বিমানবন্দরে পা রাখলেই তালিবানি স্টাইলে তৃণমূলের উপর হামলা করুন! কর্মীদের নিদান বিজেপি বিধায়কের
ত্রিপুরার উপর নজর তৃণমূলের। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে যেভাবেই হোক ত্রিপুরা দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কোং। এমনকি খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধায় পর্যন্ত বলেছেন, কোনও ভাবে আটকানো যাবে না
ত্রিপুরার উপর নজর তৃণমূলের। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে যেভাবেই হোক ত্রিপুরা দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কোং। এমনকি খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধায় পর্যন্ত বলেছেন, কোনও ভাবে আটকানো যাবে না। নেক্সট আমরা ত্রিপুরা জিতব।
রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মুখে এমনই আত্মবিশ্বাসের সুর পাওয়া গিয়েছে। আর এর মধ্যেই তৃণমূলের উপর তালিবানি স্টাইলে হামলার নিদান বিজেপি বিধায়কের। তাঁর এই মন্তব্যে রীতিমত বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

ইতিমধ্যে বিধায়কের মন্তব্যে জন্যে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ বলে দাবি তুলেছে সে রাজ্যের তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল এবার ত্রিপুরাকে পাখির চোখ করেছে। সেইমতো প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক টিমের ২৩ সদস্যকে তৃণমূল সমীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিল ত্রিপুরায়। তাঁদেরকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। তৃণমূলের প্রতিবাদে পিকের টিম-মেম্বারদের ছাড়া হয়।
এই ঘটনার পরেই একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনার পরেই খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরা সফর করেছেন। তাঁকে ঘিরেও সে রাজ্যে ব্যাপক গণ্ডগোল হয়। এমনকি দেখানো হয় কালো পতাকাও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আকার ধারণ করে। এরপর থেকে একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। লাগাটতার তৃণমূল নেতৃত্বের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে।
এমনকি আজ বৃহস্পতিবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকি প্রাক্তন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যন্ত এদিন সকালে বার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আর এর মধ্যে বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য ঘিরে নয়া বিতর্ক।
ত্রিপুরার বিজেপি বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিকের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে এই বিতর্ক। সম্প্রতি বিজেপির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপির সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক। আর সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কর্মীদের রীতিমত উস্কানি দিতে দেখা গেল তাঁকে।
কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিজেপি অরুণবাবুর মন্তব্য, আমাদের উচিৎ তালিবানি স্টাইলে তৃণমূলের উপর হামলা করা। বিমানে করে যখনই তাঁরা এই রাজ্যে পা দেবে ঠিক সেই সময়েই এই হামলা করা উচিৎ বলেও হুঁশিয়ারি বিধায়কের। রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও ত্রিপুরাতে থাকা বিপ্লব দেবের সরকারকে রক্ষা করতে হবে বলেও কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা বিধায়কের।
বিজেপি বিধায়কের এহেন হুঁশিয়ারির ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল। আর তা ভাইরাল হতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতা সুবল ভৌমিক ইতিমধ্যে ওই বিজেপি বিধায়ককে গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে এই ঘটনাতে চরম অস্বস্তিতে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপি নেতা সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, বিধায়ক যে মন্তব্য করেছেন সেটা তাঁর নিজস্ব। পার্টির এই বিষয়ে কোনও যোগ নেই। এহেন সগস্কৃতিতে বিশ্বাস করেনা বিজেপি। গণতন্ত্রের উপরেই ভরসা রেখে বিজেপি চলে বলে দাবি তাঁর।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ত্রিপুরায় তৃণমূলকে কোনও হোটেল দেওয়া হচ্ছে না। কোনও মাইক্রোফোন দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষও অভিযোগ করেছেন যে, সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করে হোটেল ঘন্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করে রাখা হচ্ছে।একের পর এক এই ঘটনাতে ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুপ্রিমো। সে রাজ্যে কোনও আইনশৃঙ্খলা-গণতন্ত্র বলেও কিছু নেই বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications