বিজেপির মিশন ২০২৪-এ ত্রিস্তরীয় কৌশল! উত্তর প্রদেশে ভরসা 'পান্না কমিটি'তে
পরপর দুবার উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় এলেও এখনও অনেক বুথেই বিজেপির শক্তি যথেষ্টই কম। সেইসব বুথে শক্তি বাড়াতে পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপির মিশন ২০২৪-এর লড়াইয়ে উঠে আসনে পান্না কমিটির কথা। এই কমিটির সাহায্যে গুজরাতের বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড জয় পেয়েছে বিজেপি। এবার উত্তর প্রদেশেও সেই কমিটি তৈরি করতে চলেছে বিজেপি। পান্না কমিটির মাধ্যমে বুথ পর্যায়কে শক্তিশালী করার ইঙ্গিত মিলেছে।

মিশন ২০২৪-এ উত্তর প্রদেশ
সাধারণভাবে যে দল উত্তর প্রদেশে বেশি আসন জেতে, সেই দল কিংবা জোটই কেন্দ্রে ক্ষমতা দখল করে। যা মধ্যের কিছু সময় বাদ দিলে কংগ্রেসের সময়েও হয়েছে, এখন হচ্ছে বিজেপির সময়ে। উত্তর প্রদেশে লোকসভার আসন রয়েছে ৮০ টি। তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতা দখল করতে গেলে উত্তর প্রদেশে যত বেশি সংখ্যাক আসনে জয়ী হতে হবে বিজেপিকে। সেই কারণে ৮০ টি আসনের মধ্যে সবকটিই জয়ের লক্ষ্য করা হয়েছে।

বিজেপির পান্না কমিটি
বিজেপির পান্না কমিটি নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার ওপরে নির্ভর করে তৈরি। ভোটার তালিকার একএকটি পাতায় ৩০ জন করে ভোটারের নাম থাকে। সেই ৩০ জন ভোটারের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মীকে। এই কর্মীরাই হল পান্না প্রমুখ। অন্যদিকে পান্না শব্দের অর্থ হল বইয়ের পাতা। যা এখানে হল নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার পাতা।
বিজেপির এই পান্না প্রমুখরা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তাঁদের সুবিধা-অসুবিধায় কথা বলেন। আগে বিষয়টি শহরে থাকলেও এখন তা গ্রামেও পৌঁছে গিয়েছে, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে।

বিজেপির ত্রিস্তরীয় কৌশল
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিজেপি মিশন ২০২৪-এর লক্ষ্যে উত্তর প্রদেশের জন্য ত্রিস্তরীয় কৌশল তৈরি করেছে। এই ত্রিস্তরীয় কৌশলের প্রথম স্তরে রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেখানে রয়েছেন অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা এবং বিএল সন্তোষের মতো নেতারা। এই তিন নেতা রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন, মূল্যবান পরামর্শ দেবেন।
দ্বিতীয় স্তরে রাখা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রাজ্য সভাপতি ভূপেন্দ্র চৌধুরী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ধরমপাল সাইনিকে। এই তিনজনই শুধু নন, এই স্তরে রাজ্যের আরও নেতা এবং দলের পদাধিকারীরা থাকবেন। আর পরের স্তরে থাকবেন নিচের দিকের নেতারা।

অনেক বুথে এখনও দুর্বল বিজেপি
২০১৭ সালের পরে ২০২২-এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেও এখনও বহু বুথে দলের সংগঠন যথেষ্টই দুর্বল। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় উঠে এসেছে রাজ্যের প্রায় একলক্ষ সত্তর হাজার বুথের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার বুথে বিজেপির সংগঠন যথেষ্টই দুর্বল। এই বুথগুলি সাধারণভাবে যাদব, জাঠ এবং মুসলিম প্রধান।












Click it and Unblock the Notifications