বিজেপি নতুন সেনাপতি বেছে নিল ত্রিপুরায়, ২৩-এর ভোটের আগে কোন্দল রোখাই চ্যালেঞ্জ
বিজেপি নতুন সেনাপতি বেছে নিল ত্রিপুরায়, ২৩-এর ভোটের আগে কোন্দল রোখাই চ্যালেঞ্জ
ত্রিপুরায় পরিবর্তনের সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে সরিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল মাস তিনেক আগে। বিধায়ক না হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য বিজেপির সভাপতিকেই বসানো হয়েছিল কুর্সিতে। ফলে রাজ্য সভাপতি পদ খালি পড়েছিল এতদিন। ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের ৬ মাস আগে নতুন সভাপতিকে বেছে নিয়েছে বিজেপি। তাঁর কাছে মহাচ্যালেঞ্জ, দলের কোন্দল থামিয়ে তেইশের ভোটে পুনর্নির্বাচিত করা বিজেপিকে।

তিনমাস কেটে যাওয়ার নতুন রাজ্য সভাপতি বিজেপির
বিপ্লব দেবকে সরিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি মানিক সাহা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ত্রিপুরায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন, বিপ্লব দেবকে আপদকালীন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও, তাঁকে বিজেপিকর রাজ্য সভপাতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ পদ আদানপ্রদান হয়ে যেতে পারে উভয়ের মধ্যে। কিন্তু তিনমাস কেটে যাওয়ার পরও যখন রাজ্য সভাপতি বেছে নেওয়া হচ্ছে না, তখনই অন্য গন্ধ পেয়েছিল রাজনৈতিক মহল।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি হচ্ছেন রাজীব ভট্টাচার্য
রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা সত্যি করে বিপ্লব দেবকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে ফেরাল না সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বেছে নিল নতুন সভাপতি। অর্থাৎ নতুন সেনাপতির নেতৃত্বে এবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়বে বিজেপি। বৃহস্পতিবার বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেন, ত্রিপুরা বিজেপির রাজ্য সভাপতি হচ্ছেন রাজীব ভট্টাচার্য।

রাজ্য সভাপতি হিসেবে রাজীবের চ্যালেঞ্জ কোন্দল রোখা
রাজীবের রাজ্য সভাপতি হিসেবে নিয়োগের পর প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধান মুখ হিসেবে সামনে আনছে না বিজেপি। বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে নানা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল বিজেপিতে। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন সুদীপ রায় বর্মন। তিনি বিজেপি ছেড়ে ফের কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন। এবং উপনির্বাচনে জিতে ফের বিধানসভায় গিয়েছেন। তবে এখনও তাঁর অনুগামীরা রয়েছেন বিজেপিতে এবং বিজেপির পরিষদীয় দলে।

রাজীব সহ সভাপতি ও রাজ্য সম্পাদকের পদে ছিলেন
এখন মানিক সাহার মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এবং রাজীব ভট্টাচার্যের বিজেপি সভাপতি হিসেবে নিয়োগের পর বিপ্লব দেব খানিকটা কোণঠাসা। তাঁর বিরুদ্ধে ত্রিপুরাবাসীরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বিজেপি হয়তো তাই তাঁসে সামনে রেখে এবার নির্বাচনে লড়তে চাইছে না। রাজীব ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন। বিপ্লব দেব যখন রাজ্য সভাপতি ছিলেন তখন রাজ্য সম্পাদক ছিলেন রাজীব ভট্টাচার্য। এই রাজীব ভট্টাচার্য আদি বিজেপি, তিনি ১৯৯০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।

রাজীব সভাপতি হওয়ার পরই রাজ্যে আসছে নাড্ডা
রাজীব ত্রিপুরা বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানান প্রাক্তন সভাপতি মানিক সাহা। উপস্থিত ছিলেন বিপ্লব দেবও। রবিবার আবার রাজ্যে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতিকে তিনি প্রয়োজনীয় বার্তা দেবেন। রণকৌশল বুঝিয়ে দেবেন আসন্ন নির্বাচনে লড়াইয়ের। বিজেপির সর্বভারতীয় সভপাতি জেপি নাড্ডা রবিবার আগরতলায় পা দেবেন। রবি ও সোমবার তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications