বিজেপিতে থরহরিকম্প উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে, বিধায়ক-মন্ত্রীদের পদত্যাগে জল্পনা
বিজেপিতে থরহরিকম্প উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে, বিধায়ক-মন্ত্রীদের পদত্যাগে জল্পনা
এক মাস পরেই শুরু ভোটগ্রহণ। করোনা আবহে সাত দফায় ভোট হবে যোগী-রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। কিন্তু সেই নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই থরহরিকম্প লেগে গিয়েছে বিজেপিকে। একের পর এক মন্ত্রী-বিধায়ক বিজেপি ছেড়ে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেওয়ায় ভোটের মুখে বিপাকে যোগী আদিত্যনাথ অ্যান্ড কোম্পানি।

২০২৪-এর আগে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বয়ং মোদী ভোট প্রচারে নেমে পড়েছিলেন নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগে থেকেই। এবার নির্বাচন ঘোষণা হতেই বিজেপির দলিত ও ওবিসি বিধায়কদের বিদ্রোহ শুরু হয়ে গিয়েছে। তারা গেরুয়া শিবির ছেড়েই জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপিতে ভূমিকম্প ধরিয়ে দিয়েছি।
মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েই উত্তরপ্রদেশের প্রভাবশালী ওবিসি নেতা স্বামী প্রসাদ মৌর্যরা সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেবেন কি না, সেটা পরের কথা। তাঁর পথ অনুসরণ করে আরও তিন বিধায়ক পদত্যাগ করেছেন। ৪৮ ঘণ্টায় দুই মন্ত্রী-সহ ৬ জন বিধায়ক বিজেপি ছেড়েছেন। তাঁরাও সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেবেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিকে একহাত নিয়েছেন স্বামী প্রসাদ মৌর্য।
মৌর্য বলেন, আমি বিজেপি ছাড়ার পর গেরুয়া শিবিরে ভূমিকম্প শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপিতে ভাঙন ধরে গিয়েছে। আরও অনেকেই বিজেপি ছাড়বেন। উল্লেখ্য, যিনি এই কথাগুলি বলছেন, তিনি শুধু য়োগী আদিত্যনাথ সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ওবিসিদের একজন বড় নেতা। তাঁর বিজেপিত্যাগে ওবিসি ভোটের বেশিরভাগ অংশেই ধস নামতে পারে বিজেপির।
পাঁচ বারের বিধায়ক স্বামী প্রসাদ মৌর্য। একটা সময়ে তিনি মায়াবতীর ডানহাত ছিলেন। সেখান থেকে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। উত্তরপ্রদেশে জাতপাতের রাজনীতি একটা বড় ফ্যাক্টর। তাঁর মতো ওবিসি নেতা যদি দলবদল করে বিরোধীদের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বিজেপিকে।
বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদ্গার করে স্বামী প্রসাদ মৌর্য বলেন, আমি বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সেখানে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও আমি যোগী আদিত্যনাথের মন্ত্রিসভায় মন দিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু দলিত, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষ, কৃষক, বেকার, ছোট ব্যবসায়ীদের উপর যেভাবে অত্যাচার চলেছে, তা মেনে নিতে পারিনি। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদেই এই পদত্যাগ। এই পদত্যাগ বিজেপিতে ভূমিকম্প তৈরি করতেই।
তিনি হঠাৎ করে প্রতিবাদী হননি। তিনি তাঁর প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেলন দীর্ঘদিন ধরেই। দলের অন্দরে প্রতিবাদ করেছেন। অমিত শাহের কাছে নালিশ করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন পদত্যাগ করে প্রতিবাদের শেষ ধাপটাও পূরণ করলেন। জানিয়ে দিলেন সমাজের পিছিয়ে পড়া বঞ্চিত অবহেলিত মানুষের পাশেই তিনি থাকতে চান না।












Click it and Unblock the Notifications