TMC BJP at ECI: ভূতুড়ে ভোটার! দিল্লিতে কমিশন-দরবারেও তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথ, সব দলের পরামর্শ চাইল সংস্থা
BJP TMC at ECI: ভূতরে ভোটার ইস্যুতে এবার দিল্লিতেও শোরগোল। বাংলা ছেড়ে সটান দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) দফতরে হাজির তৃণমূল বিজেপি উভয় দলই। একই ইস্যুতে সকালে বিজেডি যায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে। বিকেলে কমিশনের দরবারে বঙ্গ বিজেপি। সন্ধেয় নির্বাচন কমিশনের দুয়ারে বাংলার শাসকদল তৃণমূলও।
ভোটার তালিকায় কারচুপি ইস্যুতে চাপ বাড়াতে নির্বাচন কমিশনে বিজেপি তৃণমূল। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে রাজ্য বিজেপি। রাজ্য বিজেপির ১০ জন সাংসদ দ্বারস্থ হয় নির্বাচন কমিশনের। অন্যদিকে, ভেতরে বিজেপি বৈঠক করার সময় বাইরেই অপেক্ষা করে তৃণমূল। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কমিশনে যায় তৃণমূলেরও ১০ জন সাংসদ।

বাংলায় ১৭ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের তালিকায় নাম রয়েছে বলে দাবি করেছিল রাজ্য বিজেপি। যদিও সেই দায় রাজ্যের শাসকদলের উপরেই বর্তাচ্ছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনকে মিথ্যে দোষারোপ করা হচ্ছে বলে এদিন এমনই মন্তব্য সুকান্ত মজুমদারের। তিনি বলেন, "নির্বাচনোত্তর ও নির্বাচনের পূর্বে যে হিংসা চলে, তাই ভোটার লিস্টে সংশোধন করা সম্ভব হচ্ছে না।"
কমিশনের লোকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এক্সটেনসিভ রিভিউ করুক, দাবি সুকান্তর। নতুন প্রযুক্তি দিয়ে ভোটার লিস্ট সংশোধন করারও দাবি তুলেছেন তিনি। তবে এবিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন কমিশন দেখার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান সুকান্ত। বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও কমিশন উদ্বিগ্ন বলে জানান তিনি। হিংসা আটকানো নিয়ে কমিশন ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে, বলেন সুকান্ত।
তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়ে এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, "ডুপ্লিকেট এপিকের নামে জলঘোলার চেষ্টা করছে তৃণমূল। তালিকা তৈরি করেন সিইও। মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো তালিকা থেকে সিইও নির্বাচন হয়। সবটাই রাজ্য সরকারের হাতে, কমিশনকে মিথ্যে দোষারোপ করা হয়েছে। তৃণমূল যদি অবাধ স্বচ্ছ ভোট করাতে চায়, তাহলে ভোটার কার্ড আর বায়োমেট্রিক অ্যাড করে দেওয়া হোক। তৃণমূলের হিম্মত নেই রাজি হওয়ার, আমরা রাজি আছি।"
এদিকে, ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে এবার সরাসরি অভিযোগ জানাতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাতে তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জনের প্রতিনিধি দল। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বর্ধমান - দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কীর্তি আজাদ, উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ, বোলপুরের সাংসদ অসিত পাল, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান, রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে ও প্রকাশ চিক বরাইক।
বৈঠক শেষে তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "নির্বাচন কমিশন বিগত কয়েক বছর ধরেই এরকম করছে। মানুষের ভরসার জায়গা চলে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কোনও পরিষ্কার উত্তর দেয়নি। সবাই মিলে কাজ করতে হবে আমরাও জানি। কত ডুপ্লিকেট এপিক রয়েছে, কমিশনের জবাব মেলেনি। কমিশনের জবাবে আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ এনেছেন, তার নিষ্পত্তি হয়নি।"
যদিও এদিন বিবৃতি জারি করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সমস্ত সর্বভারতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলির পরামর্শ চায় তারা। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সেই সমস্ত পরামর্শ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে কমিশন। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সংসদেও ঝড় তুলেছে বিরোধীরা। তৃণমূলের পাশাপাশি সংসদে সরব হন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।












Click it and Unblock the Notifications