চুশুলে শেষ ভারত-চিন ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের বৈঠক! লাদাখে পরবর্তী কোন পদক্ষেপ সেনার?
এদিন ফের এক প্রস্থ বৈঠকে বসেন চিনের এবং ভারতের সেনা আধিকারিকরা। লাদাখের চুশুলে এদিন ১১টার সময় বৈঠক শুরু হয় দুই দেশের ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের। ৪ ঘণ্টার সেই বৈঠকের পরও অবশ্য অচলাবস্থা জারি থাকল সীমান্তে। তবে পরবর্তীতে ফের বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দুই তরফের সেনার তরফেই।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের সেনা আধিকারিকরা
এদিন বৈঠকে ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দার সিং। চিনের পিএলএর তরফে এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল লিউ লিন। এর আগে গতরাতেই লাদাখ ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে অস্থিরতা
বিগত চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েই এই বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ১৫ জুনের সংঘর্ষের পর থেকেই গত কয়েক দশকের মধ্যে সবথেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ভারত-চিন সম্পর্ক। লাদাখ ইস্যুতে মোদী-ডোভাল হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর এদিন সেনার এই বৈঠকের উপর নজর ছিল সবার।

দুইপক্ষের সেনার মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গা একেবারেই তলানিতে
সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দুইপক্ষের সেনার মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গা একেবারেই তলানিতে। প্যাংগং লেক - চূশুল এলাকায় চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছে সেনা, ট্যাঙ্ক ও হুইটজার মোতায়েন করেছে। প্রসঙ্গত, ৭ সেপ্টেম্বর চিনের লিবারেশন আর্মি ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করার উসকানিমূলক পদক্ষেপকে ব্যর্থ করে ভারতীয় সেনা। সেই থেকেই দুই দেশের সেনা পর্যায়ে বৈঠক শুরু হয়।

জয়শঙ্কর এবং চিনের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক
পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ওয়াই গতকাল রাতে মস্কোয় মুখোমুখি বৈঠকে বসেন। বৃহস্পতিবার সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিয়ে জয়শঙ্কর ও ওয়াং ওয়াই লাদাখ ইস্যুতে বিস্তারে আলোচনা করেন বলে জানা যায়। তারপরই দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক হয় লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হচ্ছে চিনের
চিনা সেনা ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮-এর মধ্যে ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও। লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে গ্রিন টপের উপর থেকে চিনা সেনা দখলদারি সরাতে না চাওয়াতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হচ্ছে চিনের। প্যাংগং সোতে চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে।

চিনা সেনার গতিবিধির উপর নজর
এই কারণে, ভারতীয় সেনাও প্যাংগং লেক দক্ষিণে ঠাকুং থেকে গুরুং হিল, স্পাংগুর গ্যাপ, মাগর হিল, মুখপাড়ী, রেজাং লা এবং রেচিন লা এবং চুশুলের নিকটবর্তী অন্যান্য উঁচু এলাকাগুলিতে কৌশলগত অবস্থান নেয়। সেখান থেকে চিনা সেনার গতিবিধি আগে থেকে বুঝতে সুবিধা ভারতীয় সেনার।

চিনের তরফে ট্যাঙ্ক মোতায়েন৭
চিনের তরফে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি ট্যাঙ্ক মোতায়েন করা হয়েছে প্যাংগং এলাকায়। এছাড়া জানা গিয়েছে চিন প্যাংগং এলাকায় নিজেদের ৫ থেকে ৬ হাজার সৈন্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে। ভারতীয় সেনার অধীনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চূড়াগুলি দখলের উদ্দেশ্যেই সেখানে সৈন্য বহর বাড়াচ্ছে পিএলএ। তাছাড়া ট্যাঙ্ক স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করেছে চিন। পুরদস্তুর যুদ্ধের জন্যে তৈরি হচ্ছে তারা। তবে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পর পরিস্থিতি শান্ত হয় কি না এখন সেদিকেই চোখ সবার।












Click it and Unblock the Notifications