আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রী না হওয়ায় কি ঝাড়খণ্ডে মাশুল গুনতে হল বিজেপিকে?
রঘুবর দাসই ছিলেন ঝাড়খণ্ডের প্রথম অ-তফসিলি উপজাতি মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি পাঁচ বছর সরকারও চালান।
রঘুবর দাসই ছিলেন ঝাড়খণ্ডের প্রথম অ-তফসিলি উপজাতির প্রতিনিধিত্ব করা মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি পাঁচ বছর সরকারও চালান। তবে সকাল থেকে যা প্রাথমিক প্রবণতা সামনে এসেছে তাতে মনে হয় না যে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পরপর দুই বার রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারবেন রঘুবর দাস।

তফসিলি জাতি-উপজাতির ভোটের অংশ বিশাল
মূলত তফসিলি জাতি-উপজাতির একটা বড় ভোটের শতাংশ থাকায় ঝাড়খণ্ডে চিরকাল মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এসেছেন কোনও এক তফসিলি নেতা। আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে রাজ্যের গদিতে বসেছিলেন অর্জুন মুন্ডা, বাবুলাল মারান্ডি, শিবু সোরেনরা। সেই প্রথাকে ভেঙেছিলেন রঘুবর দাস। তবে সেই প্রথা ভাঙার মাশুলই কি তবে বিজেপিকে দিতে হচ্ছে।

আলাদা ইস্যুতে ভোট ঝাড়খণ্ডে
ঝাড়খণ্ডের নির্বাচন অবশ্য বাকি দেশের নির্বাচন থেকে একটু আলাদা। এখানে বাকি হিন্দি বলয়ের মতো রাম মন্দির বা ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার অতটা প্রভাব ফেলে না। রাজ্যে মোট ২৬ শতাংশ তফশিলি উপজাতির ভোটার। পাশাপাশি ১২ শতাংশের কিছু বেশি ভোটার রয়েছে তফশিলি জাতিরও। বিজেপি চেয়েছিল বাকি ৬২ শতাংশ ভোটারের সিংহভাগ যেন তাদের ঝুলিতে আসে। হরিয়ানাতে এরকমভাবে অ-জাট ভোট বিজেপির ঝুলিতে আসাতেই ক্ষমতা দখল রাখতে সমর্থ হয়েছিল বিজেপি।

মুসলিম, যাদব ও তফসিলিদের প্রভাব
এদিকে ৮১টির মধ্যে ৪১টি আসনে মুসলিম, যাদব ও তফসিলি ভোটার সংখ্যা বেশি। সেই ক্ষেত্রেও বিরোধীরা জোট গড়ায় এই ভোট ভাগ হচ্ছে না এবার। জএমএম-কংগ্রেস জোটের সঙ্গে আরজেডি থাকায় যাদব ভোটের সিংহভাগ যেতে পারে বিরোধীদের ঝুলিতে।

রামমন্দির, ৩৭০ ধারাতে মন গলেনি ভোটারদের
ঝাড়খণ্ডে ভোটপ্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন যে চার মাসে মধ্যে গগনচুম্বী রামমন্দির তৈরি করবে তাদের সরকার। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ভোটপ্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তুলেছিলেন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রসঙ্গ। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা এসে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়েও ভোট টানার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে যে বিজেপির পালে খুব একটা হাওয়া লাগেনি তা প্রাথমিক প্রবণতাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications