আসন্ন বিধানসভায় যোগী রাজ্যে আদিবাসী ভোটে বিশেষ নজর বিজেপির, কেন পিছিয়ে পড়ছে কংগ্রেস-সপা
আসন্ন বিধানসভায় যোগী রাজ্যে আদিবাসী ভোটে বিশেষ নজর বিজেপির, কেন পিছিয়ে পড়ছে কংগ্রেস-সপা
বেজে গিয়েছে নির্বাচনী দামামা। বছর ঘুরতেই ভোট উত্তরপ্রদেশে। এদিকে আসন্ন নির্বাচনে ব্রাহ্মণ ভোট টানার পাশাপাশি দলিত ভোটেও বিশেষ নজর দিচ্ছে শাসক-বিরোধী প্রত্যেকেই। এদিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের পিছিয়ে পড়া মানুষদের মধ্যে নিজেদের মাটি আগের থেকে অনেকটাই শক্ত করছে পদ্ম শিবির। সেখানে পুরনো আধিপত্যা থাকা সত্ত্বেও বিশেষ সুবিধা করতে পারছে না কংগ্রেস, সমাজাবাদী পার্টি।

পাখির চোখ বিধানসভা নির্বাচন
এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিজেপির সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ ও উত্তরপ্রদেশের ভারপ্রাপ্ত নেতা রাধামোহন সিংহ রাজ্যের সংগঠন কী ভাবে কাজ শুরু করবে, তার নীল নকশা তৈরি করে ফেলেছেন। গামী ছ'মাস রাজ্যের যোগী সরকারের কাজকর্মে কী কী বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, কী ভাবে গড়ে উঠবে আদিবাসী জনভিত্তি সেই বিষয়েও পরিকল্পনা ছকে ফেলেছে পদ্ম শিবির।

জোরকদমে মাঠে নেমেছে বিজেপি
এদিকে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলেই দেখা যায় যখনই আমরা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির কথা বলি, আদিবাসী এবং তাদের উপস্থিতি নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়ে থাকে। এমনকী নির্বাচনী ফলের কাঁটাছেড়ার সময়েও আদিবাসীদের কথা বিশেষ ওঠে না। অনেকের ধারণা এই কারণেই রাজনীতি থেকেও বরাবরই মুখ ফিরিয়ে থেকেছে আদিবাসীরা। কিন্তু রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং গণতন্ত্র থেকে তাদেরও প্রত্যাশা কখনওই কম নয়। এবার সেই আদিবাসী ভোটকেই এককাট্টা করতে জোরকদমে মাঠে নেমেছে বিজেপি।

জনসংখ্যার নিরিখে উত্তপ্রদেশে আদিবাসী প্রভাব কেমন?
এদিকে এটা সত্য যে তফসিলি উপজাতি হিসেবে আদিবাসীরা উত্তরপ্রদেশের একটি ছোট জনগোষ্ঠী। তফসিলি উপজাতীরা উত্তরপ্রদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.১ শতাংশ। জনসংখ্যার বিচারে তা ১০ লক্ষ ৭ হাজার ৬৩ জন। উত্তর প্রদেশের নয়টি জেলায থারুস, বক্সা, ভোটিয়া, জৌনসারীর মতো সম্প্রদায়ের মানুষেরা ছড়িয়ে রয়েছে। এদের অনেককেই খেরি, বলরামপুর, সারাবস্তি, বাহরাইচের মতো জেলায় খুঁজে পাবেন।

৯ জেলাতেই আদিবাসী প্রভাব সর্বাধিক
অন্যদিকে অ-তফসিলি উপজাতিরা আবার সোনভদ্র, মির্জাপুর, এলাহাবাদ, চিত্রকুট, বান্দা এবং বুন্দেলখণ্ডের কয়েকটি জেলায় বসবাস করে। এই সমস্ত জেলাগুলিতে গোন্ড, কোল, সাহরিয়া, খারওয়ার, জাগোরিয়া এবং আরও বেশ কয়েকটি উপজাতির মানুষদের বাস দেখতে পাবেন। বর্তমানে এই সমস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যেই ভালোই প্রভাব বিস্তার করেছে বিজেপি। সেই তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেসের মতো দলগুলি।

কড়া বার্তা নাড্ডার
এদিকে রাজ্যের যে সব মন্ত্রী ও বিধায়ক দলের আশানুরূপ কাজ করতে পারেননি, তাঁদের আগামী নির্বাচনে টিকিট দেওয়া হবে না বলে ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। তাই ভোটের আগে জনভিত্তি গড়ে তুলতে নতুন করে মাঠে নেমেছেন সকলেই। গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে দলিতদের কাছে পৌঁছতে কসরত করছেন সমস্ত রাজ নেতারাই। যদিও নির্বাচনী ফলাফল কোনদিকে যায় এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।












Click it and Unblock the Notifications