রামদেবের সুপারিশেই বিজেপির টিকিট পেয়েছিলেন, বাবুল সুপ্রিয়র দাবিতে বিতর্কের জন্ম

পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল থেকে বিজেপির টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। দৈনিক সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকায় রবিবাসরীয়তে দুইপর্বের একটি প্রবন্ধ লিখছেন বাবুল সুপ্রিয়। গত রবিবার প্রথম পর্বটি প্রকাশিত হয়েছে। আর সেই লেখাতেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বাবুল।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই খবর অনুযায়ী২৮ ফেব্রুয়ারি, বিমানে যাত্রার সময় রামদেবের সঙ্গে দেখা হয় বাবুলের। তখনই ফোনে রামদেবের কথা শুনে বুঝতে পারেন যে তিনি লোকসভা নির্বাচনের টিকিট বিলোচ্ছেন। তখন নিছকই মজার ছলে বাবার কাছে নিজের মনের ইচ্ছাটাও না কি তুলে ধরেছিলেন বাবুল। বলেছিলেন তিনিও লোকসভার নির্বাচনের টিকিট চান। টিকিট না দিলে, বিমান থেকে নেমে যোগগুরু কাকে কোথায় কটা টিকিট দিচ্ছেন গল্প মিডিয়ায় ফাঁস করবেন বলে হুমকিও দিয়েছিলেন নাকি। ভয়ের চোটে রামদেবও নাকি তাঁর আপ্তসহায়ককে বলেছিলেন 'নাছোড়বান্দা' বাবুলের ফোন নম্বর নোটবুকে টুকে রাখতে।
আমাকে টিকিট না দিলে আপনার টিকিট বিলির গল্প মিডিয়াকে বলে দেব: রামদেবকে বাবুল
এরপর ১ মার্চ বাবুলকে ফোন করেন রাকেশা নামের এক আরএসএস প্রচারক। 'ধনরাশি' খরচের বিষয়ে বাবুলের সঙ্গে কথা বলেন রাকেশ। রাকেশ নাকি বাবুলকে বলেন ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করা যায়, অনেকে তার বেশিও খরচ করেন। আপনি কত পারবেন বলুন। জবাবে বাবুল বলেন, টাকা খরচের সামর্থ নেই, মোদীজিকে ভাল লাগে তাই ভোট লড়তে চান, টাকা না ঢাললেও নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে পারেন বলে রাকেশকে জানিয়েছিলেন বাবুল।
এই ঘটনার ৩ দিন পরে রামদেবের কাছ থেকে ফোন পান বাবুল। যোগগুরু বলেন, বাবুলের প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। বিজেপিই তাঁর যাবতীয় খরচ বহন করবেন। ৭ মার্চ, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি রাহুল সিনহার ফোন যায় বাবুলের কাছে। বাবুলের কথায়, আসানসোল থেকে প্রার্থী করলে তাঁর কোনও অসুবিধা হবে কি না জানতে চান সভাপতি।
যদিও এবিষয়ে রাহুল সিনহাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "রাজ্য সভাপতি হিসাবে আমার দায়িত্ব প্রার্থীদের ক্ষমতা অনুযায়ী তাঁদের পরামর্শ দেওয়া। সেহেতুই আমি বাবুলকে আসানসোল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বলেছিলাম। তার একমাত্র কারণ ছিল, এলাকাটা হিন্দি বলয়। বাবুল ভাল হিন্দি বলতে পারেন। আমার মনে হয়েছিল বাবুলের জেতার সম্ভবনা প্রবল ছিল। তাই বলেছিলাম।" উল্লেখ্য বাবুল নিজের লেখায় তাঁকে আসানসোল থেকে দাঁড় করানোর প্রসঙ্গে একই কথা লিখেছেন।
তবে বাবুলের প্রার্থী হওয়ার পিছনে যে বাবা রামদেবের সুপারিশ রয়েছে সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রাহুল।












Click it and Unblock the Notifications