উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ঝড়! ৩ সপ্তাহে মৃত ২,১০০, সংক্রমণে ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ঝড়! ৩ সপ্তাহে মৃত ২,১০০, সংক্রমণে ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি
করোনার ভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গের গতি গোটা দেশে সবেমাত্র স্তিমিত হতে শুরু করেছে। যদিও এরই মধ্যে মাথা চাড়া দিয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস মহামারী। কোভিডকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে কালো ছত্রাকের করাল ছায়া। নাক-মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ফুসফুস সহ অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করে ক্রমশ চিন্তা বাড়াচ্ছে ছত্রাক। প্রায় ৫০% মৃত্যুহারের কারণে নাগরিকদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে ছত্রাক-আতঙ্ক!

তিনসপ্তাহে ছত্রাকের আক্রমণে বৃদ্ধি ১৫০%
'ব্ল্যাক ফাঙ্গাস', যার পোশাকি নাম 'মিউকরমায়োসিস', আদতে আক্রমণ করছে কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের। প্রায় ৫০% মৃত্যুহারের কারণে আতঙ্ক ছিলই, এখন গত তিনসপ্তাহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রমণ প্রায় ১৫০% বেড়ে যাওয়ায় ত্রাহি ত্রাহি রব দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায়! স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসাবে, ৩ সপ্তাহে দেশে কৃষ্ণ ছত্রাকে আক্রান্ত ৩১,২১৬ জন, মৃত ২,১০৯ জন। গবেষকমহলের দাবি, এমফোটেরিসিন-বি ওষুধের অপর্যাপ্ততার কারণেই ছত্রাকের এই বাড়বাড়ন্ত!

ছত্রাক হানার তালিকাতেও সর্বাগ্রে মহারাষ্ট্র
কোভিডের মতো কালো ছত্রাক আক্রান্ত রাজ্যের তালিকাতেও পয়লা নম্বরে মহারাষ্ট্র। উদ্ধব ঠাকরের রাজ্যে ছত্রাক হানায় আক্রান্ত ৭,০৫৭, মৃত ৬০৯ জন। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাট ও রাজস্থান। ২৫শে মে মহারাষ্ট্রে ২,৭৭০ ও গুজরাটে ২,৮৫৯ টি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কেসের খবর মেলে। অন্যদিকে বুধবার পর্যন্ত ছত্তিশগড়ে ফাঙ্গাস হানার কবলে পড়েছেন ২৭৬ জন। অন্যান্য রাজ্যেও ক্রমশ বাড়ছে ছত্রাক সংক্রমণ।

ফাঙ্গাস হানায় কমছে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা
ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্য আধিকারিকের মতে, "ছত্তিশগড়ে ফাঙ্গাস হানায় মৃত ২৮ জনের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু নিতান্ত ছত্রাক হলেও ১১ জনের মৃত্যু ভিন্ন ভিন্ন স্বাস্থ্যজনিত কারণে হয়েছে।" ছত্তিশগড়ের রায়পুরের এইমসে ক্রমশ বাড়ছে ছত্রাক আক্রান্ত রোগীর ভিড়। কালো ছত্রাকের বেনজির আক্রমণে যে দফারফা হচ্ছে শরীরের রোগ প্রতিরোধী শক্তির, সে বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন গবেষকরা।

দিল্লিতে ছত্রাক কবলিত ১,২০০
দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসাব অনুসারে, উত্তরপ্রদেশে ছত্রাক কেসের সংখ্যা ১,৭৪৪, মৃত ১৪২ জন, দিল্লিতে ১,২০০ আক্রান্ত ও মৃত ১২৫। যদিও মে মাসের শেষের দিকে যোগীর রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭০১ ও রাজধানীতে ১১৯ জন। করোনাবিদদের মতে, কোভিড আক্রান্ত রোগীরা সেরে উঠলেও দেহের রোগ প্রতিরোধী শক্তির দুর্বলতার সুযোগে দেহে বাসা বাঁধছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। ডায়াবেটিসের মতো কো-মর্বিডিটিতে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে কৃষ্ণ ছত্রাক, মত গবেষকদের।












Click it and Unblock the Notifications