হিন্দু পণ্ডিত-শিখদের খুন রক্তাক্ত উপত্যকা, গত দু’দিনে কাশ্মীরে আটক ৭০০-র বেশি ‘সন্ত্রাসী সমর্থক’
গত দু’দিনে জম্মু-কাশ্মীরে আটক ৭০০-র বেশি ‘সন্ত্রাসী সমর্থক’
গত কয়েকদিন ধরে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি। গত ৬ দিনে জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর পরিবর্তে একের পর এক হামলা হয়েছে সাধারণ মানুষের উপরে। মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এমতাবস্থায় শনি ও রবিবার মিলিয়ে ৭০০ বেশি 'সন্ত্রাসী সমর্থক’কে আটক করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে৷ গত ৭ জন কাশ্মীরী পণ্ডিত, সাধারণ মানুষ ও মুসলিম নাগরিকদের হত্যার অভিযোগেই মূলত তাদের আটক করা হয়েছে বলে খবর।

আরও বাড়তে পারে গ্রেফতারির সংখ্যা
আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত প্রায় ১ মাসের বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত হয়ে আছে উপত্যকা। তবে গত সপ্তাহে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। একের পর এক সাধারণ মানুষকে খুন করতে শুরু করে সন্ত্রাসীরা। অভিযোগ, বেছে বেছে হিন্দু পণ্ডিত এবং শিখদের খুন করা হচ্ছে। আর তারপরেই জঙ্গি দমনে নতুন করে সক্রিয়তা বাড়ায় সেনা।

গত সপ্তাহ থেকেই বাড়তে থাকে উত্তেজনা
এদিকে গত বৃহস্পতিবার শ্রীনগরে সুপেন্দর কউর ও দীপ চাঁদ নামে দুই শিক্ষককে গুলি করে মারে হামলাকারীরা। তাতে আরও বাড়ে উত্তেজনা। এদিকে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় দিল্লিও। সম্প্রতি জরুরি বৈঠকও সেড়ে ফেলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। ওই বৈঠকে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও। এদিকে এই বৈঠকের পরেই দিল্লি থেকে কাশ্মীরে রওনা হয় বিশেষ দল। তবে গোয়েন্দাদের অনুমান আগামী কয়েকদিনে কাশ্মীরে সন্ত্রাসের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

কোন কোন এলাকায় সর্বোচ্চ গ্রেফতারি
এদিকে গত দুদিনে যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে সন্দেহ করছে সেনা। এমনকী একই কথা বলছেন গোয়ান্দারাও। অন্যদিকে অন্যান্য সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে যুক্ত ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারও রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে যারা নিষিদ্ধ ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত তাদের খুঁজে বের করতে সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শ্রীনগর, বুদগাম সহ দক্ষিণ কাশ্মীরের একাধিক জায়গার বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে।

সরব ওমর আবদুল্লা
এদিকে গত বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে নিরীহ মানুষের উপরে হামলা নিয়ে সরব হয়েছিলেন ন্যাশনাল কন্ফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা। এমনকী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারার জন্য কেন্দ্রের দিকেও আঙুল তোলেন তিনি। এমনকী বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও কী লাভ হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে তালিবান উত্থানের পর থেকেই ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে থাকে কাশ্মীর। আর তাতেই স্নায়ুর চাপ বেড়েছে নয়া দিল্লির।












Click it and Unblock the Notifications