২০২২-এ উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু তাস বিজেপির! নজর সংখ্যালঘু মহিলা ভোটে
২০২২-এ উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু তাস বিজেপির! নজর সংখ্যালঘু মহিলা ভোটে
২০২২-এ নির্বাচন যোগী-রাজ্যে। একুশে বাংলার নির্বাচনে হারের পর সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে তৎপর বিজেপি। বিজেপি বুঝেছে সংখ্যালঘু ভোটকে উপেক্ষা করে ভোটে জেতা যাবে না। বাংলায় হয়নি, হবে না উত্তরপ্রদেশে। ২০১৭-য় ভোট ভাগাভাগি বিজেপিকে জয় এনে দিয়েছিল, এবার যোগীর রাজ্যে শুধু হিন্দুত্ব দিয়ে জয় হাসিল হবে না।

বেনজির সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান সংখ্যালঘু নেত্রীকে
বাংলার হার থেকে শিক্ষা নিয়ে তাই ২০২২-এর আগে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি তাই চিরাচরিত হিন্দুত্বকে বিসর্জন দিয়ে সংখ্যালঘু মন পেতে বেনজির সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দি্য়েছেন সংখ্যালঘু নেত্রীকে। বাংলার সংখ্যালঘু মোর্চার নেত্রীকে কেন্দ্রীয় সম্পাদক করা হয়েছে এবার।

২০২২-এ চার রাজ্যের নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের মন-জয় উদ্দেশ্য
বিজেপির এই সিদ্ধান্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের মন পাওয়ার জন্য নয়, ২০২২-এ উত্তরপ্রদেশ-সহ চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যে তিনটি রাজ্য বিজেপির দখলে। ক্ষমতা ধরে রাখতে তাই নতুন করে পরিকল্পনা করছে বিজেপি। তাই এমন একজন সংখ্যালঘু নেত্রীকে তুলে ধরা হচ্ছে, যাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে।

ইশরাতকে সামনে এনে তিন তালাক রদে মহিলা ভোটারে নজর
সংখ্যালঘু সমাজের বিজেপি নেত্রী ইশরাত জাহানকে এবার সংখ্যালঘু মোর্চার কেন্দ্রীয় সম্পাদক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে সংখ্যালঘু মোর্চাকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। বাংলার বিজেপ নেত্রী ইশরাত জাহান তিন তালাক বিলোপের জন্য মামলা করেছিলেন। সেই সূত্রেই দেশ চেনে তাঁকে। তাঁকে সামনে এনে মুসলিম মহিলাদের নিজেদের দিকে টানতে চাইছে বিজেপি।

ইশরাতকে কেন্দ্রীয় পদ, সংখ্যালঘু-ভোট বিজেপির পাখির চোখ
তিন তালাক বিলের মামলা থেকেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে ইশরাতের। তিন তালাক বিল পাসের পর ইশরাতকে বিজেপিতে নেওয়া হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। এবার তাঁকে কেন্দ্রীয় পদ দিয়ে বিজেপি একপ্রকার বুঝিয়েই দিয়েছে সংখ্যালঘু সমাজের ভোট এখন তাঁদের পাখির চোখ। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে সংখ্যালঘু তাস খেলতে চাইছে বিজেপি।

কেন্দ্রীয় নেতা ও সংখ্যালঘু মুখ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে ইশরাতকে
বিজেপির মহিলা মোর্চার সংখ্যালঘু শাখার আহ্বায়ক ছিলেন ইশরাত। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রচারকের তালিকাতেও রখে হয়েছিল। তিনি প্রচারও করছিলেন বিজেপির হয়ে। কিন্তু কাঙ্খিত সাফল্য আনতে পারেননি। তবে তাঁকে কেন্দ্রীয় নেতা ও সংখ্যালঘু মুখ হিসেবে তুলে ধরে তিন তালাক রদে মহিলাদের কাছে টানতে পারবে বিজেপি।

হিন্দুত্বের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের মন জয় করেই এগোতে চাইছে বিজেপি
উত্তরপ্রদেশ-সহ যেসব জায়গায় বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে লংখ্যালঘুদের আস্থা অর্জন করতে হয়েছে, তারপরই সাফল্য এসেছে। বাংলাতে এবার হিন্দুত্বে শুড়শুড়ি দিয়ে তা হয়নি। উত্তরপ্রদেশ দখল করতে তাই যোগী-নেতা বা হিন্দুত্বের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের মন জয় করেই এগোতে চাইছে বিজেপি।

উত্তরপ্রদেশের ভোটের আগে সংখ্যালঘু মোর্চাকে সক্রিয় করতে চায় বিজেপি
বাংলার নির্বাচনী ফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, সংখ্যালঘু সমাজ দু-হাত তুলে সমর্থন করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার জেরেই মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে বিজেপিকে। এরপরই বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে শুরু করেছে। উত্তরপ্রদেশ-গুজরাটের ভোটের আগে সংখ্যালঘু মোর্চাকে সক্রিয় করে তোলাই এখন লক্ষ্য বিজেপির।












Click it and Unblock the Notifications