আরএসএস-এর থেকে কি 'স্বতন্ত্র' হয়ে উঠছে বিজেপি, জেপি নাড্ডা নতুন 'দল' গঠনে জল্পনা
বিজেপি কি আরএসএস-এর থেকে স্বতন্ত্র হয়ে উঠতে চাইছে? দিন দুই আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নতুন টিম ঘোষণা নিয়ে সেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। কেননা আরএসএস ঘনিষ্ঠ দুই সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব এবং
বিজেপি কি আরএসএস-এর থেকে স্বতন্ত্র হয়ে উঠতে চাইছে? দিন দুই আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নতুন টিম ঘোষণা নিয়ে সেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। কেননা আরএসএস ঘনিষ্ঠ দুই সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব এবং বি মুরলিধর রাওকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯৫০-এ জনসংঘের সময় থেকেই বিজেপি, আরএসএস-এর মেধাবীদের স্থান দিয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং নানাজি দেশমুখ।

রাম মাধবকে নিয়ে জল্পনা
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাম মাধবের কাজ প্রশংসনীয়, বিজেপি সূত্রে এমনটাই বলা হচ্ছে। তাই জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি এক ব্যক্তি একপদের নীতি ধরে রাম মাধবকে মোদী মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে? একথা প্রযোজ্য বি মুরলিধর রাওয়ের ক্ষেত্রেও। তবে নতুন কার্যভার সম্পর্কে এখনও কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। রাম মাধবকে মূলত জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তর পূর্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি সঠিকভাবেই পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি বিশ্বের কূটনৈতিক মহলে তাঁর ভাল যোগাযোগ রয়েছে।

আরএসএস হিসেবে একমাত্র উপস্থিতি বিএল সন্তোষের
দলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আরএসএস কর্মী হিসেবে একমাত্র উপস্থিতি রয়েছে বিএল সন্তোষের। এর আগে আ্ররএসএস প্রচারকরা বিজেপিতে ভাল জায়গা পেয়ে এসেছেন।

কেন আরএসএস-এর লোকেদের গুরুত্ব
প্রশ্ন উঠছে কেন আরএসএস-এর লোকেদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। উত্তর হিসেবে প্রথমেই চলে আসে, তাঁরা শৃঙ্খলাবদ্ধ, বুদ্ধিমান এবং আদর্শগতভাবে অনুগত। কঠোর পরিশ্রম এবং নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণেও তাঁরা অভ্যস্থ। তাঁদেরকে স্বতন্ত্র চিন্তাবিদ বলেও ধরে নেওয়া হয়।

মোদী নিজেও ব্যক্তিবাদী
নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রে তিনিও, ছিলেন ব্যক্তিবাদী। তাঁকে ২০০১ সালে যখন উপমুখ্যমন্ত্রীত্বের পদের জন্য বলা হয়েছিল, তখন তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হয় তাঁকে পুরো দায়িত্ব দেওয়া হোক, না হলে কিছুই নয়। এরপর বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করে। তারপরের টুকু তো ইতিহাস।

আঞ্চলিক ও জাতিগত কারণে বাদ ৪ সাধারণ সম্পাদক
অন্যদিকে আঞ্চলিক ও জাতিগত কারণে আট সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে থেকে চারজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, পঞ্জাবের তরুণ চুঘ, উত্তর পূর্ব থেকে দিলীপ শইকিয়া, দক্ষিণ থেকে ডি পুণ্ডেশ্বরী এবং সিটি রবি । অন্যদিকে দলিত হিসেবে ডিকে গৌতমকে সহ সভাপতির পদ থেকে সাধারণ সম্পাদকের পদে সরানো হয়েছে।
যদিও প্রাক্তন সভাপতি তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশ্বাস বজায় রেখে পদে রয়ে গিয়েছেন, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, ভূপেন্দ্র যাদব এবং অরুণ সিং।

আরএসএস-এর থেকে স্বতন্ত্র হওয়ার চেষ্টা
এবারে সংগঠনের পরিবর্তনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি কি আরএসএসঃএর থেকে নিজেকে স্বতন্ত্র করার জন্য সক্রিয়ভাবে করছে, নাকি দলে পরিবর্তনের জন্য এটা অনিবার্য পরিণতি। যদিও দলের বিস্তার ঘটাতে গিয়ে প্রথাগত সঙ্ঘ পরিবারের বাইরে মুকুল রায়ের মতো নেতাদের স্থান দিতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications