'মৃত পিতা'-র নির্দেশে বুরারির ভাটিয়া পরিবারে চলত 'বট তপস্যা', চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ডায়েরির নোট

বুরারি মৃত্যুর ঘটনায়, ললিত ভাটিয়াই, সম্ভবত তার 'মৃত পিতা'-র নির্দেশে ঝুলন্ত আচারানুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন।

দিল্লির বুরারির ভাটিয়া পরিবারের ১১ সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় বেশ কিছুদূর এগলো পুলিশ। তাদের অনুমান নারায়ণ দেবীর বড় ছেলে ললিত ভাটিয়ার নেতৃত্বেই পরিবারের সদস্যরা কোনও তান্ত্রিক আচারানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। ডায়েরির নোটের লেখার সঙ্গে ললিতের হাতের লেখা মিলে গিয়েছে।

মৃত পিতা-র নির্দেশেই ঝুলে পড়ল দিল্লির পরিবার

এই মামলায় পুলিশ এক 'বাবা'র সন্ধান করছিল। তল্লাশিতে পাওয়া ডায়েরির নোট দেখে তারা অনুমান করেছিল ভাটিয়া পরিবারে তন্ত্র-মন্ত্রের সাধনা চলত। কাজেই কোনও বাবাজীর নির্দেশেই তারা আত্মঘাতি হয়েছেন বা পরিবারের কেউ বাকিদের হত্য়া করে নিজে আত্মঘাতি হয়েছেন বলেই সন্দেহ ছিল পুলিশের। অবশেষে সেই বাবার সন্ধান মিলল। তিনি আর কেউ নন, ভাটিয়াদের নিজের বাবা, অর্থাত নারায়ণ দেবীর স্বামী।

মৃত পিতা-র নির্দেশেই ঝুলে পড়ল দিল্লির পরিবার

বহু বছর আগেই তিনি গত হয়েছেন। কিন্তু ললিতের ডায়েরির লেখায় দেখা গিয়েছে ললিত দাবি করতেন, স্বপ্নে তাঁকে দেখা দিতেন তাঁর মৃত বাবা। শুধু দেখা দেওয়াই নয়, ব্যবসা চালানো থেকে পরিবারের দেখাভাল - সব ব্যাপারেই ললিতকে নির্দেশ দিতেন 'তিনি'। ললিত তাঁর অনুমতি বা নির্দেষ ছাড়া কিছুই করতেন না।

ডায়েরিতে আরও বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। তাতে ভাটিয়া পরিবারের সঙ্গে তন্ত্রের যোগ দৃঢ় হয়েছে। জানা গিয়েছে বাবার নির্দেশে, গোটা পরিবার 'বট তপস্য়া' বলে একপ্রকার সাধনা করতেন। স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে বটের ঝুড়ি-কে পুজো করার কথা।

নির্দেশ আছে কিভাবে সেই সাধনা করতে হবে তারও। বলা হয়েছে, সাধককে এমনভাবে ঝুলতে হবে, যেন দেখে মনে হয় বটের ঝুড়ি। বলা হয়েছে, চিন্তা না করে চিন্তন অর্থাত ধ্যান করতে। সিলিং থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতে হবে, এমন স্পষ্ট লেখা না থাকলেও পুলিশ মনে করছে রবিবার রাতে এই সাধনাকেই চুড়ান্ত রূপ দিয়েছেন ভাটিয়ারা।

মৃত পিতা-র নির্দেশেই ঝুলে পড়ল দিল্লির পরিবার

ডায়েরির লেখা থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, এর আগেও বেশ কয়েকবার ভাটিয়া পরিবারের সদস্যরা এই তপস্যায় সামিল হয়েছিল। চিন্তা মুক্ত হয়ে চিন্তন করার জন্য তারা হাত পা এবং চোখ মুখ বেঁধে রাখতেন। কানে গুজে দিতেন ইয়ারপ্লাগ। সাধনা সমাপ্তির পর পরিবারের সদস্যরা একে অপরের হাত মুখ পায়ের বাঁধন খুলে দিত, একথারও উল্লেখ আছে।

পুলিশ মনে করছে ললিত ভাটিয়া মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন। রাতে স্বপ্নে বাবা যে নির্দেশ দিতেন তা ডয়েরিতে লিখে রাখতেন ললিত। কোন কোন দিন তার নিচে তারিখের উল্লেখ আছে, কোনওদিন তারিখ উল্লেখ করেও পরে কেটে দেওয়া হয়েছে। গত জানুয়ারি মা, থেকে ললিতের লেখার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছিল। প্রায়দিনই তাঁর স্বপ্নে আসতেন বাবা। শুধু তাই নয়, ডায়েরিতে ললিত শেষের দিকে বাবার নির্দেশ লিখেচেন তাঁর বাবার বয়ানেই। এক জায়াগায় তিনি লিখেছিলেন, 'ললিতের স্বাস্থ্য নিয়ে ভেব না। আমি আসি তার প্রভাব পড়ে ওর শরীরে'। এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে ডায়েরিটি কোনও মনোবিশ্লেষককে দেখানোর কথা ভাবছে পুলিশ।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+