যোগী রাজ্যের 'নীতি'তেই বাজিমাত মেঘালয়, নাগাল্যান্ডে
ভোটের আগে নাগাল্যান্ডের খ্রিস্টান সংগঠনগুলি বিজেপি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তা সত্ত্বেও নাগাল্যান্ড-সহ উত্তর-পূর্বে ভাল ফল করল বিজেপি।
ভোটের আগে নাগাল্যান্ডের খ্রিস্টান সংগঠনগুলি বিজেপি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তা সত্ত্বেও নাগাল্যান্ড-সহ উত্তর-পূর্বে ভাল ফল করল বিজেপি। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টিকে সঙ্গে করে সেখানে পরবর্তী সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি।

নাগাল্যান্ডে ৬০ টি আসনের মধ্যে ২০ টি তাদের প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপি। যার মধ্যে ১২ টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। ২০০৩ থেকে ওই রাজ্যে এটাই বিজেপির সব থেকে ভাল ফল। ২০০৩ সালে ৭ টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। ২০০৮-এ যা কমে দাঁড়ায় ২ টিতে। ২০১৩ সালে নাগাল্যান্ডে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল মাত্র এক।
নাগাল্যান্ডের ব্যাপটিস্ট চার্চের তরফে গতমাসের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, দেশে হিন্দুত্বের জোরদার প্রচার চলছে। আরএসএস-এর রাজনৈতিক শাখা বিজেপির তরফেই তা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কি কখনও প্রশ্ন করা হয়েছে। যদি না করে থাকেন, তাহলে বোকা হবেন না। বিবৃতি জারি করেছিলেন নাগাল্যান্ডের ব্যাপটিস্ট চার্চের সাধারণ সম্পাদক জেলহাউ কেহো। প্রায় ১৫০০ ব্যাপটিস্ট চার্চকে নিয়ে তৈরি এই সংগঠনটি। সেখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ খ্রিস্টান সম্প্রদায় ভুক্ত।
শনিবার ভোটের ফল বেরনোর পর দেখা গিয়েছে নাগাল্যান্ডে বিজেপির ভোটের হার ২০১৩-তে ১.৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৮-তে হয়েছে ১৪.৪ শতাংশ। নাগাল্যান্ডের ব্যাপটিস্ট চার্চের সাধারণ সম্পাদক জেলহাউ কেহো স্বীকার করে নিয়েছেন, তাদের সংগঠনের বক্তব্যকে অবজ্ঞা করেছেন ভোটাররা।
উন্নয়নের দাবি নিয়েই বিজেপির খ্রিস্টান প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে বলে জানিয়েছেন নাগাল্যান্ডের ব্যাপটিস্ট চার্চের সাধারণ সম্পাদক জেলহাউ কেহো।
অপর খ্রিস্টান প্রধান রাজ্য মেঘালয়েও ভোট বেড়েছে বিজেপির। ২০১৩-তে ১.২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৮-তে হয়েছে ৯.৬ শতাংশ। তবে আসন সংখ্যার বিচারে এই রাজ্যে বিজেপির সাফল্য খুবই কম। ৪৭ টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জয়লাভ মাত্র দুটি আসনে। ভোটের আগে ধর্মস্থান উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের ৭০ কোটির প্যাকেজ খারিজ করে দিয়েছিল দুটি বড় খ্রিস্টান সংগঠন।
দুটি আসন পেয়ে নিজেদের সাফল্য না আসলেও, কেন্দ্রে বিজেপির সহযোগী এনপিপিকে সঙ্গী করেই মেঘালয়ে পরবর্তী সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি।
একটি বড় খ্রিস্টান সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, চার্চকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। তবে নতুন সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্ম সংস্থানে জোর দেবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তাঁরা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন বিজেপির বিরোধিতা করলেও, উন্নয়নের স্বপ্নে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন মুসলিমরা। ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে এবার বিধানসভা ভোটে, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামে।












Click it and Unblock the Notifications