তৃণমূলের 'ডিজিটাল যোদ্ধা'র পালটা BJP'র 'নমো যুবা যোদ্ধা'! কী কী কাজ হবে এই কর্মসূচিতে? জানুন
বিধানসভা নির্বাচনের আগে যুব সমাজকে বেশি করে পাশে পেতে ডিজিটাল মঞ্চের সূচনা করলো বিজেপি। রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে 'নমো যুবা যোদ্ধা' (Namo Yuva Yoddha) নামে নতুন কর্মসূচি। সূত্রের খবর, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে যুব সমাজকে রাজনৈতিক যুদ্ধে সক্রিয় করা। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে 'আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা' নাম অনেকটা একই রকমেরে কর্মসূচির সূচনা করেছিল তৃণমূল। তাই শনিবার বিজেপির এরকম কর্মসূচির ঘোষণাতে অনেকেই এটিকে তৃণমূলের 'ডিজিটাল যোদ্ধা'র পাল্টা বলে মনে করছেন। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নতির ভাবনাকে যুব সমাজের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা মাত্র।

শনিবার কলকাতায় আইসিসিআর-এর প্রেক্ষাগৃহে এক কর্মসূচিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেছেন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বিপ্লব দেব, যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। মঞ্চে এবং মঞ্চে তরুণ বিধায়ক অনুপ সাহাও ছিলেন। সেখানেই এরকম এক কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
বিজেপি সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের নির্দেশেই এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচিতে মোদীর ছবির পটভূমিকায় ভারতের মানচিত্রের বদলে পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে । এর অর্থ এটাই যে, এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র বাংলার জন্যই পরিকল্পিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ রাজ্যে ডিজিটাল প্রচারের লড়াইয়ে এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু হল। ১৭ অক্টোবর তৃণমূল কংগ্রেস 'আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা' নাম নতুন ডিজিটাল উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, "এখনকার যুগে রাজপথের মতো লড়াইয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। সেখানে বাংলাবিরোধী প্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।"
বিজেপির দাবি করেছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত ও বিকশিত বাংলা গড়ে তোলার বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। যুব সমাজকে অনলাইন এবং অফলাইন দুই প্ল্যাটফর্মেই সক্রিয় করা হবে। একারণেই শনিবার একটি ওয়েবসাইট প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে আগ্রহী ব্যক্তিরা নিজেদের নাম 'নমো যুবা ওয়ারিয়র' হিসেবে নথিভুক্ত করতে পারবেন। এর পাশাপাশি, ৭০১৫৯০০৯০০ নম্বরে মিসড কল দিয়েও নাম নথিভুক্ত করা যাবে।
তৃণমূল সূত্র অনুসারে জানা গিয়েছে তৃণমূলের ঘোষিত কর্মসূচিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রচুর পরিমানে সাড়া পেয়েছিল। ঠিক দুই সপ্তাহের মধ্যে বিজেপির এই একই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ডিজিটাল দুনিয়াতেও বিজেপি-তৃণমূলের তীব্র লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই ডিজিটাল যুদ্ধ রাজ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications