বিজেপির জোট-ভাঙা অঙ্ক! লাভ হবে বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে
বিজেপিকে ছেড়ে জোটসঙ্গীরা এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে। বিরোধীরা শাসকের এই শরিকি-দ্বন্দ্বে উৎফুল্ল।
বিজেপিকে ছেড়ে জোটসঙ্গীরা এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে। বিরোধীরা শাসকের এই শরিকি-দ্বন্দ্বে উৎফুল্ল। কিন্তু আদৌ কি সেই সুবিধা তুলতে পারবে ছন্নছাড়া বিরোধীরা। নাকি এই একক লড়াইয়ের ফায়দা তুলে বড় দল হিসেবে বাজিমাত করবে বিজেপিই, তা-ই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজেপির জোট শরিকদের এই একক লড়াই
রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ মনে করছে, বিজেপির জোট শরিকদের এই একক লড়াই তাঁদের মধ্যকার বিরোধকে কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বিজেপি অনেক সঙ্ঘবদ্ধভাবে লড়তে পারবে বলে মনে করছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। এর ফলে বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যাবে বলেই মনে করছে বিজেপি।

বিজেপি ছেড়ে শরিকদের বেরিয়ে যাওয়া বুমেরাং হবে
আবার অন্য এক মহলের মত, বিজেপির শাসনামলে রাজ্যে বেকারত্ব বে়ড়েছে, কৃষিকাজ এবং অর্থনৈতিক মন্দার মতো বিষয়গুলি বিজেপিকে লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে। তার উপর বিজেপি জোট ছেড়ে শরিকদের বেরিয়ে যাওয়া বুমেরাং হবে বলেই মত বিরোধীদের।

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-বিজেপি জোট ভাঙার পর
মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-বিজেপি জোট ভেঙে গিয়েছে। নির্বাচনে জোট গড়ে লড়লেও ক্ষমতা দখলের মোহে উভয়ের সম্পর্কে চিড় ধরে। তার প্রভাবেই ঝাড়খণ্ডে শরিকরা ক্রমশ সরে যাচ্ছে বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে। পরোক্ষা বিরোধী মহাজোটে কংগ্রেস-জেএমএমের সঙ্গে রয়েছে আরজেডিও। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডির ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা (প্রজাতন্ত্রিক)ও একা লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন।

ঝাড়খণ্ড স্থায়িত্ব এবং উন্নয়নের জন্য পরিচিত!
এদিকে বিজেপি পরিচালিত ঝাড়খণ্ড সরকারের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে। এই মর্মে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকেও চিঠি লিখেছিল বিজেপির একটি অংশ। যদিও বিজেপির অপর অংশের দাবি, পাঁচ বছর আগে ঝাড়খণ্ড দুর্নীতি ও অস্থিতিশীলতার জন্য পরিচিত ছিল। আজ রঘুবর দাসের নেতৃত্বে ঝাড়খণ্ড তার স্থায়িত্ব এবং উন্নয়নের জন্য পরিচিত।

জেএমএম নেতা হেমন্ত সোরেনের ব্যাখ্যা
জেএমএম প্রধান হেমন্ত সোরেন বলেন, "আমি কোনও গঠবন্ধন ও মহাগঠবন্ধনের বিবরণে যাব না। তবে সত্যি হ'ল যে বিজেপি চিন্তিত। তাদের কাছে সম্পদ রয়েছে কিন্তু জনসমর্থন নেই। সে কারণেই তারা আমাদের মহাজোটকে স্বীকার করতে অস্বীকার করছে।

ত্রিমুখী বা চতুর্মখী প্রতিযোগিতায় বিজেপিই লাভ
অন্যদিকে, সেন্টার ফর স্টাডি অফ ডেভেলপিং সোসাইটির (সিএসডিএস) সঞ্জয় কুমার বলেছিলেন যে ত্রিমুখী বা চতুর্মখী প্রতিযোগিতা বিজেপিকেই উপকৃত করবে। যদি বিজেপির শরিকরা বিরোধী দলের সঙ্গে যোগ না দেয় তবে সেটা বিজেপির লাভই হবে এই বিচ্ছেদের ফলে। বিজেপি বিরোধী ভোটের বিভাজন হবে বেশি। তা বিজেপিকে সহায়তা করবে।












Click it and Unblock the Notifications