২০২৪-এ আপকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভাবছেন মোদী-শাহরা, সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিজেপি
২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বিজেপির পক্ষে ভয়ের কারণ হতে পারে আম আদমি পার্টি। আম আদমি পার্টিকে এবারের লোকসভায় শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভাবছেন মোদী-শাহরা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করে আপকে নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে বিজেপি।
আম আদমি পার্টি ২০২৪-এর আগে শক্তিশালী হওয়ার সঙ্কল্প নিয়ে ময়দানে নেমেছে। আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে একমাত্রই আপই একাধিক রাজ্যে শাসন ক্ষমতায় রয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি তারা শাসক পাঞ্জাবে। আবার উত্তর ও পশ্চিম ভারতের অন্যান্য রাজ্যে তারা ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছে।

বিজেপিতে ভয়ের জন্ম দিয়েছে আপ
আপের বিস্তারে বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি সাময়িকভাবে সুবিধা পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে তা বুমেরাং হতে পারে বিজেপির কাছে, এমনটাই ধারণা মোদী-শাহদের। আপের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বিজেপিতে ভয়ের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি মনে করছে, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বাস্তাবিক অর্থেই চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে আপ।

জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান আপের
২০২৪-এর লোকসভার জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান ঘটতে পারে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। তাই তাদের নিয়ে সতর্ক থাকার কথা আলোচনা হয়েছে বিজেপির অন্দরে। আম আদমি পার্টি ঐতিহ্যশালী দলগুলির জন্য খতরনাক হতে পারে। এক্ষেত্রে তারা ইঙ্গিত করেছে কংগ্রেসের দিকে।

আম আদমি পার্টিই বিজেপির প্রতিপক্ষ!
বিজেপি মনে করছে, ভবিষ্যতে আম আদমি পার্টিই তাদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে। কংগ্রেসকে সরিয়ে প্রধান বিরোধী হয়ে উঠতে পারে তারা। তেমন আভাস মিলেছে বেশ কিছু রাজ্যে। পাঞ্জাবে কংগ্রেসের রাজপাট গিয়েছে আপের হাতে। আবার গুজরাতে কংগ্রেসকে লড়াই থেকে ছিটকে দেওয়ার পিছনে আম আদমি পার্টির ভূমিকা অগ্রাহ্য করা যাবে না।

ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ দিতে পারে আপ
আবার রাজস্থানেও পা দিয়েছে আম আদমি পার্টি। এ বছরের শেষেই ভোট রাজস্থান বিধানসভায়। এবারের ভোটকে ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ দিতে বদ্ধপরিকর কেজিরওয়ালের পার্টি। ফলে এবার রাজস্থানেও আপকে মোকাবিলা করতে হবে কংগ্রেসকে। বিজেপিকেও মোকাবিলা করতে হবে। তবে কংগ্রেসের থেকে আপকে মোকাবিলা করা বিজেপির পক্ষে সহজ অনেক।

আপ লোকসভা ভোটকেও গুরুত্ব দিচ্ছে
বিজেপি ২০১৯-এ পর্যাপ্ত প্রাধান্য রেখে জিতেছিল। এমনকী আপের শাসনাধীন দিল্লিতেও লোকসভা ভোটে কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল বিজেপি। কিন্তু আপ এবার লোকসভা ভোটকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তার কারণ দিল্লির পাশাপাশি পাঞ্জাবে তারা এখন পয়লা নম্বর শক্তি। এছাড়া উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের একাংশ, রাজস্থান, গুজরাতেও তাদের ইউনিট শক্তিশালী হচ্ছে।

ভোটে হেরে বিজেপি সরকার গঠন করছে
বিজেপি জানে লোকসভা ভোটে আপর তাদের এবার বেশ কিছফ রাজ্য বেগ দেবে। এমনিতেই বহু ক্ষেত্রে বিজেপি জিতছে বিরোধীদের ভোট ভাগাভাগির সুযোগ কাজে লাগিয়ে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই ভোটে হেরে সংখ্যগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও বিজেপি সরকার গঠন করছে 'ম্যানেজ' করে।

বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন কমল’-এর অভিযোগ
কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, মণিপুর, গোয়া, মেঘালয়-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে সরকার গঠন করেছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও। বিরোধী দলগুলি এক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে 'অপারেশন কমল'-এর অভিযোগ এনেছে। তারপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকেও ব্যবহার করে চলছে।

কংগ্রেসের প্রভাব খর্ব করতেই আপ-প্রভাব!
বিজেপির এই জোড় ফলায় বিরোধীরা সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু দলগত স্বার্থে তারা এখনও ঐক্য খুঁজে পায়নি। ফলে বিজেপির পোয়াবারো। তারপর আপকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি? কী এর কারণ? রাজনৈতিক মহলের একাংশ এ ব্যাপারে উল্টো ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, কংগ্রেসের প্রভাব খর্ব করতেই বিজেপি আপকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

আপ শক্তিশালী জাতীয় শক্তিতে পরিণত
দেশে আপের উত্থান হয়েছে বা হচ্ছেও। তারা একটি জাতীয় দলে পরিণত হয়েছে। এটাও ঠিক। আপের রাজনৈতিক বিরোধীরা তাদের দিল্লি-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল বলে বর্ণনা করলেও সম্প্রতি তারা জাতীয় পরিসরে বিস্তার লাভ করেছে। গত বছর পাঞ্জাবে আপের জয়, তারপরে গোয়া ও গুজরাতে নির্বাচনী সাফল্য আপকে শক্তিশালী জাতীয় শক্তিতে পরিণত করেছে।

তৃণমূল যা পারেনি আপ তা করে দেখিয়েছে
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে আপের এই উত্থান বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসকে ভাবাবেই। আপ যে নীরবে বাড়ছে, তা যে আগামী দিনে বিজেপি ও কংগ্রেসের কাছে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী রূপে অবতীর্ণ হতে পারে, তা নিশ্চিত। তৃণমূল যা পারেনি আপ তা করে দেখিয়েছে, যতই তৃণমূল সংসদীয় ক্ষেত্রে দেশরে তিন নম্বর দল হোক।












Click it and Unblock the Notifications