তৃণমূলের সুরে কথা বলছেন বিজেপির বিধায়ক! মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের ঘুম ছুটেছে ত্রিপুরায়
তৃণমূলের সুরে কথা বলছেন বিজেপির বিধায়ক! মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের ঘুম ছুটেছে ত্রিপুরায়
বিজেপি বিধায়কের গলায় তৃণমূলের সুর। তৃণমূলের পক্ষেই কথা বলছেন তিনি। তা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের ঘুম ছুটেছে। শাসক দলের বিধায়কের মন্তব্যে শুধু বিপ্লব দেবই নন, ত্রিপুরার পদ্ম-শিবিরও চাপে পড়ে গিয়েছে। সুদীপ রায় বর্মনকে নিয়ে বিজেপির অস্বস্তি তো আছেই, এবার আরও এক বিধায়ক চাপ বাড়ালেন পদ্ম-শিবিরের।

বিপ্লব দেবের সঙ্গে মতবিরোধে সুদীপ বিদ্রোহী
ত্রিপুরা-বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বের আর শেষ হচ্ছে না। ২০১৮-য় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এক বছর যেতে না যেতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মনকে মন্ত্রিসভা ছাড়তে হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে তাঁর অন্তর্কলহ প্রকাশ্যে আসে বারবার। সুদীপ রায় বর্মন তাঁর গোষ্ঠীর নেতাদের নিয়ে সমান্তরালভাবে চলতে শুরু করেন।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পরও বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব
বিপ্লব দেবের মন্ত্রিসভাতেও সুদীপ রায় বর্মনের লোক রয়েছেন। আবার বিধানসভার সদস্যদের মধ্যেও একাংশ সুদীপ রায় বর্মনের লোক রয়েছেন। এই অবস্থায় বিজেপি চেষ্টা করছে দলের বিদ্রোহ রুখতে। সেই লক্ষ্যেই তড়িঘড়ি মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পরও ফের প্রকাশ্যে এল বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব।

বিজেপির বিধায়কের সমালোচনায় বিপ্লব দেব
ত্রিপুরার বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস বলেন, ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিসের আধিকারিদের সম্মেলনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব যে মন্তব্য করেছেন, তা আদালত অবমাননার সমান। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে ত্রিপুরায়। বিরোধীরা বিপ্লব দেবকে নিশানা করেন। তার থেকেও বড় কথা, শাসক দল বিজেপির বিধায়ক পর্যন্ত সমালোচনা করেন বিপ্লব দেবের।

বিপ্লব দেবের বিতর্কিত মন্তব্য, সমালোচনার ঝড়
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেন, পুলিশ তো জেল অবধি নিয়ে যাবে। কিন্তু সেই পুলিশ তো মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিতর্কের ঝড় ওঠে তাঁর এই মন্তব্যের পর। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিলকে কেন্দ্রে করে আইনি লড়াই শুরু হয়। তিন বার মিছিলের দিন ঠিক হলেও প্রশাসনিক স্তর থেকে অনুমতি মেলেনি। তা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল।

ত্রিপুরা বিজেপির প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব অভিষেক
আদালতে ত্রিপুরা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ম ভেঙে বিপ্লব দেব সভা করছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করে তৃণমূল। আর তারপরেই বিপ্লব দেবের ওই মন্তব্য নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। অভিষেক গর্জে ওঠেন। তিনি বলেন, আমরা যাতে ত্রিপুরা না যেতে পারি তার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিশ্বের সবথেকে বড় রাজনৈতিক দলের এত ভয় কেন? যেদিন ১৪৪ ধারা উঠবে সেদিনই ত্রিপুরা ঢুকব আমি। বিপ্লব দেব বলছেন, আদালত কী বলল জানি না। কিন্তু এখানকার মাই-বাপ আমি। দেখুন কী ঔদ্ধত্য।

অভিষেকের সুরে সুর মিলে গেল বিজেপি বিধায়কের
অভিষেকের সুরে সুর মিলিয়েই তারপর বিপ্লব দেবের সমালোচনা করেন বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় বলা হচ্ছে আইনের শাসন আছে। যদিও সেটা দেখা যাচ্ছে না। এখানেন এক এক জনের জন্য এক এক রকম আইন। যেটা বাস্তব, যেটা সত্য তা স্বীকার করতে হবে। আমি কারও পক্ষপাতিত্ব করছি না। আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণ ও সিপিএমের পার্টি ভাঙার কঠোর সমালোচনা করছি।

বিপ্লব দেবের সমালোচনায় দলেরই বিধায়ক স্বয়ং
বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস আরও বলেন, উনি বলেছেন অতিথি দেব ভবঃ। তারপর অতিথি আসতে তাঁর ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেওয়ার পথে ১৩.১৪ বার আক্রমণ করা হল। বাংলা আর ত্রিপুরার সম্পর্ক মা-ছেলের। সেখানে বাংলা থেকে আসা নেতার উপর আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না। বামেদের একটার পর একটা পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি ঠিক হয়েছে। আমি ঘোর সিপিএম বিরোধী হয়েও বলছি কোনও দলের অফিস ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। আমি বিজেপি বিধায়ক হলে বলছি, আইন ও গণতন্ত্র সকলের জন্য সমান এটা মনে রাখা উচিত।

বিপ্লবের সমালোচনায় বিজেপি দেখছে তৃণমূল-যোগ
বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস এদিন আক্ষেপের সুরে বলেন, শাসক দলের কর্মীদের হাতে কিছুদিন আগেই আক্রান্ত হন এক বিডিও। তারপর মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এমন অনৈতিক কথা শুনে সরকারি আধিকারিকরা করতালি দিচ্ছেন। এটা একেবারেই ঠিক নয়। প্রধানমন্ত্রীর দেখা উচিত ত্রিপুরার বর্তমান অবস্থা কী। বিজেপির একাংশ মনে করছেন, দলের ওই বিধায়ক তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেই ওই মন্তব্য করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications