মাখনের প্রলেপ লাগানো বক্সার দড়িতেই হবে নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি

মাখনের প্রলেপ লাগানো বক্সার দড়িতেই হবে নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি

নির্ভয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার চার সাজাপ্রাপ্ত দোষীকে একই সময়ে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে হবে। তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে এখন এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জেলের ইতিহাসে এই প্রথমবার একই ফাঁসিকাঠে একসঙ্গে ঝোলানো হবে নির্ভয়ার দোষীদের। সূত্রের খবর, চারজনকে একই ফাঁসিকাঠে দাঁড় করানোর জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এবং ফাঁসিকাঠের ডিজাইনও কিছুটা বদল হতে পারে। এছাড়াও চার দোষীর ওজন বহন করতে পারছে কিনা সেদিকটাও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

কিভাবে দেওয়া হবে ফাঁসি

কিভাবে দেওয়া হবে ফাঁসি

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, একই সময়ে চারজন দোষীকে ফাঁসিকাঠে ঝোলানো বাধ্যতামূলক। চারজনের মধ্যে যদি কোনও সাজাপ্রাপ্ত দোষী অসুস্থ হয়ে পড়ে বা আতঙ্কের কারণে বেহুঁশ হয়ে পড়ে তবে ফাঁসির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। দোষীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কমপক্ষে তিনঘণ্টা আগে দু'‌টো মহড়া দিয়ে নেওয়া হবে, যাতে ওজন সংক্রান্ত কোনও সমস্যা না হয়। জেল কর্তৃপক্ষ গোটা পদ্ধতির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। যদিও তিহার জেলের ফাঁসিকাঠে দু'‌জনকেই একই সময়ে ফাঁসি দেওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে।

কবে থেকে শুরু হল ফাঁসিকাঠের রেওয়াজ

কবে থেকে শুরু হল ফাঁসিকাঠের রেওয়াজ

জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ফাঁসিকাঠ সহ ফাঁসির মঞ্চের সূচনা হয় ১৯৫০ সালের গোড়ার দিকে। ফাঁসিকাঠটি দুটি কংক্রিট স্তম্ভের উপর ধাতব ক্রসবার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যার উপর ঝুলন্ত দড়ির জন্য ছিদ্র করা হয়। তিহার জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন আবহাওয়ার কারণে ধাতব স্তম্ভটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ বলে, ‘‌আমরা ওই স্তম্ভটির কতটা জোর রয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখব। অতিরিক্ত কিছু নির্মাণ কাজ করতে হতে পারে, যাতে স্তম্ভের ক্ষমতা ও দৈর্ঘ্য কিছুটা বাড়ে।'‌

ফাঁসির প্রস্তুতি

ফাঁসির প্রস্তুতি

জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আটটি মজবুত দড়ি বক্সার জেলের বন্দিরা তৈরি করছে। এই দড়িগুলিকে মানিলা দড়ি বলে। এই দড়িগুলি নরম তুলো দিয়ে তৈরি হয়। মাখন বা মোম দিয়ে দড়িগুলিকে নরম ও মজবুত করতে ব্যবহার করা হয়। জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘‌ফাঁসির সময় যাতে সাজাপ্রাপ্ত আসামির গলা কেটে না যায়, সেজন্য এই পদ্ধতিতে দড়ি তৈরি করা হয়। দড়িতে প্রচুর গিঁট থাকে এবং সেগুলিতে মাখন মাখানো হয়। যাতে এটি ধীরে ধীরে গলায় বেঁধে যায় এবং আসামির ঘাড়ে চাপ দেয় এবং কম বেদনাদায়ক মৃত্যু দেয়।'‌ বক্সার দড়ি এর আগে ধর্ষণ ও খুনের মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। কলকাতার আলিপুর জেলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

নতুন জেলের নিয়ম অনুযায়ী

নতুন জেলের নিয়ম অনুযায়ী

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষমাপ্রার্থনার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ১৪ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে এবং তাদের পরিবারকে জানাতে হবে। আসামিকে এরপর সুন্দর এবং নির্জন সেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, যেখানে সে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবে। আসামি নিজের ইচ্ছার কথা রেকর্ড করতে পারবে এবং ব্যক্তিগত জিনিস পরিবারের হাতে তুলে দিতে হবে। ফাঁসির আগে তাদের পছন্দের খাবার খেতে পারবে তারা। এইসময় আসামিদের ধর্মীয় বাণী শোনানো হয়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+