সুদীপের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে রাজি নয় বিজেপি, ২০২৩-এ বিপ্লবেই আস্থা
সুদীপের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে রাজি নয় বিজেপি, ২০২৩-এ বিপ্লবেই আস্থা
ত্রিপুরায় জনপ্রিয় মুখ সুদীপ রায় বর্মন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি বিজেপি সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। তৃণমূলের সঙ্গে সখ্যতা তৈরির খেলায় বিজেপি নেতৃত্বের উপর পক্ষান্তরে চাপ সৃষ্টি করলেও কাজের কাজ হল না। সুদীপের চাপের কাছে নতি স্বীকার করল না বিজেপি। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সুদীপে নয়, আস্থা রাখল বিপ্লব দেবের প্রতিই।

বিজেপি নেতৃত্বের আস্থা বিপ্লব দেবেই
আর মাত্র ১৬ মাস পরে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন। এখন থেকেই সাজো সাজে রব পড়ে গিয়েছে। বাংলায় বিজেপিকে পর্যুদস্ত করার পর ফের ত্রিপুরায় তৃণমূল পা দেওয়ার পরই রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সুদীপ রায় বর্মন বিজেপির উপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। বিপ্লব দেবের সরকারের প্রতি ত্রিপুরার মানুষের আস্থা নেই, তাই পরিবর্তন দরকার, এমন হাওয়া উঠে যায়। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব আস্থা রাখে বিপ্লব দেবের প্রতিই।

সুদীপতে আমল নয়, বিপ্লবের হাতে ব্যাটন
বিপ্লব দেবের মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়ছে এদিন। তিনজন নতুন মুখকে মন্ত্রী করা হয়েছে। মঙ্গলবার শপথ নিয়েছেন সুশান্ত চৌধুরী, ভগবান দাস ও রামপ্রসাদ পাল। সুদীপ রায় বর্মন বা তাঁর অনুগামী কোনও বিধায়ককেই মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়নি। বিজেপির একাংশ মনে করছে, এটা খুবই সাহসী সিদ্ধান্ত। সুদীপ রায় বর্মন বিদ্রোহের ইঙ্গিত দিলেও, বিজেপি যে তাতে আমল দিচ্ছেন না, তা বোঝা গেল মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তে। সেইসঙ্গে তাঁরা বুঝিয়ে দিল বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

চাপের রাজনীতিতেও কাজ হল না
এরপর সুদীপ রায় বর্মনের বিজেপি ছাড়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। বিজেপি নেতৃত্ব জানে, সুদীপ রায় বর্মন যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের সঙ্গে। তা জেনেও সুদীপকে দরজা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে একপ্রকার। সুদীপ বৈঠকের মাঝপথে বেরিয়ে গিয়েও চাপ বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সুদীপের কোর্টেই বল ঠেলে দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সুদীপ যদি তৃণমূলে যান
বিজেপি জানে, সুদীপ জনপ্রিয়। তিনি যদি দল থেকে বেরিয়ে তৃণমূলে যোগদান করেন, তবে তৃণমূল শক্তিশালী হয়ে উঠবে। সেসব জেনেও চাপের কাছে নতিস্বীকার করেনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপি চাইছে সুদীপ থাকতে হলে থাকুন, নইলে বেরিয়ে যান, তাঁদের আস্থা বিপ্লব দেবের প্রতিই। কিন্তু কেন? আসলে বিপ্লব দেব আদি বিজেপি, আর সুদীপ কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হয়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন। স্বভাবতই তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি বিপ্লবের।

ত্রিপুরার রাজনীতি সরগরম সুদীপে
সুদীপ এখন কোন দলে থাকেন, তা নিয়ে ত্রিপুরার রাজনীতি সরগরম। সুদীপ যদি তৃণমূলে আসেন, তবে এখন থেকেই ত্রিপুরায় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো মুখ পেয়ে যাবে তৃণমূল। সুদীপ রায় বর্মন সোমবার তাঁর অনুগামী নেতা-নেত্রী, বিধায়ক-মন্ত্রী, কর্মী-সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সুদীপ তাঁর ক্ষমতার প্রমাণ দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। তারপর সুদীপ দুদিন আগে কলকাতায় এসে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও করে গিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের খবর।

সুদীপ ফিরলে, পুরনো তৃণমূলীরাও ফিরবে
তৃণমূল জানে সুদীপ রায় বর্মের মতো জনপ্রিয় মুখকে জদেল টানতে পারলে ত্রিপুরায় বিজেপির সংগঠনে বড়সড় ধস নামানো যাবে। কারণ সুদীপের নেতৃত্বের এ রাজ্যে পথ চলা শুরু করেছিল তৃণমূল। সেই তৃণমূলকে নিয়েই বিজেপিতে গিয়েছিলেন সুদীপ। ফলে সুদীপ ফিরলে, তাঁর সঙ্গে পুরনো তৃণমূলীরাও ফিরে আসবে। আর সুদীপ ত্রিপুরায় যেমন জনপ্রিয় তার নিরিখে বলা যায় তিনি এলে তৃণমূলের প্রত জনসমর্থনও বাড়বে।

ত্রিপুরায় বিপ্লব-সুদীপ শেয়ানে শেয়ানে
আর সুদীপ যদি তৃণমূলে যোগ দেন, তবে ত্রিপুরায় বিপ্লবের সঙ্গে শেয়ানে শেয়ানে লড়াই হবে। বিজেপিতে বিপ্লব বনাম সুদীপ লড়াই আছে, তা কার্যত ত্রিপুরার লড়াইয়ে রূপান্তরিত হবে। কংগ্রেসী ঘরানার সুদীপ তৃণমূলে গিয়েছিলেন। তারপর মুকুল রায়ের পথ ধরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ত্রিপুরায় ২০১৭ সাল থেকে বাড়বাড়ন্ত শুরু হয় বিজেপির।

‘বন্ধুর নাম সুদীপ’, নতুন সংগঠন
মুকুল ঘনিষ্ঠ নেতা বিজেপিতে নির্বাচন জয়ের পর থেকেই কোণঠাসা একপ্রকার। সুদীপ রায় বর্মন মন্ত্রিত্ব ছেড়ে ত্রিপুরার পুর নির্বাচনে পৃথক মঞ্চ গড়ে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি তাঁর সংগঠনের নাম দিয়েছেন 'বন্ধুর নাম সুদীপ'। এই সংগঠনে তাঁর অনুগামীরা রয়েছেন। ফলে যদি দল বদলাতেই হয়, তবে এই সংগঠন নিয়েই তিনি ঝাঁপাবেন বলে মনে করছে রাজনৈতির মহলের একটা বড় অংশ।












Click it and Unblock the Notifications