Assembly Election 2022: উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব-সহ ৫ রাজ্যে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ভিন্ন পন্থা বিজেপির
Assembly Election 2022: উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব-সহ ৫ রাজ্যে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ভিন্ন পন্থা বিজেপির
২০২২-এ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন (assembly election) । দেশের পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তরে ছড়িয়ে থাকা এই পাঁচ রাজ্যের ভোট ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল উত্তর প্রদেশের নির্বাচন। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পরে বিজেপি ২০১৭-তে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে বিপুল সাফল্য লাভ করে। গেরুয়া শিবিরের দাবি ২০২২-এও তাঁরা নির্বাচনী যুদ্ধে জয়ী হবেন। এবং ৩৫ বছর পর কোনও মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পরপর দুবারের জন্য ক্ষমতায় আসবেন। তবে শুধু উত্তর প্রদেশই (uttar pradesh) নয় পঞ্জাব (punjab), উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand), গোয়া(Goa), মনিপুরের (Manipur) নির্বাচন নিয়েও বিজেপি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

উত্তর প্রদেশ
দেশের সব থেকে বড় রাজ্য এবং বিধানসভার আসন সংখ্যাও সব থেকে বেশি। গত মাসে করা এবিপি এবং সি-ভোটারের সমীক্ষা বলা হয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-ই ফের ক্ষমতায় আসবে এবং খুব সহজেই তারা এই রাজ্যে জয় পাবে। তবে তার আগে বিজেপিকে বেশ কিছু সমস্থার মোকাবিলা করতে হবে। এই মুহূর্তে যে সমস্যা বড় হয়ে দেখা গিয়েছে তা হল লখিমপুর খেরিতে রবিবারে হিংসা। যে মমলা চলে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলায় ঘরে বাইরে চাপের মুখে যোগী সরকার। কৃষক আন্দোলন ছাড়াও রয়েছে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া। যোগী আদিত্যনাথ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল হয়েছে দাবি করলেও, বিরোধীদের দাবি কিন্তু পুরোপুরি বিপরীত। রয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্বও।
উত্তর প্রদেশ জয়ে বিজেপি ইতিমধ্যেই স্ট্র্যাটেজি নিতে শুরু করেছে। গত কয়েকমাসে জাতি ভিত্তিক বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করেছে তারা। সম্প্রতি জিতিন প্রসাদকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করতেই জিতিন প্রসাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা উত্র প্রদেশে ব্রাহ্মণ ভোট প্রায় ১৩ শতাংশের মতো। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আইন পাশ করিয়ে ওবিসি সনাক্তকরণের কাজ ফের রাজ্যগুলির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপও উত্তর প্রদেশের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওবিসিদের আকৃষ্ট করতে সামনেও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য বিজেপি।
পাশাপাশি রাজ্যের পশ্চিমাংশে কৃষকদের ক্ষোভফ কমাতে আখের ক্রয়মূল্য বাড়ানো হয়েছে।

পঞ্জাব
যে পাঁচ রাজ্যে ২০২২-এর শুরুর দিকে ভোট হতে চলেছে, তার মধ্যে একমাত্র পঞ্জাবেই ক্ষমতায় নেই তারা। কৃষিবিল নিয়ে বিরোধের জেরে বিজেপির দীর্ঘদিনের সঙ্গী শিরোমনি অকালি দল এনডিএ ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ওই রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেস অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত। অমরিন্দর সিংকে সরিয়ে সেখানে কংগ্রেসের তরফে নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অমরিন্দর সিং দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন দল তৈরি করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে ইঙ্গিত করেছেন। ধরে নেওয়া যা, অমরিন্দর সিং-এর নতুন দলের সঙ্গে বিজেপি জোট করবে। পঞ্জাবে কংগ্রেস এবং আপ যেমন আলাদা করে লড়াই করছে, অন্যদিকে শিরোমনি অকালি দল এবং বিএসপি জোট গড়ে লড়াই করছে।
পঞ্জাবে বিজেপির টার্গেটে দলিতরা ছাড়াও রয়েছেন ওবিসি এবং শহুরে হিন্দুরা। তবে সেখানে শহুরে হিন্দুদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব আগে থেকেই রয়েছে। বিজেপির তরফ থেকে ৪৫ টি আসন ইতিমধ্যেই বাছাই করা হয়ে গিয়েছে। সেখানে ৬০ শতাংশের বেশি হিন্দু ভোটার রয়েছেন। এইর মধ্যে ২৩ টি আসনে বিজেপি শিরোমনি অকালিদলের সঙ্গে জোট করে লড়াই করে আসছে। গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতকে ইনচার্জ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, মীনাক্ষী লেখির মতো নেতানেত্রীদের হাতে দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে।

