বিহারে রাজনৈতিক অস্থিরতা, লালুর ওপরে 'বিরক্ত' নীতীশ কুমার! এনডিএতে ফিরতে বড় শর্ত বিজেপি নেতার
দলে বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন করলেন জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার। তবে এর আগে বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উসকে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি বিবৃতি। তারপর থেকে বিহারে রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ জেডিইউ এবং নীতীশ কুমারের এনডিএ-তে ফেরা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অমিত শাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল নীতীশ কুমারের জন্য কি এনডিএ-র দরজা খোলা? সেই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রস্তাব এলে বিবেচনা করে দেখা হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের পরে বিহারের রাজনৈতিক মহলে জেডিইউ ও আরজেডির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিহারের বিজেপি নেতা সঞ্জয় সারাওগি বলেছেন, নীতীশ কুমার আতর দলের সদস্যপদ নিলে তবেই তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। তিনি আরও বলেছেন, নীতীশ কুমার বর্তমানে কংগ্রেস, লালু ও তেজস্বীর সঙ্গে ইন্ডিয়া ব্লকে রয়েছেন। কিন্তু ইন্ডিয়ার কোনও ভবিষ্যত নেই। সেখানে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোন্দলও রয়েছে। নীতীশ কুমার যদি বিজেপির সদস্যপদ নিয়ে দলে যোগ দেন, তাহলে তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত গেরুয়া শিবির।

অন্যদিকে জেডিইউ চাপের রাজনীতি বজায় রেখেছে। তারা বলছে নীতীশ কুমার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা। তাঁকে ইন্ডিয়া ব্লকের মুখ করতে হবে। জেডিএই নেতা ও বিহারের মন্ত্রী সজামা খান বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনে নীতীশ কুমারকে মুখ করে ইন্ডিয়া ব্লকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। তাঁদের নেতার গায়ে কোনও দাগ নেই দাবি করে ওই নেতা বলেছেন, নীতীশ কুমার সব জাতি-ধর্মকে সঙ্গে নেন। তাঁর থেকে ভাল ভাবমূর্তিক আর কোনও নেতা হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন ওই নেতা।
এদিকে রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টির সভাপতি উপেন্দ্র কুশওয়াহা বলেছেন, নীতীশ কুমার এনডিএ-তে যোগ দিতে পারেন। তিনি লালু প্রসাদ যাদবের প্রতি বিরক্ত বলেও দাবি করেছেন উপেন্দ্র কুশওয়াহা। তিনি আরও দাবি করেছেন, নীতীশ কুমারকে কষ্ট দিচ্ছে আরজেডি।
বিহারে বিজেপির সহযোগী তথা হিন্দুস্তান আওয়ামি মোর্চার প্রধান জিতেন রাম মাঞ্ঝি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রামলালার অভিষেক অনুষ্ঠানের পরে এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে রাজ্যে বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
ইতিমধ্যে অবশ্য নীতীশ কুমার দলে সাংগঠনিক পরিবর্তন করে কেসি ত্যাগীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। সেখানে দলের পুরনো নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ বরিষ্ঠ নারায়ণ সিংকে জেডিইউ-এর জাতীয় সভাপতি করা হয়েছে। এই পরিবর্তনে লালন সিংকে জায়গা দেওয়া হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications