বাংলায় হেরে অসমে মুখরক্ষা একুশে, উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন ২৪-এর সেমিফাইনাল বিজেপির
বাংলায় হেরে অসমে মুখরক্ষা একুশে, উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন ২৪-এর সেমিফাইনাল বিজেপির
বিজেপি মধ্য ও উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তার করেছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। গো-বলয়ের বিভিন্ন রাজ্যে যখন সর্বাধিক আসন লাভ করেছে বিজেপি, তখনই তারা ভারতের পূর্ব অংশকে টার্গেট করেছিল। বাংলাকে পাখির চোখ করেও ব্যর্থ হয়ে বিজেপি মুখরক্ষা করে অসমে। এবার ২০২২-এ তাদের অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে।

উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে প্রভাব বজায় রাখতে পরিকল্পনা
২০২৪-এর আগে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে সেমিফাইনাল বলে মনে করছে বিজেপি। শুধু উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনই নয়, উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, মণিপুর ও গোয়াতেও নির্বাচন। পাঁচ রাজ্যের মধ্যে চারটিতে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি, একটিতে কংগ্রেস। তাই বিজেপিকে যেমন ক্ষমতা ধরে রাখতে হবে, তেমনই উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে প্রভাব প্রতিপত্তি বজায় রাখতে হবে।

উত্তরপ্রদেশ ভোটকে সেমিফাইনাল বলে মনে করছে বিজেপি
২০২১-এ বিজেপি কেরালা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গেও তারা জয়ী হবে বলে দাবি করেছিল। কিন্তু আদতে দেখা গিয়েছে শুধু অসম এবং কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতেই তারা জয় পেয়েছে। এবার উত্তরের রাজ্যগুলিতে ভোট। তাই এখানে কোনও রাজ্যে হারলে জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষতি হয়ে যাবে বিজেপির। উত্তরপ্রদেশ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভারতের রাজনীতিতে। তাই এই রাজ্যের ভোটকে সেমিফাইনাল বলে মনে করছে বিজেপি।

২০২১-এর পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে উত্তরপ্রদেশে পাখির চোখ
বিজেপি একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হেরেছে পশ্চিমবঙ্গে। কোনওরকমে অসমে নেতৃত্বের পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ক্ষমতাসীন সর্বানন্দ সোনোয়ালকে সরিয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে নেতৃত্বে এনে অসমের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে ঠেকিয়েছে। যা তাদের মুখরক্ষা করেছে ২০২১-এর পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে মুখ থুবড়ে পড়ার পাশাপাশি কেরালা ও তামিলনাড়ুতেও বিজেপি শোচনীয় ব্যর্থ হয়।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে টার্গেট উত্তরপ্রদেশ
বিজেপি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনকে পাখির চোখ করছে ২০২১-এ পাঁচটি রাজ্যের ভোটে সার্বিকভাবে ধাক্কা খাওয়ার পর। লোকসভার আগে বিধানসভা নির্বাচনের লিটমাস পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে ২০২১ থেকেই। তার প্রথম রাউন্ডে হারতে হয়েছে বিজেপিকে। ২০২২-এর পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচন সেই পরীক্ষায় দ্বিতীয় রাউন্ড। তার মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন। এই রাজ্যে জয়-পরাজয়ের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

যোগী সরকার যাতে আবার ক্ষমতায় আসে তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য
যোগী আদিত্যনাথ নেতৃত্বে আরও পাঁচ বছরের জন্য উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতায় থাকতে চাইছে বিজেপি। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাতে এটা স্পষ্ট যে বিজেপি উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সেমিফাইনাল হিসাবে বিবেচনা করছে। যোগী সরকার যাতে আবার ক্ষমতায় আসে তা নিশ্চিত করার জন্য পুরো মন্ত্রিসভা এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অর্থাৎ সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মোদী।

বিজেপির কাছে আরও গুরুত্বশালী রাজ্য কেন উত্তরপ্রদেশ
উত্তরপ্রদেশের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে ভারতীয় রাজনীতিতে। তারপর বিজেপির কাছে আরও গুরুত্বশালী রাজ্য উত্তরপ্রদেশ এই কারণেই যে, এই রাজ্য থেকে বিগত দুটি সংসদীয় নির্বাচনে বিজেপির লোকসভা ভোটের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে। ২০১৪ সালে ৮০টির মধ্যে ৭১টি আসন এবং ২০১৯ সালে ৬২টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি।

২০২৪ সাল পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে বিজেপির পরিকল্পনা
বিজেপি চাইছে এই রাজ্যে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে। সেই কারণে জেপি নাড্ডার নেতৃত্বে পুরো দলকে ময়দানে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি যোগী আদিত্যনাথ এবং তার দু'জন ডেপুটি 'পান্না প্রধান' হিসাবে থাকছে, ঠিক যেভাবে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নারাইনপুরা এলাকার 'পান্না প্রধান' নিযুক্ত করা হয়েছিল।

মোর্চা প্রধানদেরকে বুথ চিহ্নিত করার গুরুদায়িত্ব বিজেপির
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বাসভবনে মোর্চা সভাপতিদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের জন্য একটি টাস্ক দিয়েছিলেন। যেমন এসসি মোর্চাকে তাদের সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী সদস্যদের নিয়ে ঘাঁটি বাঁধতে বলা হয়েছে। সরকারের একইভাবে, অন্যান্য সমস্ত মোর্চাকেও জনগণের কাছে পৌঁছানোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল। মোর্চা প্রধানদেরকে বুথ চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে অন্তত ১০০টি সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে এবং সেগুলিকে চ্যানেলাইজ করার জন্য দল গঠন করা হয়েছে।

রণনীতি সাজিয়ে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে বিজেপি
বিজেপি বিশ্বাস করে যে হিন্দুধর্ম ঐক্যবদ্ধ এবং বর্ণ দ্বারা বিভক্ত নয়। তবুও প্রভাবশালী আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট বাঁধতে বাধ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি আঞ্চলিক দল একটি বর্ণের প্রতিনিধিত্ব করে, তাহলে দলটি সেই বর্ণ থেকে ভোট পাবে বেশি। আঞ্চলিক দলগুলির গুরুত্ব বিচার করেই নাড্ডা এবং শাহের মতো শীর্ষ নেতারা দলের প্রধানদের সঙ্গে দেখাও করেন। এভাবেই রণনীতি সাজিয়ে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications