সীমান্ত আগ্রাসন হোক বা টিকা রাজনীতি, চিনকে চাপে রেখে কোয়াড সামিটে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ভারত
সীমান্ত আগ্রাসন হোক বা টিকা রাজনীতি, চিনকে চাপে রেখে কোয়াড সামিটে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ভারত
লাদাখ সীমান্তে জিনপিং-সেনার বাড়বাড়ন্ত হোক বা দক্ষিণ-চিন সাগরে শক্তিপ্রদর্শন, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে ক্রমশ মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে চিন। পাশাপাশি পড়শী পাকিস্তানের সাথে হাত মিলিয়ে ভারতকে নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিন, মত আন্তর্জাতিক মহলের। এহেন অবস্থার মাঝেই শুক্রবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়া, জাপান, আমেরিকা ও ভারতের 'কোয়াড সামিটে' আলোচিত হল চিন আগ্রাসনের পাল্টা জবাব নিয়ে। স্বভাবতই এহেন বৈঠকে বেশ চিন্তিত বেজিং।

ভারতীয় উপমহাদেশে ভ্যাকসিন সরবরাহের নয়া কৌশল
এদিকে চিনকে কোণঠাসা করতে করোনা প্রতিষেধককে হাতিয়ার করতে চাইল চার দেশের প্রধানরা। কূটনৈতিক মহল সূত্রে খবর, ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি বজায় রাখতে ভারতে কোভিড প্রতিষেধক উৎপাদনে সাহায্য করবে আমেরিকা ও জাপান, অন্যদিকে ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা করবে অস্ট্রেলিয়া। একদিকে বৈঠক থেকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন যেমন শান্তির বার্তা দেন, তেমনই প্রতিষেধক, জলবায়ু পরিবর্তন ও বিপজ্জনক প্রযুক্তির ব্যাপারে নিজের দুশ্চিন্তা ব্যক্ত করেন মোদী।

২০২২ শেষের আগেই ১০০ কোটি ডোজ
ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শৃংলার মতে, আমেরিকা-জাপানের সাহায্যে বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদক হিসেবে প্রতিষেধক উৎপাদন করবে ভারত, পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে ডোজ সরবরাহের ক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্যের দায়িত্ব নেবে অস্ট্রেলিয়া। সূত্রের খবর, ভারতীয় উপমহাদেশের উন্নতির লক্ষ্যে ২০২২ শেষের আগেই ভারতে ১০০ কোটি ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে এই চার দেশ। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনেও যে প্ৰস্তুত ভারত, তা জানান শৃংলা।

লাদাখ চাপানৌতর নিয়ে ভারতের পাশে কোয়াড
এহেন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ না জানালেও সামিটে যে লাদাখ সংঘর্ষের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা জানিয়েছেন শৃংলা ঘনিষ্ঠরা। আধিকারিকদের মতে, লাদাখ সীমান্তে চিন-ভারত সেনার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যে ভারতের পক্ষ নিয়েছে বাকি তিন দেশ। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান 'চিন সমস্যা'-কে যৌথভাবে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। ভারতীয় উপমহাদেশে চিনের লাগাতার শক্তিপ্রদর্শন রুখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, খবর সূত্রের।

আর কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হল ?
সরকারি আধিকারিকদের মতে, সামরিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চিনের হাত থেকে ভারতীয় উপমহাদেশকে মুক্ত ও স্বাধীন করার লক্ষ্যে চারদেশের দেশনায়করা হাত মিলিয়েছেন। পাশাপাশি বৈঠকে করোনা-পরবর্তী সময়, ভ্যাকসিন উৎপাদন-সরবরাহ, সামরিক প্রযুক্তির চোখরাঙানি, সমুদ্র নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় বলে খবর সূত্রের। নথি বলছে, ২০০৭ সালে এই 'কোয়াড' দল গঠনের চেষ্টা করেন জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং তাকে সহায়তা করেন তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।












Click it and Unblock the Notifications