উপনির্বাচনে দেশজুড়ে হাওয়া কোনদিকে! বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের অঙ্ক একনজরে
উপনির্বাচনে দেশজুড়ে হাওয়া কোনদিকে! বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের অঙ্ক একনজরে
তিনটি লোকসভা ও উনত্রিশটি বিধানসভা আসনের গণনা এদিন শুরু হয়েছে সকালে। ২ রা নভেম্বর ২০২১ সালে দেশের ১৪ টি রাজ্যের একাধিক জায়গার লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষিত হচ্ছে। আর তাতে যেমন দেখা যাচ্ছে যে বাংলা জুড়ে কেবলই সবুজ সুনামি শুরু হয়েছে, তেমনই দেশের বাকি রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের ভোট অঙ্কে কোন রাজ্যে কী কী ট্রেন্ড উঠে আসছে তাও স্পষ্ট। দেখা যাক একনজরে এই রাজ্যগুলির ভোটিং ট্রেন্ড।

বাংলার ট্রেন্ড একনজরে
এদিন, কার্যত ২০১৯ সালের লোকসভার গেরুয়া ঝড়কে মাত দিয়ে সবুজ আবিরে বাংলার চারটি কেন্দ্র নিজেকে রাঙিয়ে দিয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট থেকে বিজেপির যে উত্থান দেখা গিয়েছিল, সেই মাটি দখলের রাজনীতিতে গেরুয়া শিবির যে অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছে, তার প্রমাণ মিলল ২০২১ সালের ২ রা নভেম্বর উপনির্বাচনে বাংলার ফলাফলে। এদিন, গোসাবায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩১৮ ভোটে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে তৃণমূলকে। শান্তিপুরে ১০ রাউন্ডে ৩২ হাজার ৯৯০ ভোটে কার্যত বাজিমাত করে দিয়েছে বিজেপি।
বিজেপির দখলে থাকা দিনহাটা ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫ ভোটে জিতে নিয়েছেন উদয়ন গুহ। অন্যদিকে, খড়দহে যে শুধুই তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এগিয়ে রয়েছেন তা নয়। এই খড়দহ এলাকায় বিজেপিকে গুনে গুনে কার্যত গোল দিয়েছে সিপিএমও। বামেরা এই কেন্দ্রে কয়েক দফার গণনার পর দ্বিতীয় স্থানে থেকে বিজেপিকে তৃতীয় স্থানে সরিয়ে দিয়েছে। ফলে ২রা নভেম্বরের ফলাফল বাংলার কাছে বেশ প্রসঙ্গিক।

বিজেপি বিরোধী হাওয়া নগর হাভেলি থেকে রাজস্থানে
উল্লেখ্য, কংগ্রেসশাসিত রাজস্থানের বল্লভনগর ও দারিয়াওয়াড়ে এগিন উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হচ্ছে। গণনার শুরু থেকেই এখানে কার্যত মাত দিয়েছে কংগ্রেস। রাজস্থান কংগ্রেসে যেখানে ভাঙনের কাহিনি বারবার উঠে এসেছে সেখানে এমন জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া কংগ্রেসের পক্ষে তাৎপর্যবাহী। অন্যদিকে, দাদরা ও নগরহাভেলি উপনির্বাচনে মারাঠাভূমের ট্রেন্ড ধরেই বাজিমাত করেছে শিবসেনা। অন্ধ্রপ্রদেশে শাসক দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস ফের একবার জগন্মোহন রেড্ডির মুখে হাসি ফুটিয়ে বাদভেল কেন্দ্র ছিনিয়ে নিচ্ছে। সেখানে ৯০ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছে জগনের প্রার্থী।

কর্ণাটক থেকে মিজোরামে কী পরিস্থিতি?
কর্ণটকে কার্যত কাঁটে কি টক্কর এ বিজেপি-কংগ্রেস ভোট যুদ্ধ জারি। বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে হানাগল কেন্দ্রে কংগ্রেস লিড ধরে রাখার ট্রেন্ডে রয়েছে। অন্যদিকে, সিন্দগি কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে গিয়েছে। মিজোরামে তুইরাল কেন্দ্র থেকে এমএনএফ প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।

বিজেপি শাসিত রাজ্যে কী পরিস্থিতি?
এদিকে, বাংলায় যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল বিজেপিকে কার্যত কোণঠাসা করে দিল ৩০ অক্টোবরের উপনির্বাচনে, অন্যদিকে, বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশে বিজেপি একাই দখলে রেখেছে উপনির্বাচনের আসনগুলি। তিনটি বিধানসভা ও লোকসভা আসনে সেখানে জায়গা ধরে রেখেছেন বিজেপি প্রার্থীরা। মধ্যপ্রদেশের খন্ডওয়া, সাতনা, রায়গাঁও, জোবাত কেন্দ্রে দাপটে উড়ছে বিজেপির পতাকা। বিজেপির শাসনে থাকা হিমাচল প্রদেশে প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও, মন্ডি কেন্দ্রে এদিন বেলা গড়াতেই এগিয়ে যায় কংগ্রেস। উপনির্বাচনের ফলাফলের ট্রেন্ডে ওই রাজ্যে আরকি ও ফতেহপুরেও এগিয়ে কংগ্রেস। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংয়ের স্ত্রী প্রতিভা সিং এই কেন্দ্রে প্রার্থী।

হরিয়ানা-বিহারে বিজেপি শরিকদের অঙ্ক
উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে অন্যতম বড় ফ্যাক্টর হতে পারে হরিয়ানা ও বিহারের ভোট অঙ্ক। এই দুই রাজ্যে ভোটের লিটমাস টেস্টে শক্তি পরীক্ষায় নেমেছে বিজেপির শরিক জেজেপি ও জেডিইউ। হরিয়ানায় বিজেপির শরিক জননায়ক জনতা পার্টি ও বিজেপি জোট এলানাবাদ কেন্দ্রে লড়ছে। সেখানে সকাল থেকে আইএনএলডির অভয় চৌতালা এগিয় থাকলেও বেলা বাড়তেই তাঁর ভোট অঙ্ক নামছে। এদিকে, বিহারে বিজেপির শরিকদল নীতীশ কুমারের জেডিইউকে চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছে লালু পক্ষের আরজেডি। কুশ্বেশ্বরা অস্থানের উপনির্বাচনে জেডিইউ এগিয়ে, তারাপুরে এগিয়ে আরজেডি।

অসম-তেলাঙ্গানায় গেরুয়া ঝড়!
বিজেপি শাসিত অসমের পাঁচটি আসনেই বিজেপি ও তার শরিকরা সকাল থেকেই এগিয়ে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার শাসিত অসম কার্যত দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের মুখে এদিন হাসি ফোটাতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে অসমের ভবানীপুর, মারিয়ানি, থোরওয়াতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। শরিক ইউপিপিএল এগিয়ে তমালপুর ও গোসাইগাঁওতে। এদিকে, আঞ্চলিক দল টিআরএস শাসিত তেলাঙ্গানায় এতালা কেন্দ্রে পদ্মফোটানোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। নিকটবর্তী টিআরএস প্রার্থীকে বিজেপি জোরদার মাত দিচ্ছে বলে খবর। অন্যদিকে, এই রাজ্যের হুজুরাবাদ কেন্দ্রেও এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications