তৃণমূলের ধাক্কায় ত্রিপুরায় প্রবল চাপে বিজেপি! সংখ্যার খেলায় মেতে উঠেছে যুযুধান দুই

তৃণমূলের ধাক্কায় ত্রিপুরায় প্রবল চাপে বিজেপি! সংখ্যার খেলায় মেতে উঠেছে যুযুধান দুই

ত্রিপুরার ভোট এখনও বছর দেড়েক বাকি। এখন থেকেই অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছেন যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ তৃণমূল ও বিজেপি। তৃণমূল বাংলা জয়ের পর ত্রিপুরাকে টার্গেট করেছে। আর বিজেপি বাংলায় পর্যুদস্ত হওয়ার পর ত্রিপুরার ক্ষমতা ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিধায়কদের কলকাতা যাত্রার পর দুই পক্ষই সংখ্যার খেলায় মেতে উঠেছে এবার।

গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপিকে শেষ করাই লক্ষ্য তৃণমূলের

গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপিকে শেষ করাই লক্ষ্য তৃণমূলের

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরার মাটিতে পা দিয়ে বলেছিলেন ইচ্ছা করলে তিনি ত্রিপুরার বিজেপি সরকার ফেলে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা দেবেন না। কারণ তিনি এবং তাঁর দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। তাই ২০২৩-এর নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করবেন। সেই নির্বাচনে গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপিকে শেষ করাই তাঁদের দলের লক্ষ্য।

নির্ধারিত সময়ের আগেই পড়ে যাবে বিজেপি সরকার

নির্ধারিত সময়ের আগেই পড়ে যাবে বিজেপি সরকার

এখন মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ সুদীপ রায় বর্মন তাঁর টিমকে নিয়ে কলকাতা পরিভ্রমণে আসার পর জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি এখনই বিজেপির সরকার পড়ে যাবে ত্রিপুরায়। বিজেপি থেকে সুদীপ রায় বর্মনরা বেরিয়ে গেলে আদৌ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই পড়ে যেতে পারে ত্রিপুরার বিজেপি সরকার।

ত্রিপুরায় বিধানসভার আসন ৬০

ত্রিপুরায় বিধানসভার আসন ৬০

ত্রিপুরায় বিধানসভার আসন ৬০। ২০১৮-র বিধানসভা নির্বাচন অনুযায়ী বিজেপির আসন সংখ্যা ৩৬। আর বিজেপির জোট সঙ্গী আইপিএফটির আসন সংখ্যা ৮। আর বিরোধী দল সিপিএমের পক্ষে গিয়েছেন ১৬টি। আইপিএফটিকে নিয়ে বিজেপি ৪৪, যা ম্যাজিক ফিগার ৩১-এর থেকে অনেকটাই বেশি।

ত্রিপুরা বিজেপিতে আড়াআড়ি বিভাজনে কতজন লাইনে

ত্রিপুরা বিজেপিতে আড়াআড়ি বিভাজনে কতজন লাইনে

কিন্তু আইপিএফটির সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক বর্তমানে ভালো নয়। তারপর বিজেপিতে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে আড়াআড়ি বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেস-তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মুকুল-ঘনিষ্ঠ সুদীপ রায় বর্মন বরাবর দাবি করে এসেছেন তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রায় ১৫ জন বিধায়ক। এখন এই ১৫ জন যদি বেরিয়ে আসে, তাহলে বিপদে পড়ে যাবে বিজেপি।

সুদীপ-অনুগামী বিধায়করা দল ছেড়ে বেরিয়ে এলে...

সুদীপ-অনুগামী বিধায়করা দল ছেড়ে বেরিয়ে এলে...

