ভাঙছে শিশু শিক্ষার কোমর, স্কুল খোলার আশায় দিন গুনছেন অভিভাবকেরা! নয়া সমীক্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ
ভাঙছে শিশু শিক্ষার কোমর, স্কুল খোলার আশায় দিন গুনছেন অভিভাবকেরা! নয়া সমীক্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ
গত প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে গোটা পৃথিবীতেই দাপট দেখাচ্ছে মারণ করোনা। দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থেকেছে আম-আদমি। অন্যদিকে করোনা ফাঁড়ায় বন্ধ হয়েছে স্কুল কলেজের দরজা। যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে যুবসমাজের উপর। রাস্তা একমাত্র অনলাইনেও। কিন্তু ডিজিটাল ডিভাইড সহ একাধিক কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে সেই পন্থা। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামাঞ্চলের পড়ুয়ারা। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী ৩৭ শতাংশ শিশু মোটেও পড়াশোনা করছে না। মাত্র ৮ শতাংশ অনলাইনে নিয়মিত পড়াশোনা করছে।

কী বলছে সমীক্ষা রিপোর্ট
এই সমীক্ষা রিপোর্ট সামনে আসতেই নতুন করে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। এদিকে বর্তমানে দেশের ১৫ টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা "স্কুল চিলড্রেনস অনলাইন এবং অফলাইন লার্নিং (স্কুল)" নামের এই সমীক্ষাটি চালানো হয়। গোটা অগাস্ট ব্যাপী চলে এই সমীক্ষা। মূলত করোনার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর কী প্রভাব পড়েছে তা জানতেই চলে সমীক্ষা। আর তাতেই উঠে আসে এই উদ্বেগজনক ফল।

কোন কোন রাজ্যের উপর চলে সমীক্ষা
লকড আউট: স্কুল এডুকেশনের জরুরী প্রতিবেদন' নামের অপর একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে বর্তমানে ৪৮ শতাংশেরও বেশি শিশু কয়েকটি শব্দের বেশি পড়তে অক্ষম। অসম, বিহার, চণ্ডীগড়, দিল্লি, গুজরাত, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের ১৩৬২ টি পরিবারের উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটা পরিবারের কমপক্ষে একটি শিশু প্রাথমিক (ক্লাস ১ থেকে ৫) বা উচ্চ-প্রাথমিক (ক্লাস ৬-৮) স্তরে পড়াশোনা করছে বলে জানানো হয়েছে।

কয়েকটি শব্দ ছাড়া কিছুই শেখেনি শিশুরা
সমীক্ষায় দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলে ২৮ শতাংশ শিশু নিয়মিত পড়াশোনা করছে। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ শিশু একেবারেই পড়াশোনা করছে না। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় অর্ধেক শিশু কয়েকটি শব্দের বেশি পড়তেই পারেনি। এদিকে বেশিরভাগ অভিভাবকরাই মনে করছে লকডাউনের কারণেই তাদের সন্তানের পড়া ও লেখার দক্ষতা কমেছে। তাদের সিংহভাগই চাইছেন পুনরায় চালু হোক স্কুল।

কী চাইছেন অবিভাবকেরা ?
সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ এলাকার ৯৭ শতাংশ অবিভাবকই চাইছেন দ্রুত তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে। শহরের ক্ষেত্রে এই হার ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে করোনার জেরে শিক্ষক-ছাত্র বোঝাপড়ার ক্ষেত্রেও বড়সড় পারাপতন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের গত ৩০ দিনে শিক্ষকের মুখই দেখেনি ৫৮ শতাংশ পড়ুয়া। শহরের ক্ষেতেরে এই হার ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে গত তিন মাসে গ্রামের ৭১ শতাংশ পড়ুয়া কোনোরূপ পরীক্ষাই দেয়নি বলেও জানা যাচ্ছে। শহরের ক্ষেত্রে এই হার ৫২ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications