসায়নেই কংগ্রেসকে মাত করতে পাতিদার ভূপেন্দ্রই বিজেপির মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে বলেও মত অনেকের।












Click it and Unblock the Notifications