সুদীপ রায় বর্মনের অনুগামী বিধায়করা দল ছেড়ে বেরিয়ে এলে আইপিএফটিকে নিয়েও সরকার বাঁচাতে পারবে না বিজেপি। এখন সুদীপ রায় বর্মনের সঙ্গে তিন জন বিজেপি বিধায়ক বাংলায় এসেছেন। এখন দেখার তৃণমূলের সঙ্গে সুদীপ রায় বর্মনের কোনও বৈঠক হয় কি না। মুকুল রায়ের সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ সুদীপ রায় বর্মনের হয় কি না সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখেছে রাজনৈতিক মহল।

সুদীপ রায় বর্মন বিপ্লব দেবের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন

সুদীপ রায় বর্মন বিপ্লব দেবের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন

বিজেপি এইসবই তৃণমূলের নাটক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে মনে করছে, সুদীপ রায় বর্মনের এই বাংলায় আসা বিপ্লব দেবের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সুদীপ এখন দলবল নিয়ে তৃণমূলের উদ্দেশে ঝাঁপালে তবে বিপ্লব দেব সরকারের পতন অনিবার্য। সেক্ষেত্রে ২০২৩ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।

ত্রিপুরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চলেছে বিজেপি সরকার

ত্রিপুরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চলেছে বিজেপি সরকার

যদিও তৃণমূল এখনও নিশ্চিত নয়, সুদীপ রায় বর্মনের সঙ্গে কতজন বিধায়ক থাকতে পারেন। আবার তার থেকেও বড় কথা এই মুহূর্তে বিজেপি ভাঙানো নিয়ে তৃণমূল এখন কোনও আগ্রহণ প্রকাশ করছে না। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূলের মুখপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, একাধিক বিজেপি বিধায়ক যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের সঙ্গে। ত্রিপুরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চলেছে বিজেপি সরকার।

বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা

বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা

তৃণমূল মুখপত্রে প্রকাশ, বিজেপির এক ঝাঁক নেতা-মন্ত্রী-বিধায়ক তৃণমূলে আসার জন্য পা বাড়িয়ে রয়েছেন। বিদগ, ৭২ ঘণ্টায় বিজেপির এত সংখ্যক বিধায়ক যোগাযোগ করেছে বা গোপন বৈঠক করেছেন, তাতে বিপ্লব দেবের সরকারের টলমল অবস্থা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তবে এক পাশাপাশি বলা হয়েছে দল ভাঙিয়ে তারা ক্ষমতা চান না, তারা চান ভোটে জিতে ক্ষমতা দখল করতে।

মুকুল-ঘনিষ্ঠ সুদীপেরও তৃণমূলে ফেরার পথ সুগম হয়েছে

মুকুল-ঘনিষ্ঠ সুদীপেরও তৃণমূলে ফেরার পথ সুগম হয়েছে

ত্রিপুরা বিজেপিতে অনেকদিন ধরেই আড়াআড়ি বিভাজন ধরে গিয়েছে। একদল মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের পক্ষে, অন্য একটা দল বিপ্লব দেবের বিপক্ষে। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরায় সংগঠন বিস্তারে পা বাড়াতেই বিজেপিতে থরহরি কম্প শুরু হয়েছে। এদিকে মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন। ফলে মুকুল-ঘনিষ্ঠ সুদীপেরও তৃণমূলে ফেরার পথ সুগম হয়েছে।

তৃণমূল ত্রিপুরাকে পাখির চোখ করার পর সুদীপের অবস্থান

তৃণমূল ত্রিপুরাকে পাখির চোখ করার পর সুদীপের অবস্থান

সুদীপ রায় বর্মন দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপিকতে বেসুরো। তিনি বিজেপিতে থেকেই পৃথক মঞ্চ তৈরি করেছিলেন। তারপর ত্রিপুরার রাজনীতিতে তিনি বিপ্লব দেবের সঙ্গে সমান্তরাল পথে চলতে শুরু করেন। দল না ছাড়লেও তিনি বিপ্লব দেবের সরকারের সমালোচনা করেছেন, মন্ত্রিত্ব ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু দল বদলাননি। রাজনৈতিক মহলে মনে করছে, তিনি হয়তো সুযোগের অপক্ষায় ছিলেন। এখন তৃণমূল ত্রিপুরাকে পাখির চোখ করার পর সুদীপ রায় বর্মন নতুন পথের সন্ধান পেতে পারেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+