উত্তরাখণ্ড
বর্তমানে এই রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। সেখানেই ২০২২-এর শুরুতে নির্বাচন হতে চলেছে। তবে একবছরের মধ্যে এই পাহাড়ি রাজ্যে দুজন মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছেন। কংগ্রেসের তরফে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও সেখানে বিজেপিকে সমস্যায় রেখেছে। ২০১৭-র নির্বাচনে বিজেপি উত্তরাখণ্ডে ৭০ টি আসনের মধ্যে ৫৭ টি আসন দখল করেছিল। ওই নির্বাচনে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ৪৭ শতাংশের মতো। তবে ২০২২-এর নির্বাচনে বিজেপির কংগ্রেস ছাড়াও আপের সঙ্গেও লড়াই করতে হবে, এমনটাই বলছে রাজনৈতিক মহল। ২০০২ সালে প্রথম নির্বাচন হওয়া থেকে প্রত্যেক নির্বাচনেই সেখানে সরকার পরিবর্তন হয়। যদিও এবিপি-সি-ভোটারের সমীক্ষায় প্রাথমিকভাবে সেখানে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের নির্বাচনে বিজেপির মুখ হলেন মোদী। সম্প্রতি সেখানে বুথ পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে দলের প্রধান জেপি নাড্ডা দাবি করেছিলেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকার থাকায় রাজ্যে প্রভূত উন্নতি হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের নির্বাচনে বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং আরপি সিংকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গোয়া
৪০ আসনের বিধানসভা বিশিষ্ট গোয়ায় নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২২-এর ফেব্রুয়ারিতে। বর্তমানে এই রাজ্যে শাসক হল বিজেপি। কংগ্রেস রয়েছে বিরোধী শিবিরে। ২০১৭-র নির্বাচনে ১৭ টি আসন পেয়েই কংগ্রেস সেখানে সরকার গড়তে ব্যর্থ হয়। তবে এর মধ্যে সেখানে তৃণমূল শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনো ফেলেইরো তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। গত ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকায় সেখানে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রয়েছে।
বিজেপির তরফে ইতিমধ্যেই গোয়ার নির্বাচনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের হাতে। কেননা তিনি পড়শি রাজ্যের এবং গোয়ার রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত। আগেও তাঁকে গোয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে সাহায্য করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি এবং সুরাতের সাংসদকে রাখা হয়েছে।

মনিপুর
মনিপুরের সাধার মানুষ ২০২২-এ ৬০ আসন বিশিষ্ট বিধানসভার সদস্যদের নির্বাচনে সামিল হবে। ২০১৭-র নির্বাচনে বিজেপি ৬০ টির মধ্যে ২১ টি আসনে জয়লাভ করেছিল। পরে আঞ্চলিক দলগুলির সহযোগিতায় সরকার গঠন করে। এর মধ্যে রয়েছে নাগা পিপলস ফ্রন্ট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে কনরাজ সাংমার এনপিপি, সবকটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক।
বিজেপির তরফে ইতিমধ্যেই পরিবেশমন্ত্রী ভূপিন্দার যাদবকে এই রাজ্যের দায়িত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতী সভাপতি জেপি নাড্ডা মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং-এর সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications